ঈদ আসলেই ‘স্টেকহোম সিন্ড্রোমে’ আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক তরুণ, বিরক্ত কসাই সমাজ

পঠিত ... ১০ ঘন্টা ২ মিনিট আগে

বিগত কয়েক বছর ধরে কোরবানির ঈদ এলেই নতুন এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের অনেক তরুণ। গরুর মাংস কাটাকাটি শুরু হতেই স্টেক কাট করে দেওয়ার জন্য কসাইকে পাগল করে ফেলা তরুণদের এই রোগের নাম বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন স্টেকহোম সিন্ড্রোম। বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত কয়েক বছরে অতিরিক্ত ক্যাফে, স্টেকহাউস ও medium rare culture-এর প্রভাবে দেশের যুবসমাজ ধীরে ধীরে রেজালা-নেহারির ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে স্টেকনির্ভর জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো,  চোখের সামনে কাঁচা গরুর মাংস পড়লেই সেটি স্টেক কাট না হওয়া পর্যন্ত প্রেশার বেড়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা। রাজধানীর এক আক্রান্ত তরুণ জানান, ভাই, আগে গরুর মাংস মানেই ভুনা বুঝতাম। এখন মাংস দেখলেই মনে হয় এইটা ribeye হবে, ওইটা sirloin হবে। কসাই যদি স্টেক কাট না দেয়, সারারাত ঘুমাতে পারি না, বুকের ভেতর হাহাকার করে।

তিনি আরও বলেন, গতবার বাসায় নেহারি রান্না হইছিল। আমি মাংসের বাটির সামনে বসে ২০ মিনিট ধরে suitable steak piece খুঁজছি। শেষ পর্যন্ত পাই নাই। ওই রাতে আর ঘুমই আসে নাই।

এদিকে এই রোগে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে দেশের কসাই সমাজ। নিখিল বাংলা কসাই কল্যাণ সমিতি এক জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতিকে জাতীয় কাট সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মিরপুরের এক অভিজ্ঞ কসাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে যাইতাম, গরু ফালাইতাম, মাংস কাইটা বাসায় আইতাম। এখন পোলাপান পাশে দাঁড়ায়া বলে, ভাই, একটু aesthetic কাট দেন,ভাই, এই পিসটা ribeye vibe দিচ্ছে না। আমরা কসাই না, যেন MasterChef-এর contestant!

আরেক কসাই জানান, এক পোলা তো আমারে ইউটিউব ভিডিও দেখাইয়া বলছে, ভাই, reverse sear-friendly কাট লাগবে। আমি এখনো বুঝি নাই, এইটা গরু কাটতাছি নাকি engineering drawing করতাছি।

ঘটনার পর দেশের বয়স্ক মুরুব্বিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুরান ঢাকার এক চাচা বলেন, আমাগো সময়ে তো গোশ মানেই গোশই আছিলো। অহন তো দেহি হালায় গোশও ইংরেজি মিডিয়ামে পড়া শুরু করছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে ভুনা ও রেজালা শব্দ দুটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়ে সবকিছুই slow cooked desi steak experienc  নামে পরিচিত হতে পারে।

পঠিত ... ১০ ঘন্টা ২ মিনিট আগে

Top