ফ্লোরিডার নীল জলরাশি আর মশা মারার আধুনিক স্প্রে দেখার স্বপ্ন মাঝপথেই ভেঙে যাওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) অন্দরমহলে এখন শোকের মাতম। মশা নিধনের আধুনিক পদ্ধতি শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সরকারি প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের বিষণ্ণতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে চসিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তাদের কামরা থেকে ভেসে আসছে বিষণ্ণ সব গান। একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, মেয়রের খাস কামরায় লুপে বাজছে ইমরান হাশমির সিনেমার বিরহের গান। এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ফ্লোরিডার মশা আর চাটগাঁর মশা কি এক? তাদের কামড়ে যে আভিজাত্য আছে, তা কি আমাদের ডোবার মশায় পাওয়া যায়? আমরা তো শুধু আধুনিক পদ্ধতি শিখতে যাচ্ছিলাম না, আমরা যাচ্ছিলাম মশার সাথে বৈশ্বিক সম্প্রীতি গড়তে।
তারেক রহমানের ডোবার পাশে বসে মশা মারার পদ্ধতি উদ্ভাবনের পরামর্শটিকে কর্তাব্যক্তিরা নিষ্ঠুর রসিকতা হিসেবে দেখছেন। এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডলার সংকটের কথা বলে আমাদের বিনোদন... থুক্কু, মশা নিধন প্রশিক্ষণ বন্ধ করা হলো। এখন কি আমাদের সন্ধ্যার পর মশারির ভেতর বসে না থেকে মশার কামড় খেয়ে পিএইচডি করতে হবে?
এদিকে মেয়রের সফরের ফাইল বাতিলের খবরে নেটিজেনরা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। অনেকে মেয়রের জন্য কয়েল ও হাতপাখা উপহার পাঠানোর ইভেন্ট খুলছেন। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছেন, ফ্লোরিডা না হোক, অন্তত কাপ্তাই হ্রদে গিয়ে মশা গোনা যেতে পারে, খরচ কম হবে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ফ্লোরিডা যাওয়ার সুটকেসগুলো এখন স্টোর রুমে রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা এখন গুগলে সার্চ করছেন, কিভাবে ডোবার পাশে বসে মশার কামড় না খেয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা করা যায়।


