তখন মুঘল আমল।
সম্রাট আকবর ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করছেন।
চেহারা কিছুটা উদ্বিগ্ন, মুখে চিন্তার ছাপ। স্ত্রী রুকাইয়া এসে বললেন, কী হয়েছে আপনার? তখন থেকে উঠে হাঁটাহাঁটি করছেন!
সম্রাট বললেন, আমার কেমন যেন লাগছে! পেটের মধ্যে গুরুম গারুম শব্দ। ভালো লাগছে না।
রুকাইয়া চিন্তিত মুখে বললেন, আপনি খাজনা আদায়ের জন্য নতুন দিন-তারিখের হিসাব রাখার ব্যাপারে অতিরিক্ত খাটাখাটনি করছেন! তাই পেট এমন ডেলুলু আচরণ করছে।
আকবর মৃদু প্রতিবাদের স্বরে বললেন, গতকাল তোমার বানানো পাস্তা খেয়েছিলাম। তারপর আর কিছু খাইনি। সকাল থেকেই এই দশা!
রুকাইয়ার চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো। তার দুটো হাততালিতেই দুজন গৃহকর্মী হাজির হল। রুকাইয়া কঠিন স্বরে তাদের প্রশ্ন করলেন, গতকাল পাস্তা তোমাদের কেমন লেগেছিল?
দুজন অতি উৎসাহী হয়ে উঠলো। একজন বললো, একদম অ্যরা ফ্লেভার! আরেকজন জানালো, এটা সেরা পাস্তা fr। রুকাইয়া আবার হাততালি দিতেই তারা যে যার ঘরে চলে গেল। সম্রাট আকবরের পেট ব্যথা বাড়ছে। তিনি বললেন, ফোনটা দিয়ে এস, ‘তুমি আমি আর স্বাস্থ্য’ পেইজে কালো জিরা আর স্যালাইনের ভালোবাসা ভিডিওটা চালু করো। কাল থেকে নতুন বছর গণনা শুরু হবে আর আমার কিনা এই দশা। তাড়াতাড়ি, কুইক!
রুকাইয়া ভিডিও চালু করলেন।
কালো জিরা বলছে, ঐ কী রে? পেটের মধ্যে গুরুম গুরুম মেঘ ডাকে? তাইলে ঠান্ডা হইয়া বস আর আমার কথা শোন; পাতিলে ২০০ গ্রাম চাল চড়াইয়া দে, একদম ছটফট করবি না। ভাত ফোটার পর একে ঠান্ডা হতে দে। তারপর পানি দিয়ে ৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখ। সকালে উঠে লবণ দিয়ে খা। দেখবি একদম পেট ফকফকা।
আকবর তা-ই করলেন। নতুন বছর গণনার দিন বিঘ্ন যাতে না ঘটে তাই রাজদরবারে বসেই তিনি এই পানি দেয়া ভাত গ্রহণ করলেন। বলাই বাহুল্য পানি-ভাত খেয়ে উনি যথেষ্ট সুস্থ বোধ করলেন, পেটের সমস্যাও আস্তে আস্তে কমে গেল। রাজদরবারের সবাই ব্যাপারটা ততক্ষণে জেনে গিয়েছে যে নতুন বছর গণনার দিন রাজা পানি দিয়ে ভাত খেয়েছেন। এ এক নতুন খাবার!
সভাকবি ছড়া কাটলেন,
টনটন, ব্যথা ছিল পেটটা
ফুস করে নাই হল
খেয়ে ভাত পান্তা!
এরপর থেকে ফি বছর প্রারম্ভে অনাগত পেট ব্যথা রুখতে প্রজারা পান্তা খেতে লাগলো, এটা হয়ে উঠল পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য।



পাঠকের মন্তব্য