লুটিয়েন্স জুড়ে আজ একটু স্বস্তির ভাব। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বলি দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টিকে কিছুটা শান্ত করা গেছে। ফলে হাসিনাজিকে তেল আভিভে স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়ছে না। অগ্নিবীণা সিক্রি সেই খুশির খবর নিয়ে এসেছেন। কিন্তু হাসিনাজি ঘুমিয়ে। অটোম্যাটিক নিউরোপ্যাথির কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই অজ্ঞান হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
ড. মুখার্জি অগ্নিবীণা সিক্রিকে বলেন, শুধু উনি নন; তাঁর সমর্থকদের মধ্যেও একই উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ইন্ডিয়া, দুবাই, লন্ডন, ঢাকা—সব জায়গা থেকেই তাঁর ভক্তদের এভাবে অজ্ঞান হয়ে ঘুমিয়ে পড়ার খবর আসছে।
ড্রইংরুমের ডিভানে অজ্ঞান হয়ে ঘুমিয়ে থাকা নওফেল ও হাতেমকে দেখিয়ে ড. মুখার্জি বলেন, ওই দেখুন, অটোম্যাটিক নিউরোপ্যাথির রোগী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাসিনারি ডিসেম্বর থ্রম্বসিস। রোগী কল্পনায় নিজেকে ঢাকা বিমানবন্দরে নামতে দেখেন। লাখো জনতা ফুল দিয়ে বরণ করে। এরপর রোগী 'জিতবে এবার নৌকা' বলে কাঁপতে কাঁপতে খিঁচুনি দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর আবার অটোম্যাটিক নিউরোপ্যাথিতে ঘুমিয়ে থাকে।
অগ্নিবীণা সিক্রি বিস্ফারিত চোখে বলেন, তাহলে তো মনে হচ্ছে মোদিজিরও এই রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। উনি কল্পনায় নিজেকে তেল আভিভের আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে দেখতে পান। তারপর 'হায় অখণ্ড ভারত' বলে অজ্ঞান হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
উত্তেজিতভাবে ময়ূখরঞ্জন ঘোষ এসে বলেন, ককরোচদের হামলায় শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধান নন; আমরা মোদিজির মিডিয়া সেবকেরাও আক্রান্ত। আমি পালিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লিতে এসে পড়েছি। এই ছাত্র আন্দোলনের পর আমাদের পক্ষে পাবলিক স্পেসে চলাচল নিরাপদ রইল না।
পেছনে দাঁড়ানো ভূতুম লাহিড়ী পরামর্শ দেয়, ঢাকার মিডিয়ায় 'মব' বা 'দঙ্গল' শব্দটি যারা প্রচলন করেছে, তাদের দিয়ে কিছু কলাম লেখাতে হবে এই সাংবাদিক নিগ্রহের বিরুদ্ধে। মোদি মিডিয়ার সাংবাদিকদের মানবাধিকার নিয়ে লেখার যোগ্য বেশ কিছু ডক্টোরাল ফেলো ও প্রগতিশীল কলামিস্ট দৈনিক হিরোশিমার প্যানেলে রয়েছে।
বিজিত দোভাল জ্বলন্ত সিগার মুখে নিয়ে আসেন। হাসিনাজির অ্যাটেনডেন্ট রোদেলা সিংকে বলেন, যাও, উনাকে জাগাও।
অগ্নিবীণা সিক্রি ও বিজিত দোভাল প্রবেশ করেন হাসিনাজির কক্ষে। উনি ঘুম থেকে উঠে সোফায় বসে টিভি দেখছেন।
অগ্নিবীণা সিক্রি বলেন, হার এক্সেলেন্সি, গুড নিউজ; আপনাকে আর কষ্ট করে তেল আভিভে যেতে হবে না। এডুকেশন মিনিস্টারকে স্যাক্রিফাইস করে মোদিজির গদি বাঁচানো গেছে।
হাসিনা গম্ভীর গলায় বলেন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন আর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘরে ফেরার পর আমিও বেশ নিশ্চিন্তে ছিলাম গদি নিয়ে। কিন্তু একবার যারা রাজপথ দখলে নেয়, তারা ফিরে ফিরে আসে। যেভাবে ওরা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফিরেছিল।
বিজিত দোভালের কপালে চিন্তার ভাঁজ লক্ষ করা যায়। তিনি বলেন, আপনি ঠিকই বলেছেন, ম্যাডাম। যারা বলছে পাকিস্তানের আলু আর বাংলাদেশের আটার তৈরি সমোসা খাচ্ছি, তারা তো সরকারি ষড়যন্ত্রসূত্রের যন্ত্র খুলে নিয়েছে; বিজেপির বয়ানের দফারফা ফিশরোল করেছে। বিহারে তো জলকামানের জলে দাঁড়িয়ে নেচেছে ওরা। দিল্লিতে তরুণী যখন প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ায়—'বিবি নেহি হ্যায় তো দেশ কি মারোগে কিয়া!' কিছু মনে করবেন না, ম্যাডাম; তথ্য হিসেবে বাক্যটা বলতে হলো।
হাসিনা বলেন, আপনাদের দুর্বলতা হচ্ছে, কালচারাল উইং নেই আপনাদের। হাদির সেই 'শাউয়া মাউয়া ছিঁড়ে ফেলা' স্ল্যাং নিয়ে দিস্তার পর দিস্তা কলাম লিখেছে ঢাকার কালচারাল উইং। এ কেমন কথা বলুন তো, মি. দোভাল! আপনারা বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান কালচারাল মজদুর তৈরি করেছেন; আর ইন্ডিয়াতেই সেরকম কালচারাল উইং তৈরি করা যায়নি!
বিজিত দোভাল ম্লানমুখে বলেন, আমরা প্রতিবেশীর ভিটেয় ঘুঘু চরাতে বোধ হয় বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। ফলে নিজের ঘরটা সামলাতে পারিনি।
বীণা সিক্রি বলেন, আর আপনার মতো আয়রন লেডি তো আমাদের নেই। আপনি লেথাল উইপন ব্যবহারের অর্ডার দিয়েছিলেন; আর এখানে তো লাঠিচার্জ আর প্যালেট ব্যবহার করেই পুঁতিয়ে গেল পুলিশ। তা-ও ভাগ্যিস আপনার ছাত্রলীগ আর যুবলীগের ছেলেরা ছিল বলে, নেমপ্লেট ছাড়া উর্দি পরে কিছুটা বিক্ষোভ দমন করেছে।
বিজিত দোভাল বলেন, ওদের হিন্দি ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করাতে হবে। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্নের মুখে ওরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। এরপর দরকার হলে যেন কথা বলতে পারে; এমন প্রস্তুতি থাকা দরকার।
হাসিনা অনুরোধ করেন, মোদিজিকে একটু ফোন করুন; একটু খোঁজখবর না নিলে বড্ড স্বার্থপরতা হয়ে যায়।
বিজিত দোভাল মোদিজিকে ফোন করেন। কয়েকবার রিং হওয়ার পর ফোন ধরে কঙ্গনা রানাওত। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে, দোভালজি, গত দুই রাতে দুটো ফেসবুক লাইভ করে উনি অজ্ঞান হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আজ আবার একটা ফেসবুক লাইভ করতে গিয়েও অজ্ঞান হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। ডাক্তার বলছে, উনি নাকি অটোম্যাটিক নিউরোপ্যাথিতে আক্রান্ত।



পাঠকের মন্তব্য