ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭১-এ জামায়াত ইসলামীর ধর্ষণ ক্যাম্প

৩৩২৮ পঠিত ... ১৬:২৭, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
6 (4)
লেখা: আরিফ রহমান, গবেষক 
 
ডাকসুকে বেশ্যাখানা বললেন জামায়াত নেতা শামীম আহসান।
 
আমরা জানি, বেশ্যাখানা মানে হলো পতিতালয় বা যৌনকর্মীদের বাসস্থান, যেখানে পুরুষেরা টাকার বিনিময়ে যায়। এবারে এখানে যেই বেশ্যারা থাকেন তারা সবাই ইচ্ছে করে এখানে থাকেন বিষয়টা এমন না।
 
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের সেখানে ধরে আনা হয়, ধর্ষণ ও নিপীড়ন করা হয় এবং পৌনঃপনিক নিপীড়ন করার জন্য তাদের আটকে রেখে গড়ে তলা হয় বেশ্যালয়।
ডাকসু বেশ্যাখানা না হলেই ডাকসু ভবনের মাত্র তিনশ মিটার এলাকার ভেতরেই একটা ধর্ষণ ক্যাম্প বানানো হয়েছিলো ১৯৭১ সালে। জায়গাটার নাম রোকেয়া হল। আর ধর্ষণের জন্য সেখানে মেয়েদের ধরে নিয়ে আসতো জামায়াতে ইসলামের নেতারা।
 
মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র সহ বহু ঐতিহাসিক গ্রন্থ সাক্ষ্য দেবে, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কারা সত্যিকারের 'নির্যাতন কেন্দ্র' আর 'ধর্ষণ ক্যাম্প' বানিয়েছিলো?
 
১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলকে পরিণত করেছিলো বধ্যভূমি আর নারী নির্যাতনের আখড়ায়।
তৎকালীন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড (Archer K. Blood)-এর পাঠানো গোপন টেলিগ্রাম The Blood Telegram-এ উঠে এসেছে, রোকেয়া হলের ছাদের ফ্যান থেকে মেয়েদের নগ্ন লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। সেখানে লেখা আছে তাদের পায়ে দড়ি বাঁধা ছিলো, শরীর ছিল ক্ষতবিক্ষত। ধর্ষণের পর মেয়েদের গুলি করে হত্যা করে লাশগুলো ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলো। বছরজুড়ে কাজটা করেছিলো জামায়াত ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মিলেমিশে।
 
২৫ মার্চের কালরাতে রোকেয়া হলে আগুন ধরিয়ে দেয় হানাদার বাহিনী। প্রাণভয়ে মেয়েরা যখন ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলো, তখন তাদের ওপর মেশিনগান চালিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। সেদিন প্রায় ৪০ জন নিরপরাধ ছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছিলো।
 
রোকেয়া হলের পাশেই পাওয়া গিয়েছিলো গণকবর, যেখানে ছাত্রীদের লাশ পুঁতে রাখা হয়েছিলো। লাশের স্তূপ আর পচা গন্ধে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছিলো।
১৯৭১ সালে যেই সংগঠনটি রাজাকার-আলবদর বাহিনী গঠন করে এই পৈশাচিকতায় ইন্ধন জুগিয়েছিল, যারা আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দিতো, আজ তাদের উত্তরসূরিরা কি-না ডাকসুকে 'বেশ্যাখানা' বলে?
 
একাত্তরে জামায়াত আর তাদের পাকিস্তানি দোসররাই এই পবিত্র অঙ্গনটিকে রক্ত আর ধর্ষণের বিভীষিকায় ডুবিয়েছিল। আজ আবার তারাই আমাদের মা-বোনদের বেশ্যা সাব্যস্ত করতে মাঠে নেমেছে।
৩৩২৮ পঠিত ... ১৬:২৭, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top