মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর ক্রমবর্ধমান শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে অবশেষে ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম এবং জামায়াতে ইসলামী। এতোদিন ধরে চলা বিচ্ছিন্ন ঘটনার তকমা ঝেড়ে ফেলে তারা ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে অন্যের ঘরের বদলে নিজেদের আঙিনায় ঘটে যাওয়া অপরাধের বিরুদ্ধেও তারা সমস্বরে চিৎকার করবেন।
জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমদুল্লাহ এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, এখন থেকে কোনো মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তিনি কেবল শয়তানের ধোঁকা বা নৈতিক অবক্ষয় বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন না। বরং রামিসা হত্যার মতো তেজস্বী কণ্ঠে তিনি দাবি তুলবেন যাতে অপরাধী শিক্ষক বা জ্যেষ্ঠ ছাত্রের বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত হয়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কওমি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন মানে অপরাধীদের অভয়ারণ্য নয়। তিনি যেন বুঝিয়ে দিলেন, ফেসবুকে অন্যের পাপের ওপর ওয়াজ করার পাশাপাশি এখন থেকে নিজের প্রতিষ্ঠানের আলমারিতে জমে থাকা কঙ্কালগুলো নিয়েও তিনি লাইভ করবেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মহিলা বিভাগ রাজধানীসহ সারাদেশে বিশাল বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ব্লাসফেমি আইন বা নারীদের পোশাক নিয়ে রাজপথে নামার চেয়েও জরুরি হয়ে পড়েছে মাদ্রাসার বাথরুমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রামপুরা বা মেহেরপুরের মতো ঘটনায় কৌশলী নীরবতা পালনের পুরনো প্রথা ভেঙে তারা এখন স্লোগান দিচ্ছেন, শরিয়া আইন কি শুধু বাইরের জন্য? আমাদের মাদ্রাসায় কেন নয়?
জামায়াতের মহিলা নেত্রীরা জানিয়েছেন, তারা এখন থেকে কওমি মাদ্রাসায় CCTV স্থাপন এবং সরকারি তদারকিকে ইসলামবিরোধী চক্রান্ত না বলে বরং শিশু রক্ষার ফরজ ইবাদত হিসেবে গণ্য করবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুজুর সমাজের এই হঠাৎ জাগরণ সমাজ সংস্কারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এতদিন যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অপরাধকে উম্মাহর বদনাম হবে ভেবে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখতেন, তারা এখন থেকে অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না। এই নতুন ট্রেন্ডে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষগুলো এখন এতটাই সচেতন যে, শিহাবের মতো সিরিয়াল অপরাধীদের তারা আর অভ্যন্তরীণভাবে সামলানোর চেষ্টা করবেন না, বরং নিজ উদ্যোগে জেলখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।


