আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমিকদের বিগত কয়েক মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাস সম্পূর্ণ কুরবানি দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।
গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির সভাপতি অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, কুরবানি মানেই তো ত্যাগ! আমরা গরু কোরবানি দিয়ে ত্যাগ করি। এবার শ্রমিক ভাই-বোনদের ত্যাগের পালা। তারা যদি কষ্ট করে তিন-চার মাসের বকেয়া বেতনটা আল্লাহর ওয়াস্তে কুরবানি দিয়ে দেয়, তবে মালিকদের আগামী বছর আরেকটি মার্সিডিজ গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ সহজ হতো। তাছাড়া গরু কিনে কোরবানি যেহেতু তারা দিতে পারছে না, বেতন-বোনাসই হোক তাদের কোরবানি!
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি তুলে ধরে বলেন, শ্রমিকরা তো প্রতি ঈদেই বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামে। এতে রোদের মধ্যে তাদের গায়ের চামড়া পুড়ে যায়, পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হয়, কাঁদানে গ্যাসে চোখ দিয়ে জল পড়ে। শ্রমিকদের এই শারীরিক কষ্ট আমরা আর সহ্য করতে পারছি না! তাই তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বেতনও দেব না, বোনাসও দেব না। নো বেতন, নো আন্দোলন, নো কষ্ট! এর চেয়ে বড় মানবিক সিদ্ধান্ত আর কী হতে পারে? ঈদের আগে শ্রমিকরাও একটু আরামে থাকল, পুলিশও আরামে থাকল, আমরাও আরামে থাকলাম!
মালিক সমিতির এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর একাধিক পোশাক কারখানার মালিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মালিক জানান, বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা যে কান্নাকাটি করবে, ওটাকেই আমরা কোরবানির ঈদের খুশির কান্না হিসেবে ধরে নেব। তাছাড়া খালি পেটে থাকলে নাকি আধ্যাত্মিক ভাব জাগে। আমরা মূলত শ্রমিকদের আত্মিক উন্নতির কথাই ভাবছি।
এদিকে মালিকদের এই অভিনব কুরবানি তত্ত্ব শোনার পর শ্রমিকপাড়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগামী মাস থেকে কারখানার সুউচ্চ দেয়াল, দামী এসি এবং মালিকদের পাজেরো গাড়িগুলো দেখেই ক্ষুধা মেটাবেন এবং ঈদের দিন সকালে শুধু ত্যাগের মহিমা চিবিয়ে খাবেন।
প্রতিবেদনটি শেষ করার সময় খবর পাওয়া গেছে, বকেয়া বেতন কুরবানি দেওয়ার এই খুশিতে মালিক সমিতির নেতারা আজ রাতেই ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে জরুরি ব্যবসায়ী সফরে রওনা হচ্ছেন।


