প্রচণ্ড গরমে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় লোডশেডিং যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়তি দামের আগুনে জ্বলছে তেলের বাজার। চারদিকে এত চাপ ও তাপের মধ্যে একটু বুদ্ধিমান হলে আপনি নিজেই সম্ভাবনাময় কিছু স্মার্ট বিজনেস দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারেন। গরমে ঘামতে ঘামতে আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম ৮টি গরম গরম স্মার্ট বিজনেস আইডিয়া।
১) লাঞ্চের সময় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করার সার্ভিস
দুপুরে ঠিক লাঞ্চের সময়ই যেন লোডশেডিংটা দিতে হবে বিদ্যুৎ বিভাগের। খাবার খেতে খেতে গরমে আপাদমস্তক ভিজে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে এই সময়গুলোতে। এমন সময় টাকার বিনিময়ে নিজে বাতাস খেতে চাইলে আপনি নিজেই শুরু করতে পারেন লাঞ্চের সময় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করার সার্ভিস। লাঞ্চের ১৫ মিনিট বা আধাঘণ্টা সময়ে হাতপাখা ভাড়া করে নিতে পারবেন যে কেউ। ঘুষখোর হলে সার্ভিস চার্জ একটু বেশি। আপনি হাতপাখা ও মানুষের সার্ভিস দিয়ে বাজিমাত করে ফেলতে পারবেন এই গ্রীষ্মেই।
২) সেচ দেওয়ার শ্যালো মেশিনের সামনে গোসল করানোর বিজনেস
গরমে গোসল করার জন্য নিয়মিত সেচ দেওয়ার শ্যালো মেশিনগুলোর সামনে ভিড় জমে। আপনার নিজের যদি জমি থাকে, তাহলে এই গরমে বেশ কয়েকটি শ্যালো মেশিন বসিয়ে গোসলের জন্য টোল আদায় শুরু করতে পারেন। আর নিজের জমি না থাকলে অন্যের জমিতে শ্যালো মেশিনগুলো ভাড়া নিতে পারেন। প্রতি জন ১০০ টাকা নিয়ে গোসলের ব্যবস্থা করতে পারলে এক সিজনেই বাজিমাত করে ফেলতে পারবেন।
৩) ভ্রাম্যমাণ মেঘ ব্যবস্থাপনা: টাকার বিনিময়ে ছায়া ও বৃষ্টি অন ডিমান্ড
কেমিক্যাল মিশিয়ে চীন বা আরব দেশে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানো, মেঘ তৈরির কথা মাঝে মাঝেই শোনা যায়। এই গরমে বৃষ্টি অন ডিমান্ড কিংবা মেঘের ছায়া অন ডিমান্ড জাতীয় বিজনেস শুরু করলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। ইউজার আপনার অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে নির্দিষ্ট এলাকায় বৃষ্টি কিংবা মেঘের রিকোয়েস্ট করবে, আর আপনার ব্যাংকে জমা হতে থাকবে অঢেল টাকা।
৪) ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে VR বিনোদন: ঢাকায় বসে এন্টার্কটিকায় ভ্রমণ
ট্রাফিক জ্যামে বসে ঘামে ভিজতে ভিজতে যদি অ্যান্টার্কটিকার ফিল নেওয়া যায়, তাহলে কেমন হয় একবার ভাবুন? চারদিকে বরফ, শীতল ঝোড়ো হাওয়ায় মনের মধ্যে যে প্রশান্তি বইবে, তার জন্য দরকার একটা VR হেডসেট। অ্যাপল কিংবা মেটার VR হেডসেট কিনে রাস্তায় নেমে যান। সারাদিন পকেটে টাকা ঢুকবে।
৫) রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ এসি কেবিন নামাতে পারেন
গরমকে টেক্কা দিতে রাস্তায় যদি ভ্রাম্যমাণ এসি কেবিন নামাতে পারেন, তাহলে বিজনেস করে মোটা টাকা কামানো আপনার জন্য কোনো ব্যাপারই না। ১০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এসব কেবিনে মানুষজন প্রতি ১০ মিনিট হারে টাকা দিয়ে ঢুকতে পারবে। স্মার্ট বিলিং সিস্টেমে যে যতক্ষণ থাকবে, সেই হিসেবে দশ মিনিট পালস ধরে বিকাশ থেকে টাকা কাটা যেতে থাকবে।
৬) মোটিভেশন বিজনেস শুরু করতে পারেন
গরম যে আসলে কিছুই না। গরমকে গরম মনে করলেই গরম লাগবে, আর গরমকে ঠান্ডা মনে করলেই লাগবে ঠান্ডা। এমন মূলমন্ত্র ছড়িয়ে দিতে পারলেই আপনি হয়ে উঠবেন বর্তমান সময়ের সোলায়মান সুখন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোটিভেশন দেবেন আর পকেটে ঢোকাবেন কাঁচা টাকা। চাপার জোর যদি একটু বেশি হয়, তাহলে হয়তো আপনার মোটিভেশনে সূর্যও গলে গিয়ে ঠান্ডা রোদ দিতে শুরু করতে পারে।
৭) লোডশেডিং প্যাকেজ চালু করতে পারেন
যেসব এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং হয়, সেসব এলাকা টার্গেট করে একটি প্রিমিয়াম লোডশেডিং প্যাকেজ চালু করতে পারেন। লোডশেডিং হলেই গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে যাবে দুটি কোকের বোতল, ঠান্ডা দই, এক জোড়া হাতপাখা, শীতল পাটি ও একটি বড় বরফের টুকরা। আর প্রিমিয়াম প্যাকেজে গ্রাহকের চাহিদামতো গরম কমানোর বিভিন্ন দ্রব্যাদি।
৮) আদি ও অকৃত্রিম ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা করতে পারেন
গরম কমাতে ঝাড়ফুঁক ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যাদের গরমে কোনো কাজ হয় না, ঘামে দিনে ১৪ বার গোসল করেন, তাদের টার্গেট করে বাসে, লেগুনায় ও রিকশার পেছনে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। কেউ অতিষ্ঠ হলেই কল দিয়ে অগ্রিম পেমেন্ট করে ঝাড়ফুঁকের সার্ভিস নিতে পারবে। আপনি এসি রুমে বসেই অনায়াসে এই বিজনেস চালাতে পারবেন।


