শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির রক্ত ভেজা জমিনে যখন একের পর এক হাদি ব্যবসায়ীদের ছড়াছড়ি, তখন এই রমরমা বাজারে এবার আন্তর্জাতিকভাবে নাম লেখালেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। গতকাল কলকাতার ধর্মতলায় এক রাজনৈতিক ধর্ণা মঞ্চ থেকে সরাসরি হাদি-ব্যবসায় আনুষ্ঠানিক যোগদানের ঘোষণা দেন তিনি। এত দিন বাংলাদেশে ফেসবুকের ভিউ, ইউটিউবের ক্লিক, দেয়ালের গ্রাফিতি আর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ভুলভাল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যে ব্যবসা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল, দিদির একক এন্ট্রিতে তা রাতারাতি বহুজাতিক কর্পোরেশনে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গতকালকের সভায় মমতা ব্যানার্জি তাঁর স্বভাবসুলভ হাত নেড়ে দাবি করেন, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে হাদি হত্যার আসল খুনিরা যখন পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল, তখন তাঁর তৈরি করা এসটিএফ তাদের খপ করে ধরে ফেলে। কিন্তু ঠিক তখনই নাকি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিদিকে ফোন করে কান্নাকাটি মেশানো কণ্ঠে চাপ দেন, যেন এই ব্যবসায়িক গোপনীয়তা ফাঁস না করা হয়। দিদি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছেন সব জানি! আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে! তবে বাংলাদেশ উত্তাল হলে দিদির কী লাভ বা ক্ষতি, কিংবা বাংলাদেশে উত্তাল হওয়ার মতো আর কী বাকি আছে, সে বিষয়ে অবশ্য তিনি রহস্যময় ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দিদির হাতে যখন কোনো জুতসই রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না, তখনই তিনি বাজারের সবচেয়ে লাভজনক হাদি প্রোডাক্ট-এর দিকে নজর দেন। হাদির নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে যেখানে শুধু লাইক-শেয়ার আর বড়জোর একটা সংসদীয় আসনের স্বপ্ন দেখা যাচ্ছিল, সেখানে মমতা ব্যানার্জি সরাসরি অমিত শাহ এবং মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ব্যবসার পরিধি এক ধাক্কায় আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে গেছেন। অনেকে একে হাদি ব্যবসার গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন বলে অভিহিত করছেন।
তবে দিদির এই বিবেক জাগ্রত হওয়ার টাইমিং নিয়ে ব্যাপক হাসাহাসি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, হাদি যখন গত ডিসেম্বরে খুন হলেন, যখন এই ইস্যু নিয়ে কথা বলা সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল এবং যখন সত্য উন্মোচনের প্রকৃত সময় ছিল, তখন দিদি মুখে কুলুপ এঁটে বসেছিলেন। এত দিন খুনিদের কথা চেপে রেখে, নিজের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক স্বার্থে চরম টান পড়ার পর হঠাৎ করে এই গোপন তথ্য হাটে হাঁড়ি ভাঙার মতো ফাঁস করাটাই প্রমাণ করে, দিদি আসলে কোনো ন্যায়বিচারের তাড়না থেকে নয়, বরং নিজের গা বাঁচাতে এবং মোদী সরকারকে ব্যাকফুটে ফেলতেই এই তাস খেলেছেন। সোজা কথায়, স্বার্থে টান না পড়লে দিদির মুখে হাদির নাম আসত না।’
এদিকে দিদির এই আকস্মিক এন্ট্রিতে বাংলাদেশে থাকা লোকাল হাদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র হাহাকার ও নাখোশ ভাব দেখা গেছে। ইনকিলাব মঞ্চের একটি গোপন সূত্র (যারা দিনে অন্তত তিনবার আলটিমেটাম দেয়) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, আমরা এত দিন এত মার খেলাম, যমুনার সামনে পুলিশের লাঠি খেলাম, আর দিদি এসে এক বক্তব্যেই সব ভিউ আর লাইমলাইট নিয়ে গেলেন? এটা মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থী। অন্যদিকে, তথ্য বিকৃতির অভিযোগে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল জাবের হয়তো ভাবছেন, তিনি নিজে যেখানে ৫৫ শতাংশ মায়ের বুকের দুধ না খাওয়ানোর মতো বৈপ্লবিক তথ্য দিয়েও বাজার ধরে রাখতে পারলেন না, সেখানে দিদি স্রেফ একটা কাল্পনিক ফোনকলের গল্প দিয়ে পুরো বাজারটাই সিন্ডিকেট করে নিলেন!
তবে ঢাকার সচেতন মহল এই পুরো বিষয়টিকে দেখছে বেশ আমুদে চোখে। তাঁদের মতে, বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে যেমন হাদি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই, ঠিক তেমনি পশ্চিমবঙ্গেও দিদির রাজনৈতিক পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবসার শাখা-প্রশাখা বাড়তেই থাকবে। তবে সাধারণ মানুষ আশা করছেন, হাদির নামে খোলা ওয়েবসাইট hadiarchive.com-এ যেন এবার একটি বিশেষ সেকশন চালু করা হয়, যার নাম হবে, দিদির এক্সক্লুসিভ কালেকশন।


