একদিন রায়হান এক পিআর এজেন্সিতে ইন্টারভিউ দিচ্ছিল। একপর্যায়ে সে বলল,
—বস, আপনি জানেন কি না জানি না, এই দুনিয়ায় এমন কোনো বিখ্যাত মানুষ নেই, যাকে আমি চিনি না। আপনি শুধু একজনের নাম বলেন, আর দেখেন সে আমার কত কাছের লোক!
বস বললেন,
—বুঝলাম আপনার কথা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে চেনো?
রায়হান বলল,
—আরে বস! কোনো ব্যাপারই না। রোনালদো আর আমি তো বন্ধু! বিশ্বাস হচ্ছে না? চলেন আমার সঙ্গে।
যেই কথা সেই কাজ! রায়হান আর তার বস প্লেন ধরে সোজা চলে গেল পর্তুগাল। রোনালদোর বাড়ির দরজায় গিয়ে নক করতেই ভেতর থেকে স্বয়ং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বেরিয়ে এলেন। রায়হানকে দেখেই তিনি জড়িয়ে ধরে বললেন,
—আরে রায়হান ভাই! কী খবর তোমার? কত দিন পর দেখা! এসো এসো, ভেতরে এসে চা খেয়ে যাও!
বস তো দেখে পুরো অবাক! তবে তাঁর খটকা পুরোপুরি কাটল না। পর্তুগাল থেকে ফেরার পথে তিনি রায়হানকে বললেন,
—উমম, রোনালদোর ব্যাপারটা স্রেফ একটা ফ্লুক হতে পারে। ভাগ্যের জোরে মিলে গেছে।
রায়হান বলল,
—ধুর বস, আপনিও যে কী বলেন! আচ্ছা, অন্য যেকোনো একজনের নাম বলেন।
বস একটু ভেবে নিয়ে চট করে বললেন,
—মাইক টাইসন! বক্সিং লিজেন্ড আয়রন মাইক টাইসন। চলেন নিউইয়র্ক যাই।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর টাইসন দূর থেকে রায়হানকে দেখেই হাত ইশারা করে ডাকলেন। কাছে যেতেই বললেন,
—আরে রায়হান, কী সারপ্রাইজ! আমি মাত্রই জিমের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তুমি আর তোমার বন্ধু যখন এসেই পড়েছ, চলো ভেতরে গিয়ে আড্ডা দেওয়া যাক!
বসের হাত-পা এবার সত্যিই কাঁপতে শুরু করেছে। কিন্তু মনের ভেতরের সন্দেহবাতিকটা তাও পুরোপুরি মরল না। টাইসনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি রায়হানের কাছে আবার সন্দেহ প্রকাশ করলেন।
রায়হান বিরক্ত হয়ে বলল,
—বস, এবার শেষবারের মতো এমন একজনের নাম বলেন, যার ওপরে আর কেউ নেই!
বস বললেন,
—পোপ। ভ্যাটিকানের পোপকে চেনো?
রায়হান হেসে বলল,
—নিশ্চয়ই! পোপের সঙ্গে আমার বহু বছরের খাতির। চলেন রোম যাই।
রোমে পৌঁছে রায়হান আর তার বস যখন ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের লাখো মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন রায়হান বলল,
—বস, এই লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে তো পোপের চোখে পড়া যাবে না। এক কাজ করি, এখানকার গার্ডদের সবাইকে আমি চিনি। আমি একটু ভেতরে গিয়ে সরাসরি পোপের সঙ্গে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াচ্ছি। আপনি এখান থেকে দেখেন।
এই বলে সে ভিড় ঠেলে ভ্যাটিকানের ভেতরে ঢুকে গেল।
আধঘণ্টা পর সত্যিই দেখা গেল, পোপের সঙ্গে রায়হানও সেই বিখ্যাত ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়েছে এবং নিচে থাকা লাখো জনতার দিকে হাত নাড়ছে!
কিছুক্ষণ পর রায়হান যখন নিচে বসের কাছে ফিরে এল, তখন দেখে এলাহী কাণ্ড! তার বস হার্ট অ্যাটাক করে মাটিতে পড়ে আছেন এবং প্যারামেডিকসের দল তাঁকে ঘিরে ধরে ফার্স্ট এইড দিচ্ছে।
রায়হান কোনোমতে ভিড় ঠেলে বসের পাশে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে জিজ্ঞেস করল,
—হায় খোদা বস! কী হয়েছে আপনার? হঠাৎ এই অবস্থা কেন?
বস তখন চোখ পিটপিট করে রায়হানের দিকে তাকালেন। তারপর অত্যন্ত দুর্বল ও ভাঙা গলায় বললেন,
—আমি আর সহ্য করতে পারলাম না রে রায়হান... যখন তুই আর পোপ ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালি, তখন আমার পাশে দাঁড়ানো এক ইতালীয় লোক আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
ঐ মিয়া, ওই ব্যালকনিতে রায়হানের পাশে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে ওটা কোন লোক?



পাঠকের মন্তব্য