রাতের আঁধারে নয়, দিনেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করায় আমাদের ভোট প্রদানের একটা গুরুদায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছে। নির্বাচনের আগের সেই টানটান উত্তেজনার দিবাগত রাত আজ। মনে রাখবেন আপনার কাটানো হাজার হাজার রাতের মতই এই রাতটাও আপনাকে কাটাতেই হবে, নইলে আগামীকালের সকাল পাবেন না।
আজ রাতে কী কী করা যেতে পারে শর্টলিস্ট করেছেন? না করলে ফাইভ মিনিটস ক্রাফ্টের মত দু মিনিটে জেনে নিন কী কী করা যেতে পারে….
১. ঘুমোবেন না। আজ রাতে চেষ্টা করবেন না ঘুমোতে। ঘুমোলে কিছুই করতে পারবেন না। আর কিছু করতে চাইলে অবশ্যই ঘুমানো যাবে না।
২. স্মৃতিচারণ করুন গত কয়েকদিনের প্রচার-প্রচারণার দিনগুলোর। এমন দিনের দেখা আর আগামী ৫ বছরের আগে হয়তো মিলবে না। পুরোনো রিল গুলো দেখুন, আবেগাপ্লুত হোন, প্রয়োজনে জল ফেলুন: রান্নাঘরের নয়, চোখের।
৩. আগামীকাল কী কী পোশাক পড়বেন আজই আলাদা করে ধুয়ে, ইস্ত্রি করে রাখুন। যাদের স্ত্রী নেই তারাও ইস্ত্রি করুন। আর যাদের ইস্ত্রি ও নেই তারা বালিশের নিচে রেখে দিন কাপড়, দেখবেন টানটান হয়ে গেছে।
৪. মেয়েরা হাতে মেহেদী পরতে পারেন।
৫. বৃদ্ধাঙ্গুলে কালি পড়ানোর জন্য যখন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হাতটা চাইবে, কায়দা করে মোচড় দিয়ে ডিজাইনটা দেখিয়ে দেবেন। নিজের কেরামতির ছোট্ট একটা মার্কেটিং ও করে ফেলতে পারেন।
৬. আপনার চোখের বিশেষ যত্ন নিন। আপনি যে পোশাকই পরিধান করেন না কেন চোখ দৃশ্যমান থাকবেই। চোখে কী কী মেইকআপ লাগাবেন আজ রাতেই গুছিয়ে রাখুন। বেশি সময় যাদের লাগে তারা রাতেও আই মেইকআপ সেরে রাখতে পারেন। যারা ঐ বিশেষ দিনের জন্য শুধু চোখ খোলা রেখে যাবেন (যদি) তারাও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন।
৭. একটা বিশাল অংশ এবার প্রথমবার ভোটে অংশ নিচ্ছেন। বেশিরভাগই জানেন না কিভাবে কী করতে হবে। অন্য কোনো রিলস না দেখে আজ রাতে রিলেভ্যান্ট টিউটোরিয়াল, রিলসগুলো দেখে ফেলুন।
৮. ভোটকেন্দ্রে থাকবে প্রচুর সাংবাদিক। কখন কোন দিক থেকে কে এসে ক্যামেরা তাক করে প্রশ্ন করবে ঠিক নেই। এজন্য পূর্বপ্রস্তুতিরও বিকল্প নেই। ‘এটাই কি প্রথম?’, ‘কেমন লাগছে?’, ‘পরিবেশ কেমন?’,’কেমন প্রার্থী চান?’ ধেয়ে আসতে পারে এমন প্রশ্ন। গতানুগতিক উত্তরের বাইরে আজ রাতেই কিছু ডায়ালগ মুখস্থ করে যান। প্রয়োজনে চ্যাট জিপিটির সাহায্য নিন।
৯. সবার তো হল, নিজের ব্যাপারেও তো কিছু ভাবতে হবে। আপনি যদি ডিজিটাল ক্রিয়েটর হয়ে থাকেন, আপনার মধ্যে যদি সুপ্ত হয়ে ঘুমিয়ে থাকে আগামীর মিস্টার বিস্ট তবে আজ আপনার অনেক কাজ। ভোট নিয়ে টানটান উত্তেজনার কিছু রিলস বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবেন। রাত থেকেই আপনাকে শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে সারারাত লাইভেও থাকতে পারেন।
১০. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকতে পারেন আপনিও। একটা মাদুর, বিছানার চাদর, লেপ, কম্বল, মশারী, বালিশ, ম্যাট্রেস, চায়ের ফ্লাক্স, বিস্কুট, কয়েল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আরাম করে ঘুমিয়ে কড়া পাহারা দিতে পিছপা হবেন না, মনে রাখবেন ইচ্ছা শক্তিটাই আসল।


