নির্বাচনে জেতার জন্য ঘুমার মাঝেও একটানা পড়েছি: উদ্ভাসের ভাইয়াকে তারেক রহমান

পঠিত ... ৯ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে

২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিএনপি চেয়ারম্যান ও হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখোমুখি হয়েছিলেন দেশের জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'উদ্ভাস'-এর প্রতিনিধি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এই প্রথম কোনো সাংবাদিক বা প্রতিনিধিকে তিনি দীর্ঘ সময় দিলেন। এই সম্পূর্ণ কাল্পনিক সাক্ষাতকারটি eআরকির পক্ষ থেকে নিয়েছেন ইশতিয়াক আহমেদ শোভন

 

বিশেষ সাক্ষাৎকার: ২১২ আসনের সমীকরণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: উদ্ভাস প্রতিনিধি

 

উদ্ভাসের ভাইয়া: অভয় দিলে একটি প্রশ্ন করতে চাই স্যার, এই যে বিপুল বিজয়....

তারেক রহমান: (স্মিত হেসে হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে) প্রথমেই একটি সংশোধন। আমাকে ‘স্যার’ ডাকবেন না, আমি আপনাদের ‘ভাইয়া’ হতে চাই। আর আমি আপনাদের অভয় দিলাম, মন খুলে প্রশ্ন করুন। মুক্ত সংবাদমাধ্যম আর স্বাধীন মতপ্রকাশই তো আমাদের লড়াইয়ের মূল ভিত্তি। তবে এই সুবিধা কেবল প্রথম টার্মের জন্য,পরের টার্মে আর অভয় দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারব না!

 

উদ্ভাসের ভাইয়া: ধন্যবাদ ভাইয়া। চারদিকে একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, নির্বাচনে নাকি আপনারা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেছেন। আমরা তো উদ্ভাসে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করাই। আমাদের ইচ্ছা ছিল আপনার এই ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ কোর্সটি আমাদের সিলেবাসে চালু করার। এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

তারেক রহমান: (গম্ভীর ও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে) দেখুন, আমি কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা ছাড়াই এবারের নির্বাচনী মেরিট লিস্টে প্রথম হয়েছি। এ দেশের মানুষের ভোট আর ভালোবাসার কোনো টেকনিক্যাল শর্টকাট হয় না। আসলে আপনারা আজকালকার পোলাপাইন তো ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া কিছুই বোঝেন না! সবকিছুর মধ্যেই ইঞ্জিনিয়ারিং খোঁজেন। অথচ রাজনীতি হলো মানুষের পালস বোঝার আর্ট। এ দেশের মানুষ যখন স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন কোনো মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি; স্রেফ ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের মূল ফর্মুলা।

 

উদ্ভাসের ভাইয়া: আমাদের ছাত্ররা দিনরাত পড়েও মেরিট লিস্টে চান্স পায় না। আর আপনি ১৭ বছর দেশে না থেকেও সরাসরি নির্বাচনী মেধা তালিকায় ১ নম্বর! এই ' রণকৌশলটি যদি আমাদের ছাত্রদের শেখাতেন। মানে, ঠিক কত জিবি ওয়াইফাই আর কয়টা নোটবুক থাকলে এমন মেরিট পাওয়া সম্ভব?

তারেক রহমান: দেখুন, নির্বাচনে মেরিট লিস্টে টপ করতে হলে আপনাকে আগে  শৈল্পিক মিথ্যাচারে গোল্ড মেডেল পেতে হবে। আমার রণকৌশল খুব স্পষ্ট। মানুষকে এমন সব রঙিন স্বপ্ন দেখাব যা আপনি নিজেও জানেন কোনোদিন পূরণ করবেন না। আপনি বরং শিক্ষার্থীদের ১০% এর অংক শেখান। ঝটপট ১০% এর হিসাব না করতে পারলে রাজনৈতিক জীবনে কোনো উন্নতি করতে পারবেন না।

 

উদ্ভাসের ভাইয়া: আপনার ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কথা বলা হয়েছে। কার্ডটা ঘষলে কি চাল-ডাল বের হবে, নাকি সরাসরি আপনার লন্ডনের অ্যাকাউন্টে ১০% কমিশন চলে যাবে?

তারেক রহমান: ওটা স্রেফ কার্ড না, ওটা একটা ‘সাবস্ক্রিপশন’। কার্ডটা পাঞ্চ করলেই পয়েন্ট জমা হবে আমার নোটবুকে। সাধারণ মানুষ যখন মাছ কিনবে, সেই মাছের কাঁটাগুলো জেবুর জন্য ‘ভ্যাট’ হিসেবে কেটে রাখা হবে।

 

উদ্ভাসের ভাইয়া: ভাইয়া, জামায়াতে ইসলামীর সেই বিশাল অনলাইন বট বাহিনীর কথা তো সবার জানা। তাদের ডিজিটাল দাপট আর আইটি সেলের প্রোপাগান্ডার সাথে আপনারা পেরে উঠলেন কীভাবে? এর পেছনে কোনো বিশেষ স্ট্র্যাটেজি ছিল কি?

তারেক রহমান: দেখুন, ওদের মূল কাজই ছিল অনলাইন ‘বট’ নিয়ে দেশ দখল করা। ডিজিটাল স্ক্রিনে তারা নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ভেবেছিল। আর আমি লন্ডনে বসে ১৭ বছর ধরে পরিকল্পনা করেছি কীভাবে এই বটকে ‘কট’ করতে হয়। তবে, আপনি বট বাহিনী নিয়ে টেনশন করবেন না। আমরাও আমাদের মিটিংয়ে ‘বট আইডি’ নিয়ে বিশাল মাস্টারপ্ল্যান করছি। বিশেষ করে লুৎফুজ্জামান বাবরের ছবি লাগানো বট আইডিগুলোকে আমাদের সভায় ‘ভিআইপি’ মর্যাদা দেওয়া হবে। দরকার হলে তাদের জন্য আলাদা সার্ভার আর আনলিমিটেড পকেট মানির ব্যবস্থা থাকবে।

 

উদ্ভাসের ভাইয়া: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খবর উড়ছে যে, আপনার প্রিয় বিড়াল ‘জেবু’-কে নাকি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি কি আসলেই সত্য?

তারেক রহমান: আমি একটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাই জামায়াতে ইসলামীর কাছে যেমন এ দেশের নারীর অধিকার নিরাপদ, ঠিক তেমনি আমার বিড়াল জেবুর কাছেও বাংলাদেশের মাছেরা নিরাপদ থাকবে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই যেখানে প্রতিটি প্রাণ, প্রতিটি সম্পদ তার যোগ্য মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে। আমার বিড়াল জেবু কেবল একটি পোষ্য নয়, দীর্ঘ নির্বাসনে সে আমার ধৈর্য ও সংগ্রামের সাক্ষী। দেশের সম্পদের সুরক্ষায় তার আদর্শিক অবস্থান আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

 

উদ্ভাসের ভাইয়া: অসাধারণ ভাইয়া। আপনার এই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ স্লোগানটি এখন তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশ নিয়ে আপনার শেষ কথা কী?

তারেক রহমান: আমার প্ল্যান খুব স্পষ্ট। কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্যের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। যেখানে জেনারেশন জি-র মেধা আর আমাদের অভিজ্ঞতা মিলেমিশে এক হবে। ধন্যবাদ।

পঠিত ... ৯ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top