কাতারের আকাশে ঝকঝকে রোদ

২৯৬ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে

শ্রীনিবাসন ও জামাতের আমির মুখোমুখি বসে আছেন। শ্রীনিবাসন পা তুলে বসেছেন। তার চোখগুলো বুদ্ধিদীপ্ত, মুখের ভাষা ক্ষুরধার। একের পর এক প্রশ্নবাণে সামনের মানুষটিকে জর্জরিত করায় তার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু ভদ্রলোকের কস্মিনকালেও জানা ছিল না, তার সামনে যিনি বসে আছেন, তিনি দেখতে বিউটিফুল এবং সহজ সরল হলেও ভেতরে ভেতরে একটা দোধারী তলোয়ার।

শ্রীনিবাসন গাল চুলকে জিজ্ঞেস করলেন, দলে আপনার জায়গাটা কখনো কোনো নারী নিতে পারবে?

আমির মৃদু হেসে সংক্ষেপে বললেন, না।

শ্রীনিবাসন হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। এমন সরাসরি উত্তর তিনি আশা করেননি। তার গা দিয়ে চিকন ঘাম বের হলো। হুট করে তিনি আবিষ্কার করলেন, তার সামনে দু'হাত জড়ো করে চুপচাপ যিনি বসে আছেন, স্বল্প ও মিষ্টভাষী লোকটি আসলে শতরঞ্জের ঘোড়া। দুই লাফ সোজা দিলেও পরের লাফটার ঠিক-ঠিকানা নেই।

শ্রীনিবাসন ঢকঢক করে পানি খেলেন। কিছু পানি তার গাল গড়িয়ে বুকের উপর পড়ল। তিনি সেটা দুহাতে সাফ করার চেষ্টাও করলেন না। বরং অপেক্ষা করলেন তারপর আমির কী বলেন।

আমির একটু হেসে বললেন, প্রতিটা সৃষ্টির নিজস্ব কিছু ব্যাপার আছে। আমরা কখনো বাচ্চা জন্ম দিতে পারব না, বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারব না। যা কিছু উপর থেকেই ঠিক করা, আমরা তার বিরোধিতা করতে পারি না।

যে প্রশ্ন করে সামনের ব্যক্তিকে ধরাশায়ী করার কথা, ওই প্রশ্নেরই ধারাল উত্তরের মুহুর্মুহু আঘাতে শ্রীনিবাসনের পেট মোচড় দিয়ে উঠল। তিনি পরবর্তী প্রশ্নে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। কপালের ঘাম মুছে অস্ফুট স্বরে বিড়বিড়ও করলেন কী যেন। আমির তার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসলেন। ওই হাসিতে বিভ্রান্ত শ্রীনিবাসনের চোখে ভেসে উঠল নীলুর মুখ। বাচ্চাকাচ্চা নীলুর পছন্দ। কিন্তু তার কেন জানি মনে হলো, নীলু কখনও  বাবা হতে পারবে না..

 

২৯৬ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top