ফেব্রুয়ারির বাতাস বইতে শুরু করলেই বাঙালির মনে দুইটা জিনিস চড়চড় করে বাড়ে।এক হলো প্রেম, আর দুই হলো উত্তেজনা। ২০২৬ সালের ভ্যালেন্টাইন উইকটা আবার একটু বিশেষ। কারণ, একদিকে গোলাপের সুগন্ধ, অন্যদিকে ১২ তারিখের নির্বাচনের ডামাডোল। প্রেম আর ভোট দুই জায়গাতেই কিন্তু 'মার্কা' আর 'প্রতিশ্রুতি'র বিশাল কারবার!
চলুন দেখি, এবারের ভোট-ভ্যালেন্টাইন সংমিশ্রণে আমাদের পবিত্র সপ্তাহের রূপরেখা:
৭ ফেব্রুয়ারি: রোজ ডে (গোলাপ বনাম গাদা ফুল)
শনিবার দিয়ে শুরু। গোলাপের যা দাম, মনে হচ্ছে একেকটা পাপড়ি স্টক মার্কেটের শেয়ার। প্রেমিক যখন লাল গোলাপ কিনে পকেট ফাঁকা করছে, তখন হবু প্রার্থীরা কিন্তু ঠিকই কর্মীদের হাতে 'গাদা ফুল' দিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন। একজনের কাছে গোলাপ মানে 'ভালোবাসা', আর নেতার কাছে ওটা স্রেফ 'শুভেচ্ছা'। প্রেমিক ভয় পাচ্ছে রিজেকশন, আর নেতা ভয় পাচ্ছেন ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত হওয়া।
৮ ফেব্রুয়ারি: প্রপোজ ডে (অফিস জ্যামে হাঁটু গেঁড়ে বসা)
রবিবার অফিস খোলার দিন। তাই প্রেমিক বাসের হাতল ধরে ঝুলে ঝুলে যখন ঘামছেন, তখন প্রেমিকাকে মেসেজ দিচ্ছেন "আমি তোমাকে হৃদয়ের সিংহাসনে বসাতে চাই।" ওদিকে প্রেমিকা তখন জ্যামে বসে ভাবছে:সিংহাসন তো দূরের কথা, বাসে বসার একটা সিট পেলে জীবন সার্থক হতো! ওদিকে প্রার্থীরাও ভোটারদের 'প্রপোজ' করছে "আমায় একবার ভোট দিন, এলাকায় নহর বইয়ে দেব।" প্রপোজাল যেটাই হোক, কমন ডায়লগ হলো: কথা দিচ্ছি, আমি আগের মতো না!
৯ ফেব্রুয়ারি: চকলেট ডে (মিষ্টি মুখ বনাম তেতো মেজাজ)
সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কাজের দিন। বস যখন পেন্ডিং কাজের জন্য ঝাড়ি দিচ্ছেন, তখন চকলেট ডে উদযাপন করা বড়ই কঠিন। প্রেমিক যখন পকেট থেকে একটা ক্যাডবেরি বের করল, বস ভাবলেন তাকে ঘুস দেওয়া হচ্ছে! ওদিকে নির্বাচনের বাজারে চকলেটের আর দাম নেই, কর্মীরা এখন বিরিয়ানির প্যাকেট আর গরম চা ছাড়া নড়ছে না। ডার্ক চকলেটের তেতো স্বাদ এখন কেবল সিঙ্গেলদের মনে।
১০ ফেব্রুয়ারি: টেডি ডে (কিউট হওয়ার মহড়া)
মঙ্গলবার সবাই কাজের চাপে ভাল্লুকের মতো মুখ ভার করে থাকে। প্রেমিক তার প্রেমিকাকে একটা বিশাল লাল টেডি গিফট করল, কিন্তু প্রেমিকা সেটা লোকাল বাসে বাড়িতে নিতে গিয়ে অর্ধেক তুলা খুইয়ে ফেলল। আর আমাদের নির্বাচনী প্রার্থীরা? তারা তখন টেডির মতোই কোমল হওয়ার ভান করছেন...ভোটারদের দেখলে এমন কিউট হাসি দিচ্ছেন যে মনে হচ্ছে ওনাদের চেয়ে নিষ্পাপ প্রাণী দুনিয়ায় আর নেই। অথচ ভোটের পরেই এই 'টেডি'রা যে কী দুর্ধর্ষ 'পোলার বিয়ার' হবে, তা সবাই জানে!
১১ ফেব্রুয়ারি: প্রমিজ ডে (প্রতিশ্রুতির লড়াই)
বুধবার হলো প্রতিজ্ঞা করার দিন। প্রেমিক বলছেন, "সারাজীবন পাশে থাকব।" ওদিকে প্রার্থীরা বলছেন, "রাস্তাঘাট সব ঠিক করে দেব, এলাকায় কোনো জ্যাম থাকবে না!" প্রমিজ ডে-তে প্রেমিকের চেয়ে প্রার্থীর জোশ বেশি। তফাৎ একটাই:প্রেমিকের প্রমিজ ভাঙে ঝগড়ায়, আর প্রার্থীর প্রমিজ ভাঙে নির্বাচনের পরের দিন সকালে।
১২ ফেব্রুয়ারি: হাগ ডে (নির্বাচনের কোলাকুলি)
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১২ তারিখ হলো আসল দিন। একদিকে হাগ ডে, অন্যদিকে নির্বাচনের হাওয়া। প্রেমিকরা ভাবছে কোথায় একটু নির্জনে বসে আলিঙ্গন করবে, অন্যদিকে প্রার্থীরা ভাবছে কার গলা জড়িয়ে ধরলে একটা ভোট কনফার্ম হবে। প্রেমের আলিঙ্গন যেখানে হৃদয়ে প্রশান্তি দেয়, নির্বাচনের আলিঙ্গন সেখানে পিঠে একটা চাপ দিয়ে মনে করিয়ে দেয়:"মনে রাইখেন কিন্তু, মার্কাটা কী!" ভোটাররা এখন প্রার্থীদের জড়িয়ে ধরে কাঁদবে নাকি হাসবে, সেটা এক বড় রহস্য।
১৩ ফেব্রুয়ারি: কিস ডে (চুম্বকীয় প্রচারণা)
শুক্রবার জুম্মার পর থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে জটলা। প্রেমিকরা কিস ডে উদযাপনে হার্শিস কিস বা লিপস্টিক-নোট নিয়ে ব্যস্ত। আর ওদিকে প্রার্থীরা তখন শেষ মুহূর্তের চুম্বকীয় প্রচারণায় কারও কথায় মধু ঝরছে, কেউবা ভোটারদের পা ছুঁয়ে সালাম করে আক্ষরিক অর্থেই 'মাটি'র কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন। চুমু হোক আর পা ছুঁয়ে সালাম উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই, মন জয় করা!
১৪ ফেব্রুয়ারি: ভ্যালেন্টাইন ডে (ফলাফলের দিন)
অবশেষে শনিবার! ভ্যালেন্টাইন ডে’র মহেন্দ্রক্ষণ। যারা সারা সপ্তাহ টিকে থাকল, তারা রেস্টুরেন্টে ডিনার করবে। আর নির্বাচনের ফলাফল যদি ঘোষণা হতে থাকে, তবে পরিস্থিতি হবে দেখার মতো। প্রেমিক যখন গোলাপ দিচ্ছে, টিভির স্ক্রলে তখন হয়তো দেখাচ্ছে "অমুক কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই!" প্রেমের জয় আর ভোটের জয়, দুটোই সেদিন ছাপ্পান্ন ইঞ্চি বুক ফুলিয়ে উদযাপন করা হবে।
শেষ কথা:২০২৬-এর এই সপ্তাহে আপনি প্রেমিক হোন বা ভোটার সাবধানে থাকবেন। কারণ, ভুল মানুষকে 'প্রপোজ' করলে/ভোট দিলে আগামী ৫ বছর (বা আজীবন) আপনাকে আফসোস করতে হতে পারে!


