ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নির্বাচনী কাজে সহযোগিতার জন্য ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন।
বিএনসিসি অত্যন্ত সুশৃংখল একটি তরুণগোষ্ঠী। কিন্তু ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী নির্বাচনের মতো 'নিজ স্বার্থের নির্বাচন' করতে গেলে; জেনেক্স আর মিলেনিয়াল সমন্বয়ে গঠিত পুলিশ-প্রশাসন-সেনাবাহিনী নিয়ে নির্বাচনী কাজ সম্পন্ন করতে হবে। জুলাই বিপ্লবে জেন জি ও অল্প বয়েসী মিলেনিয়ালরা মিলে পুরোনো জমিদারি ব্যবস্থার তেলতেলে পৃথিবীতে শিরিষ কাগজ ঘষে দিয়েছে। তরুণ প্রজন্ম অর্ধশতকের বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছে। তাই তাদেরকে ভয় পুরোনো বন্দোবস্তের ঘোড়েল জুয়াড়িদের।
বাংলাদেশের ইতিহাস হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের তরুণদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে প্রৌঢ় ও বৃদ্ধদের নতুন বুর্জোয়া সমাজ গড়া; নব্বুই-এর গণ অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিরোধী লড়াই-এর ছাত্রদের লাশের সিঁড়ি বেয়ে দ্বিদলীয় জমিদারি বন্দোবস্ত তৈরি। সুতরাং জুলাই বিপ্লবের তরুণ ছাত্র-জনতা, শিশু-কিশোরের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে আবার জাঢ্য জরদগব লালসার লালামাখা লোলচর্ম বৃদ্ধ ও মাঝবয়েসী বুলবুলি আখড়াই চাই নির্বাচন নামের প্রহসনের মাঝ দিয়ে।
বৃটিশ সাহেবের পিয়ন, চাপরাশি, অর্ডারলি, দারোগা, সেপাই থেকে রাতারাতি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদার হয়ে স্বঘোষিত অভিজাত সাজার যে ট্র্যাডিশন; সেটা স্বাধীন বাংলাদেশে ছাপড়া থেকে দালানে ওঠার, পান্তা থাকে পাস্তা খাওয়ার, গরুর গাড়ি থেকে প্রাডোতে ওঠার, ফইন্নি থেকে এলিট হবার একমাত্র পথ। দাস থেকে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রভু হয়ে ওঠার এই যে লালবাতি ব্যবস্থা; সেখানে পিম্পদের যে খলবলানি; তা আর কিছু নয়; দেশের সম্পদ লুন্ঠন করে, চাঁদাবাজি, দখল, হত্যা, ধর্ষণ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম।
রাজনীতিক-সামরিক বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ-ব্যবসায়ী-মিডিয়া আর সংস্কৃতি এলাকা জুড়ে অনার্য থেকে রাতারাতি আর্য সাজার যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা; সেখানে নিজের মুরোদে চিরস্থায়ী জমিদারি পাওয়ার যোগ্যতা নাই বলে; ভারতের হিন্দুত্ববাদী শক্তির পদলেহন করে; ইসলামোফোবিয়ার পালে হাওয়া দিয়ে তবে জাতে উঠতে হয় দেশীয় কোলাবরেটরদের। খোকন, আরাফাত, পলক, নওফেল, মনির, হারুন, বেনজির, আজিজ; এসবই কাঠ মিস্ত্রি, টাঙ্গাওয়ালা, বন্দরের খালাশি, ভিক্ষুক, আমব্রেলা ইঞ্জিনিয়ার থেকে দিল্লির দাসত্ব করে; নতুন জমিদার সাজার আলকাপ নৃত্য। সজনে চচ্চড়ি আর অর্ধেক ডিম খেয়ে বিরাট মোদি প্রগতিশীল হয়ে ওঠার মহাকাব্য আমাদের মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবিতার জগত।
দাদা গ্রামের হাটে বসে চাইল-ডাইল, আলু, পেয়াজ, মাছ মেপে বিক্রি করায়; পিএইচ ডি ফেলো নাতির সমাজের লোককে মাপামাপির নেশা হয়। এ কারণেই ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ছাপড়িগুলো দালানে উঠে লোকজনকে যত্রতত্র মাপামাপি করে 'বিএনপি ও জামায়াত' বলে রায় দিয়ে দিতো। দীর্ঘকাল লীগের মাপামাপির ভিক্টিম বিএনপির ছাপড়িদের ভীষণ শখ হয়েছে, হাসু বু তোমার গেরুয়া প্রগতিশীলতাকে একটু প্রগতিশীলতা বলে ডাকি! তাই ইদানিং তারা যত্রতত্র মাপামাপি করে লোকজনকে 'জামায়াত' তকমা দিয়ে বেড়ায়। আর জামায়াতের ছাপড়িরা হোলিয়ার দ্যান দাও হয়ে আরব মুসলমানের চেয়ে বড় মুসলমান হয়ে লোকজনের ইমান-আকিদা মাপামাপি করে ইতস্তত, শাতিম, নাস্তিক তকমা দিয়ে বেড়ায়।
রাজনীতি জনসেবার পেশা। কিন্তু লীগ-বিএনপি-জামায়াতের সাইবার ফুটসোলজারদের চোটপাট দেখলে মনে হয়; দেশটা ওদের বাপের তালুক। ভূমিহীন লোকেরা পার্টির পয়সায় এক টুকরো জমির মালিক হয়ে কিংবা কারো বাড়ি দখল করে বিরাট দেশের মালিক হয়ে পড়েছে। ভুখা-নাঙ্গা পরিবারের চোর-ডাকাত ছেলেরা পার্টির ক্ষমতা দেখিয়ে বিরাট বাহুবলী হয়ে ঘুরতে চেষ্টা করে।
এই মাস্তানিতন্ত্রই হচ্ছে; পুরোনো বন্দোবস্তের লেঠেল লেলিয়ে দিয়ে ভীতি সঞ্চারের রাজনীতি। এই অপ- রাজনীতি হচ্ছে দিল্লির হিন্দুত্ববাদী কূটনীতির প্যালা দিয়ে; ঘুষ ও দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত সিভিল-মিলিটারি বুরোক্র্যাসির সাহায্যে রিগিং-এর মাধ্যমে ভোটে জিতে সংসদে দেশ নিয়ে জুয়া খেলার আয়োজন।
এই পুনরাবৃত্তিকর ক্ষমতা দখল, লুন্ঠন ও নিপীড়নের রাজনীতির অবসান না ঘটালে; বাংলাদেশের গণমানুষের মুক্তি কখনো ঘটবে না। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জমিদারের প্রজা হয়ে জীবন্মৃত জীবনের ইতি ঘটবে না। জুলাই বিপ্লবে যে ফ্যাসিস্ট মুক্তির ও জনগণের জন্য নতুন বন্দোবস্তের আকাংক্ষা প্রতিভাত হয়েছে; সেই আকাংক্ষা হত্যা করে নতুন ফ্যাসিস্ট তৈরির পা পূজায় লেগে পড়েছে বুদ্ধিজীবী-মিডিয়া, প্রশাসন-পুলিশ-সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার দিল্লিঘন অংশটি। ২০২৪-এর ৫ অগাস্টের আগে নষ্টতন্ত্রের যে বুলবুলি আখড়াই চলছিলো; আবার সেখানে ফিরে যাবার আকুতি ও রণহুংকার শোনা যাচ্ছে ভণ্ড শাসক-শোষক-পরিতোষ-স্থূল সৌন্দর্য ধারক ক্ষমতা দাসদের কন্ঠে ।
মাত্র ৩৬ দিনে কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা যায় না; হয়তো এর সূচনা করা যায়; জুলাই বিপ্লব আজো ক্রিয়াশীল দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাঝে; যারা সৎ জীবন যাপনের জন্য উদয়াস্ত পরিশ্রম করে; এই ব্যর্থ ও অকল্যাণরাষ্ট্রের কাছে তাদের খুব বেশি চাওয়া নেই; ভিক্ষা চাইনা তোর ক্ষুধার্ত কুকুর সামলা।


পাঠকের মন্তব্য