ঈদ আসতে খুব বেশি দিন বাকি নেই। আপনার বয়স ১৪–২৫ হোক, ৩০ হোক বা ৪০ হোক, ছেলে বা মেয়ে যাই হন না কেন, ঈদে অন্যদের কাছ থেকে সালামী, পাঞ্জাবি কিংবা শাড়ি-গহনা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। প্রিয় মানুষরা তো আছেই, তবে অপ্রিয়দেরও বাদ দিলে চলবে না। কারণ ঈদের মৌসুমে সম্পর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কার কাছ থেকে কীভাবে কী আদায় করা যায়। তাই প্রিয় হোন কিংবা অপ্রিয়, টার্গেটে রাখতে হবে সবাইকেই। আর এই মিশনে সফল হতে হলে আপনাকে জানতে হবে কিছু পরীক্ষিত নিনজা টেকনিক।
১. সেহরির আগে কিংবা ইফতারের পর সবাইকে কল করে খোঁজ নিন
হাতে যে কয়দিন সময় আছে সেটাকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে চাইলে আজ থেকেই ফোনের চার্জ ফুল রেখে ইন্টারনেট ও সিমের ব্যালেন্স পর্যাপ্ত রাখুন, আর শুরু করুন ফোনকল। সবার খোঁজখবর নিন—বিশেষ করে তাদের, যাদের কাছে এক্সপেক্টেশনটা একটু বেশি।
দুই দিন পরপর কল দিয়ে খুশি গল্প করুন সবার সাথে। এতে চাঁদ রাতে সালামি চাওয়ার গ্রাউন্ড তৈরি হবে এবং সালামি পেতেও কোনো বেগ পাবেন না।
২. ফেসবুকে একটিভ হতে শুরু করুন
রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে আপনাকে ফেসবুকে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এই এক মাসে যাদের সাথে কমেন্টে যুদ্ধ ছিল, আগে সেটাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। কমেন্টের ভাষা হবে মোলায়েম, প্রশংসাসূচক—যেমন নববধুর ঘোমটা তুলে প্রথমবার মুখ দেখে প্রশংসা করছেন।
ফ্রেন্ডলিস্টের সবাইকেই টার্গেট করতে হবে, তবে মেইন টার্গেটে রাখুন যারা পশ রেস্টুরেন্টে সেহরি ও ইফতার করে। কমেন্টে যদি মন গলানো যায়, তাহলে চাঁদ রাতে বিকাশের ব্যালেন্সও ফুলে উঠতে পারে।
৩. পাড়া-মহল্লায় সালামি গ্রহণ বিষয়ক কমিটি তৈরি করুন
একা একা সালামি সংগ্রহ করতে গেলে অনেক সময় দেখা যায় সালামি পাওয়া যায় না, কিংবা পেলেও সেটা খুব কম। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি পাড়ায় একটা করে সালামি ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করতে পারেন। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাইকে নিয়ে এমনভাবে কমিটি তৈরি করতে হবে যেন কোনো ব্যক্তিই এই কমিটির মেম্বারদের সালামি ছাড়া ফিরতে না পারে।
বয়স, সম্পর্ক ভেদে ভিন্ন ধরনের মানুষের কাছ থেকে সালামি নেওয়ার পর ভাগাভাগি করার সময় ঈদের দিন মারামারি করলে কর্তৃপক্ষের দায় নেবে না।
৪. সালামি বিনিময় মুভমেন্ট শুরু করুন
আপনার হয়তো ইচ্ছানুযায়ী পাঞ্জাবি দরকার, আপনার বান্ধবীর আড়ং-এর শাড়ি। বর্তমানে এই সময়ে কিছু পাইতে গেলে কিছু দিতে হয়। এখন বিনিময় প্রথায় গিফট না দিতে পারলে দেখবেন স্টোরিতে দেয়ার মতো তেমন কিছুই পাবেন না। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সমঝোতায় আসা যায় কিনা দেখুন। আবার এই সমঝোতাই হতে পারে ভবিষ্যতে বড় বানিজ্যিক সম্ভাবনার।
৫. দুই-তিনজনকে পারলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করুন
পরিচিত দুই-তিনজনকে ঈদের আগে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে কিছু নিতে পারলে এটা মন্দ হবে না। গত দশ বছর ধরে ঈদে কেউ আপনার খোঁজ নেয়নি, ঈদ মোবারক জানায়নি, নামাজ শেষে কোলাকুলি হয়নি—এগুলো ফেসবুকে পোস্ট দিতে পারেন। চাইলে পার্সোনালি নক দিয়ে জানাতে পারেন। এরকম টোপ হয়ত সবাই মেনে নেবে না, তবে যদি একজনও মেনে নেয়, তাহলে ধরা খাওয়ার আগ পর্যন্ত আশেপাশের যেকারো চেয়ে ভালো গিফট আপনি পাবেন।
৬. সিনিয়র ভাই-বোনদের সাথে দেখা করার সময় অমায়িক হাসি দিন
ঈদের আগে কয়েকদিন সিনিয়র ভাই-আপুদের সাথে দেখা হলে অমায়িক হাসি দেয়ার প্র্যাকটিস করুন। এমন হাসি, যার কোনো অর্থ নেই কিন্তু ভালো লাগে। যে হাসিতে আপন আপন ভাব আছে, কাছে টানে, যার কথা ভেবে রাত কাটানো যায়। সিনিয়রদের মনের রাস্তায় ঢোকার জন্য হাসি ব্যবহার করুন, আর বের হবার সময় সালামি গিফট নিতে ভুলবেন না।
৭. পরিবারের কারো বাচ্চা সামলানোর দায়িত্ব নিন
ঈদের আগে পরিবারের কারো বাচ্চা সামালানোর দায়িত্ব নিন। বাচ্চার মা হাপ ছেড়ে বাঁচবে, আপনি বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে পারবেন। এই বাচ্চাই হয়ে উঠবে আপনার সালামি টোপ। বাচ্চার সব সালামি আপনি নিতে পারবেন। তাকে কিছু চকলেট না দিলে সে আপনার স্ক্যাম ফাঁস করে দিতে পারে। আর বাচ্চার মা থেকে বড় উপহার নিতে ভুলবেন না।
৮. সালামির জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করুন
সোজা হাতে সালামি না আসলে সালামির জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করতে দ্বিধা বোধ করবেন না। একজন মানুষ হিসেবে এসব আপনার প্রাপ্য। বয়স হয়ে গেছে বলে কেউ আপনাকে পাত্তা দিচ্ছে না? এসব মানা যাবে না। আপনার হক আপনাকে আদায় করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। দরকার হলে কিডন্যাপ করলেও ঈদে মন মরা হয়ে বসবেন না।



পাঠকের মন্তব্য