রোজার মাস এলেই শয়তানদের শেকলে আটকে ফেলা হয়। বলা চলে অনেকটাই গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছে তারা। কাজকর্ম নেই খুব একটা। দীর্ঘ অবসর কেমন যাচ্ছে? কি করছে তারা? ফিরে এসে কামব্যাক দেয়ার প্ল্যান কেমন? ইত্যাদি বিষয়ে eআরকির সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেছেন ডিউক অফ হেল এস্টোরথের বাংলাদেশ প্রতিনিধী। সেই দীর্ঘ আলাপের চুম্বক অংশ তুলে ধরছি পাঠকদের উদ্দেশ্যে।
eআরকিঃ রমজানের ছুটির দিনগুলো কেমন যাচ্ছে?
শয়তানঃ শরীরে আরাম আর সয় না অত। বেশি আরাম করলে পরে কাজে ফাঁকি দিতে ইচ্ছা করে শুধু।
eআরকিঃ তা তো অবশ্যই। বেশি আরাম করা ভালো না এত। এই যে এক মাস ধরে বন্দি করে রেখেছে, শয়তানি করতে না পেরে খারাপ লাগছে না?
শয়তানঃ তা আবার লাগছে না? তবে ইদানীং সাধারণ এগারো মাস এত কাজ করেছি, এত এত বাঙালির সাথে কাজ করেছি যে আমরা শেকলবন্দী থাকলেও শয়তানি কমবে না।
eআরকিঃ ওরে! একেবারে লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট। তা সিস্টেমটা কী? কিভাবে চলছে এসব?
শয়তানঃ আমরা তো সব বাঙালিকে ট্রেনিং দিতে পারি নাই, তারপরও যতটুকু সাধ্য কাজ করেছি। খেয়াল করলে এখন সেই ট্রেনিংয়ের ফল দেখতে পাবেন। আমরা শেকলবন্দী থাকলেও ফিল্ডে আমাদের ছাত্ররা ভালোই পারফর্ম করছে।
eআরকিঃ মানে এখন শয়তানির আউটসোর্সিং হচ্ছে?
শয়তানঃ (হা হা) একদম। আমরা এখন কনসালটেন্ট। মেইন কাজ করছে লোকাল এজেন্ট।
eআরকিঃ তা রমজানের জন্য আলাদা কোনো প্ল্যান ছিল?
শয়তানঃ অবশ্যই। আমরা তো সবকিছু স্টেপ বাই স্টেপ সেটাপ করে এসেছি। একদম শুরুর দিন থেকেই আমরা ভার্চুয়ালি সিগন্যাল দিয়ে আসছি।
eআরকিঃ কেমন সিগন্যাল?
শয়তানঃ আমরা শেকলে বন্দি থাকলেও মাঝে মাঝে এখানে ওখানে ভার্চুয়াল সিগন্যাল পাঠাই, এই জিনিসটার দাম একটু বাড়াও, ওকে অপমান করো, এই খারাপ কাজটা করো। দেখি মানুষজন বেশ দ্রুত কানেক্ট করে ফেলে। ডিজিটাল শয়তানির মজাই আলাদা।
eআরকিঃ এমনিতে সুনির্দিষ্ট কোনো প্ল্যান আছে রমজানকে ঘিরে?
শয়তানঃ হ্যাঁ। আমরাও রমজানকে পুরো তিন ভাগে ভাগ করেছি। প্রথম দশ দিনে আমাদের কাঁচাবাজারের এজেন্টদের একটিভ করে সিগন্যাল দেই।
eআরকিঃ এরপর?
শয়তানঃ এরপরের দশদিন ঈদের মার্কেট। সেখানে আমরা বিশেষ করে লাস্ট পিস, ভাই এইটা আমরা আমাদের লাভ ছাড়া দিচ্ছি, এসব বলে ডাবল দামে পণ্য বিক্রি করাই।
eআরকিঃ আর শেষ দশদিন?
শয়তানঃ পরিবহন সেক্টর। তখন শুধু একটা মেসেজ পাঠাই, সুযোগ বুঝে ভাড়া তিনগুণ করো। ব্যস, বাকিটা তারা নিজেরাই সামলে নেয়।
eআরকিঃ সবার জন্য সমান সুযোগ, কেউ বেশি করবে, কেউ কম করবে, এমন না। একেবারে সম বণ্টন, তাই না?
শয়তানঃ অবশ্যই। শয়তানির মাঝেও একটা আর্ট আছে। আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করি যেন সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারে।
eআরকিঃ কিন্তু একটা প্রশ্ন, শয়তানরা যদি শেকলে বন্দি থেকেও এত কিছু ম্যানেজ করতে পারে, তাহলে তো ভবিষ্যতে শয়তানদের আর দরকারই হবে না!
শয়তানঃ (দীর্ঘশ্বাস) সেটাই তো ভয়। আগে মানুষকে প্রলুব্ধ করতে হতো। এখন তারা নিজেরাই আইডিয়া নিয়ে আসে।
eআরকিঃ তাহলে কি বলা যায়, শয়তানরা এখন শুধু সুপারভাইজার?
শয়তানঃ অনেকটা তাই। তবে মাঠে কাজ করে যে মজা, সে তুলনায় সুপারভাইজারি করে অত মজা নাই। আর সত্যি কথা বলতে কি, মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা বুঝি শুধু বেকার হয়ে যাচ্ছি।



পাঠকের মন্তব্য