হিমু ও জ্বালানি সংকট

৫০ পঠিত ... ১৩ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে

.

খালুর ড্রয়িংরুমে বসে আছি। বাইরে তপ্ত দুপুর, যেন আকাশ থেকে কেউ ফুটন্ত তামা ঢেলে দিচ্ছে। মাজেদা খালা রুপোর গ্লাসে বরফকুচি দিয়ে এক গ্লাস লেবুর শরবত দিয়ে গেলেন। হিমশীতল গ্লাসটা কপালে ছোঁয়াতেই শরীরের ভেতরটা ঝনঝন করে উঠল।

মাজেদা খালা বিরক্ত মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হিমু, এই গরমে তুই এই ঢলঢলে হলুদ পাঞ্জাবিটা পরে ঘুরিস কীভাবে? খামচি দিয়ে গায়ের সাথে লেগে থাকে না? তোর খালুর একটা পুরনো টি-শার্ট আছে, নীল রঙের। ওটা পরে নে। পাঞ্জাবিটা ধুয়ে দিই।

আমি চুমুক দিয়ে বললাম, খালা, হলুদ রং হলো মহাজাগতিক রং। সূর্যও কিন্তু আদতে হলুদ। আমি মূলত সূর্যের একটা ক্ষুদ্র সংস্করণ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আর নীল টি-শার্ট পরলে তো আমি আকাশের অংশ হয়ে যাব। তখন লোকে আমাকে খুঁজবে কোথায়?

খালা কপালে একটা আঙুল ঠেকিয়ে বললেন, তোর মাথার এই স্ক্রু-টা কোনোদিন ঠিক হবে না। এই নে পাঁচশ টাকা। বিকেলে নিউ মার্কেট গিয়ে কয়েকটা সুতির টি-শার্ট কিনে আনবি। আর শোন, তোর খালুর সামনে আজ তেলের নাম নিবি না।

আমি অবাক হয়ে বললাম, তেল? কেন খালা? সরিষার তেল না সয়াবিন?

খালা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, পেট্রোল-অকটেন। কাল রাতে সরকার দাম বাড়িয়েছে। তোর খালু গতকাল পাঁচ ঘণ্টা পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এক ফোঁটা তেল পায়নি। ফিরে এসেছে রাত দুটায়। এখন বাঘের মতো ফুঁসছে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ভেতরের ঘর থেকে খালু বের হলেন। উনার পরনে লুঙ্গি, গায়ে একটা পাতলা গেঞ্জি। তবে মুখভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে তিনি সরাসরি কুরুক্ষেত্রের ময়দান থেকে রিটায়ার্ড করেছেন। আমাকে দেখেই তিনি হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন।

হিমু! তুমি কি জানো দেশে কী হচ্ছে? তুমি কি জানো এই যে তুমি দাঁত বের করে শরবত গিলছো, এই শরবতের লেবুর ট্রাকটা এখন ঢাকা আসবে ডবল ভাড়ায়?

আমি বিনয়ের সাথে বললাম, খালু, লেবু তো ট্রাকে আসে না, লেবু আসে খাঁচায়। আর আমি তো শরবতে ভাড়ার টাকা দিইনি, খালা দিয়েছে।

খালু সোফায় ধপাস করে বসে বললেন, যুক্তি দিও না। একদম ফালতু যুক্তি দিও না। কাল পাম্পে গিয়ে দেখি পাঁচ কিলোমিটার লাইন। পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। পাম্পের ম্যানেজার বলছে—তেল নেই। অথচ পেছনের গলি দিয়ে ড্রাম ভরে সিন্ডিকেটের লোক তেল নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নাকি সিন্ডিকেটের কাছে হার মানেনি! ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লাগে আর আমার গাড়ির ট্যাংক খালি হয়! এর কোনো লজিক আছে?

আমি গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বললাম, খালু, লজিক খুব পরিষ্কার। পৃথিবীটা তো গোল। আপনি যখন পাম্পে দাঁড়িয়ে ঘামছেন, তখন হয়তো ইরানে কোনো এক সৈনিক একটা বোতাম টিপেছে। সেই বোতামের কম্পনটা সোজা এসে আপনার পকেটের ওপর পড়েছে। বিষয়টাকে বলে বাটারফ্লাই ইফেক্ট।

খালু আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন। উনার চোখের মণি ছোট হয়ে আসছে। এটা বিপদের লক্ষণ। মহাপুরুষদের অবশ্য বিপদে ভয় পেতে নেই, কিন্তু খালু তো আর মহাপুরুষ নন, তিনি একজন সংক্ষুব্ধ রিটায়ার্ড কর্মকর্তা।

তিনি দাঁতে দাঁত চিপে বললেন, হিমু, তোমার ওই বাটারফ্লাই ইফেক্ট নিয়ে এক্ষুণি এই ঘর থেকে বিদায় হও। নইলে আমি মাজেদাকে বলব তোমার ওই হলুদ পাঞ্জাবিতে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিতে। যদিও কেরোসিনের দামও এখন লিটারে ১৩০ টাকা, পুড়াতেও মায় লাগে!

আমি পাঞ্জাবির পকেট থেকে মাজেদা খালার দেওয়া পাঁচশ টাকার নোটটা বের করে বললাম, খালু, তেলের দাম যখন বাড়ছেই, আপনি কি চান আমি পাম্পে গিয়ে আপনার হয়ে লাইনে দাঁড়াই? আমার হাতে অনেক সময়।

 

২.

খালু আমার প্রস্তাব শুনে কিছুক্ষণ স্থবির হয়ে বসে রইলেন। উনার মাথার ওপরের সিলিং ফ্যানটা ঘটাং ঘটাং শব্দ করছে, যেন সে-ও তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে ঠিকমতো ঘুরতে চাইছে না।

হঠাৎ খালুর গলার স্বর খাদে নেমে এল। তিনি অত্যন্ত রহস্যময় ভঙ্গিতে বললেন, হিমু, তুমি কি আসলেই লাইনে দাঁড়াতে পারবে? তোমার তো আবার মায়া-মমতা বেশি। কেউ যদি এসে বলে, ভাই, আমার বাচ্চার দুধ কেনার টাকা নেই, আমাকে একটু আগে যেতে দিন', তুমি তো তাকে নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়ে ফুটপাতে বসে জোছনা দেখা শুরু করবে!

আমি বিনীত ভঙ্গিতে বললাম, খালু, পাম্পে তো আর বাচ্চার দুধ বিক্রি হয় না, হয় অকটেন। আর গভীর রাতে পাম্পের কড়া গন্ধে জোছনা ঠিক জমে না। তবে আপনি চাইলে আমি একটা এক্সপেরিমেন্ট করতে পারি। হলুদ পাঞ্জাবি পরে পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা। লোকে ভাববে আমি হয়তো কোনো বিশেষ জ্বালানি দূত!

খালু এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন। আলমারি থেকে গাড়ির চাবিটা বের করে আনলেন। এই নাও চাবি। গাড়িটা নিয়ে যাও। ইশতিয়াক নামে আমার এক কলিগ বলল, ডেমরার ওদিকের একটা পাম্পে নাকি এখনো সিন্ডিকেট থাবা বসাতে পারেনি। ওখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে শর্ত একটাই—যুক্তি দেবে না। তেল নেবে, টাকা দেবে, চলে আসবে।

আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। রাত তখন এগারোটা। শহরের রাস্তাগুলো এখন আর রাস্তা নেই, যেন এক একটা বিশাল তৈলাক্ত নদী। সব নদী গিয়ে মিশেছে পেট্রোল পাম্পে।

পাম্পে পৌঁছাতেই দেখলাম এলাহি কাণ্ড! ট্রাক, প্রাইভেট কার আর বাইকের লম্বা লাইন। সবার চোখেমুখে এক ধরণের 'যুদ্ধ-যুদ্ধ' ভাব। আমি গাড়ি থেকে নেমে একটু পায়চারি করছি, এমন সময় এক লোক এগিয়ে এলেন। লোকটার পরনে ইস্ত্রি করা শার্ট, কিন্তু ঘামে ভিজে একাকার।

তিনি আমার হলুদ পাঞ্জাবি দেখে চমকে গিয়ে বললেন, ভাই, আপনি কি পাম্পের মালিকের লোক? নাকি স্পেশাল ডিউটি?

আমি গম্ভীর হয়ে বললাম, আমি মহাজাগতিক পরিদর্শক। তেলের দাম বাড়লে মানুষের আত্মার ওজন কমে কি না, সেটা মাপতে এসেছি।

লোকটা বিড়বিড় করে বললেন, আত্মার কথা জানি না ভাই, তবে পকেটের ওজন যে আজ লিটারে ১৫-২০ টাকা করে কমে গেছে, সেটা নিশ্চিত। কাল যে আলু বিশ টাকা ছিল, পরশু সেটা চল্লিশ হবে। সিন্ডিকেট আগে থেকেই গুদামে মাল ভরে বসে আছে। সরকার দাম বাড়াল বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে, আর লাভটা লুটে নিল ওই লোকগুলো।

আমি হাসলাম। 

ভাই, সিন্ডিকেট বলে আসলে কিছু নেই। এটা একটা মায়া। সবাই চায় একটু বেশি লাভ করতে। আপনিও কি চান না আপনার অফিসের বস আপনার বেতনটা একটু বাড়িয়ে দিক?

লোকটা খেপে গিয়ে কী যেন বলতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন পাম্পের ভেতর থেকে বিকট চিৎকার শোনা গেল, তেল শেষ! তেল শেষ!

মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে হাহাকার পড়ে গেল। মানুষের জটলা বাড়তে লাগল। আমি দেখলাম, দূরে একটা কালো রঙের দামি গাড়ি থেকে কয়েকজন লোক নেমে ম্যানেজারের রুমে ঢুকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য তেল শেষ, কিন্তু বিশেষ মানুষের জন্য হয়তো এখনো তেলের ঝর্ণাধারা বইছে।

আমি শান্তিতে রাস্তার ধারের একটা ল্যাম্পপোস্টের নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। পকেট থেকে মাজেদা খালার দেওয়া সেই পাঁচশ টাকাটা বের করে দেখলাম। এই টাকায় এখন চার লিটার অকটেনও হবে না। অথচ কয়েক বছর আগে এই টাকায় পুরো ঢাকা শহর তিনবার ঘুরে আসা যেত।

হঠাৎ ফোনে খালুর কল। 

হিমু! তেল পেয়েছ? খবর পেলাম ডেমরার ওদিকে নাকি পুলিশ আর ট্রাক ড্রাইভারদের মারামারি লাগছে!

আমি বললাম, খালু, মারামারি লাগছে কি না জানি না, তবে তেলের পাম্পে এখন একটা বিশাল কাব্যিক নির্জনতা বিরাজ করছে। কারণ, তেল নেই। তবে আপনি চাইলে আমি পাম্পের ম্যানেজারের জন্য একটা হলুদ পাঞ্জাবি কিনে দিতে পারি। উনাকে খুব বিষণ্ণ দেখাচ্ছে।

খালু ওপাশ থেকে চিৎকার করে ফোন কেটে দিলেন। আমি বুঝলাম, খালুর রক্তচাপ এখন জ্বালানি তেলের দামকেও ছাড়িয়ে গেছে।

৩.

পরদিন সকালে যখন খালুর বাসায় ফিরলাম, তখন ড্রয়িংরুমে এক থমথমে পরিবেশ। খালু সোফায় বসে খবরের কাগজ পড়ছেন না, বরং কাগজের ওপর দিয়ে শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। মাজেদা খালা নাস্তার টেবিলে রুটি আর ভাজি রাখছেন, কিন্তু উনার চেহারায় সেই পরিচিত মমতা নেই, সেখানেও একটা কর্কশ ছাপ।

আমি ঘরে ঢুকতেই খালু বজ্রগম্ভীর গলায় বললেন, গাড়ি কোথায়?

আমি শান্ত স্বরে বললাম, গাড়ি পাম্পের ঠিক তিনশ গজ দূরে রেখে এসেছি খালু। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকাটা ওর খুব পছন্দ হয়েছে। এক ইঞ্চিও নড়ছে না। সম্ভবত ও বুঝে গেছে, ওর ভেতরের দহন ক্ষমতা আর আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে একটা বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

খালু লাফিয়ে উঠলেন। তার মানে তুমি তেল পাওনি? সারা রাত বাইরে টো টো করে ঘুরে খালি হাতে ফিরে এলে?

আমি বললাম, খালি হাতে আসিনি খালু। এক চমৎকার দর্শন নিয়ে এসেছি। শুনুন, তেল যখন নেই, তখন মানুষের ভেতরের পশুত্ব বেরিয়ে আসে। কাল রাতে এক ভদ্রলোককে দেখলাম তার ল্যান্ডক্রুজার থেকে নেমে এক রিকশাওয়ালার সাথে ঝগড়া করছেন। কারণ রিকশাওয়ালা নাকি তার গাড়ির গায়ের ওপর তেলের গন্ধ শুঁকতে গিয়েছিল। তেলের দাম বাড়লে মানুষ কতটা হিংস্র হতে পারে, সেটা আপনি না দেখলে বুঝতেন না।

মাজেদা খালা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, হিমু, তুই তো তেল আনবি বলে টাকা নিয়ে গেলি। সেই টাকার কী করলি?

আমি পকেট থেকে দুমড়ানো-মুচড়ানো সেই পাঁচশ টাকা বের করে টেবিলের ওপর রাখলাম। বললাম, এই টাকায় চার লিটার তেল পাওয়ার কথা ছিল খালা। কিন্তু কাল যখন পাম্পের ম্যানেজার বললেন তেল শেষ, তখন আমি উনার চোখের দিকে তাকালাম। লোকটা সারাদিন সিন্ডিকেটের গালি আর পাবলিকের জুতো খেয়ে ক্লান্ত। আমি উনাকে টাকাটা দিয়ে বললাম—ভাই, আপনি এক কাপ চা খান। উনি নিলেন না। বললেন, 'ভাই, চায়ের দোকানেও চিনির সিন্ডিকেট ধরছে, লিকারের দামও চড়া। আপনি বরং এটা দিয়ে একটা রিকশা নিয়ে বাসায় যান'।

খালু মাথা ধরে বসে পড়লেন। মাজেদা, এই ছেলেটা আমাকে পাগল করে ছাড়বে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ও আমাকে দর্শন শোনাচ্ছে! হিমু, তুমি কি জানো তেলের দাম বাড়া মানে কাল থেকে বাজারে ডিমের দাম বাড়বে, বাসের ভাড়া বাড়বে, এমনকি তোমার এই হলুদ পাঞ্জাবি ইস্ত্রি করার খরচও বাড়বে?

আমি মৃদু হেসে বললাম, খালু, আমাদের জীবনটাই তো একটা বড় সিন্ডিকেট। আমরা সবাই কারো না কারো কাছে জিম্মি। কিন্তু ভেবে দেখুন, তেল নেই বলে আজ সকালে রাস্তায় শব্দ কম। মানুষ বাধ্য হয়ে হাঁটছে। হিমুদের মতো করে হাঁটছে। পুরো ঢাকা শহর আজ হিমু হয়ে গেছে খালু। কেউ তাড়াতাড়ি কোথাও পৌঁছাতে পারছে না।

খালু গজগজ করতে করতে ভেতরের ঘরে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, আজ থেকে তুমি আমার বাসায় নিষিদ্ধ। যে লোক তেলের অভাবে গাড়ি ফেলে রেখে আসে আর তেলের সংকটে কবিতা খুঁজে পায়, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

মাজেদা খালা আমার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এক প্লেট গরম রুটি এগিয়ে দিলেন। বললেন, তোর খালুর কথা ধরিস না। উনার প্রেসার বেড়েছে। তুই খেয়ে নে।

আমি রুটি চিবোতে চিবোতে ভাবলাম, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বঙ্গোপসাগরের জাহাজ আর ডেমরার পাম্পের লাইনের মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য নেই। সবকিছুর মূলে রয়েছে এক ফোঁটা তরল, যা মানুষকে কখনো রাজা বানায়, কখনো ভিখারি, আর আমার মতো কাউকে করে দেয় চিরস্থায়ী যাযাবর।

খাওয়া শেষ করে দরজার দিকে পা বাড়াতেই মাজেদা খালা বললেন, আবার আসবি কবে?

আমি বললাম, পরেরবার দাম যখন কমবে, তখন আসব খালা। ততদিনে হয়তো আমি তেলের ওপর দিয়ে হাঁটার কৌশল শিখে ফেলব।

বাইরে বেরোতেই রোদটা চোখে বিঁধল। তবে আজ রোদটাকে আর তামা মনে হলো না, মনে হলো এক বিশাল তেলের খনি—যা পুড়ছে, কিন্তু কাউকে দিচ্ছে না কিছুই। আমি আমার হলুদ পাঞ্জাবিটা একটু ঠিক করে নিয়ে ধীরপায়ে হাঁটতে শুরু করলাম।

 

৫০ পঠিত ... ১৩ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top