বলিউডের মিল-মোহাব্বত এর সিনেমার প্রসঙ্গ উঠলেই যেমন সবার আগে মনে পড়ে- ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’, তেমনি ছিনতাই এর প্রসঙ্গে ‘ক্ল্যাসিক’ ধারায় সবার আগে চলে আসে মোহাম্মদপুরের নাম। এখানকার ছিনতাইকারীরা পেশাটাকে একরকম শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বেশ কাঠখর পুড়িয়ে(সে প্রসঙ্গ শেষে আছে) আমাদের প্রতিনিধি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন একজন জোষ্ঠ্য(অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে) ছিনতাইকারীর।
তাদের মিটিংস্থল ছিল, আবুল মিয়ার গ্যারেজের চিপার পাশে সরু গলি।
: বাহ্, একদম সময়মতো চলে এলেন!
: আমাগো লাইনে টাইম খুব ইমপোরটেন! সেকেন্ডের এদিক-ওদিক ও করিনা, এমন পাঙ্চু…. দাঁড়ান চ্যাটজিপিটিরে জিগাই লই; পাঙচুয়াল আপনি কোথাও পাইবেননা। আপনার সময় কিন্তু ১২ মিনিট, আমার খ্যাপ আছে।
: ঠিক আছে, আপনার বেশি সময় নেব না। আচ্ছা এত কিছু থাকতে কেন এই পেশাটাই বেছে নিলেন?
: দ্যাখেন ছোড থেকেই আমি খুব কিরেটিভ(ক্রিয়েটিভ)! ছোঁ মারা, টান দেয়া, ধাক্কা মারা খুব ভালো পারতাম। কইতে পারেন, “আমি তো ছিনতাই করিনি, ছিনতাই আমার উপরে পড়েছে!”
: ছিনতাই করে কী পান?
: আশ্চর্য! কী পাইনা তাই কন; টেকা, মুবাইল, কয়েন, প্রেমপত্র, পরীক্ষার প্রশ্ন, ছবি। তয় সবসময় ভালো জিনিস পাইনা। মাঝে মাঝে ছেঁড়া মানিব্যাগ, ময়লা টেকা, কয়েন এসবও পাই। দুনিয়া আধুনিক হইলেও এরা এখনো সেই মান্ধাতা আমলে পড়ে আছে। কোথায় ব্যাগে থাকবে ডেবিট, ক্রেডিট, ফ্যামিলি কার্ড, সেখানে আমার কপালে জুটে ব্যালেন্স ছাড়া মেট্রোর কার্ড।
: আপনার পিক আওয়ার কখন?
: আমার পিক আওয়ার সন্ধ্যার পর। কারণ কোন ভদ্রঘরের মানুষ সন্ধ্যার পর বাইর হয় না! দিন-দুনিয়া থেইকা সব ভদ্রতা উইঠা যাইতেছে। সন্ধ্যা হইলেই দেখবেন গুঁড়াগাড়া থেকে বুড়া, সব বাইরে ঘুরতেছে। এই অভদ্র ঘরের ছলপলগোরে শাস্তি দিতে ও পেশার সম্মান রাখতে আমারও বাইর হওয়া লাগে, নইলে সন্ধ্যার পর আমিও ঘরেই থাকতাম।
: আপনার আসল চ্যালেঞ্জ কী?
: আমি ‘চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা’ নীতিতে বিশ্বাসী। তারপর ও সব পেশার মত এইখানেও চ্যালেঞ্জ আছে। সেইটা হল ঠিকঠাক খ্যাপ ধরা। একবার পেটের উপর চাক্কু ধইরা একজনরে কইছি, সব বাইর কর। অয় উল্টা পিস্তল ধইরা আমার সব নিয়া গেসে।
: এই যে এসব করেন, আপনার খারাপ লাগেনা?
: খারাপ তো মাঝে মাঝে লাগে। আমগো ধান্দায় গ্রেফতার-জামিন মোটামুটি নোবেল ভাইর লেভেলের ডাইলভাত। কিন্তু লক-আপের মধ্যে অনেক মশা। একটু মশারির ব্যবস্থা আর বিকেলে চা-বিড়ি না পাইলে খারাপ ই লাগে।
: আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কি?
: আপনারা শিক্ষিত মানুষরা সমতা সমতা করেন, কিন্তু বাস্তবে সমতা নাই। ছিনতাইকারী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ লজ্জাজনক। আমার স্বপ্ন কোন এক নারী ছিনতাইকারীর সাথে বিবাহ করবো। মোহাম্মদপুরে ১৭ টার মত বড় চক্র থাকলে আমাদের যৌথ টিম হবে ১৮ নম্বর।
থামেন, সময় শেষ আপনার। খ্যাপের টাইম হইয়া গেছে। আপনার ফোন আর মানিব্যাগ টা কি চাওয়া লাগবে নাকি নিজেই দিবেন? আপনাকে তো ভদ্র মানুষ ভাবছিলাম। এহ! এই যুগেও কেউ বাটন ফোন চালায়?
দেন ঐটাই, বাসায় বুয়ার ভাতিজাকে দেব।



পাঠকের মন্তব্য