এসএসসি পরীক্ষার আগের রাতেই সিলেবাসে যুক্ত হয়েছে নতুন এক সাবজেক্ট। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, নকলবিহীন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক স্ট্র্যাটেজিক মুভ হিসেবে যুক্ত হয়েছে এই বিষয়টি। সিলেবাসে যুক্ত হওয়া নতুন এই বিষয়টির নাম মন্ত্রী মিলন স্টাডিজ। অন্য সব বিষয়ে নকল করে পাস করতে পারলেও এতে কোনো রকম নকল করে পাসের সুযোগ নেই বলেই সিলেবাসে যুক্ত করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। নকলের হাত থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুক্ত করার জন্য দরকার এমন একটি সাবজেক্ট, যেটায় আসলে নকলের কোনো সুযোগই নেই। শিক্ষামন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে করা বেশ কয়েকটি মিটিং শেষে সিদ্ধান্ত আসে, পরীক্ষায় একদম শেষে আরেকটি নতুন বিষয়ে পরীক্ষা দিলেই তবে শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে পাস করতে পারবে। আর সেই বিষয়টাই হলো মন্ত্রী মিলন স্টাডিজ।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মন্ত্রী মিলন স্টাডিজ মূলত একটি প্র্যাক্টিক্যাল-বেইজড সাবজেক্ট। এখানে মুখস্থ বা নকল কোনোভাবেই কাজে আসবে না। কারণ পরীক্ষার হলে বসেই শিক্ষার্থীদের রিয়েল-টাইমে প্রমাণ করতে হবে, তারা আসলেই মন্ত্রীর মতো চিন্তা করতে পারে কিনা।
এছাড়া পরীক্ষার পদ্ধতিতেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। পরীক্ষার হলে থাকবে ৪টি সিসি ক্যামেরা, ১০ জন ইনভিজিলেটর, এবং ১ জন অপ্রত্যাশিত সাংবাদিক, যিনি যেকোনো সময় ঢুকে লাইভ প্রশ্ন করতে পারবেন। এ বিষয়ে একজন শিক্ষার্থী বলেন, আগে শুধু খাতা লিখলেই পাস ছিল, এখন তো লাইভ পারফরম্যান্স দিতে হবে। মনে হচ্ছে এসএসসি না, সরাসরি মন্ত্রিসভায় ঢোকার প্রিপারেশন নিচ্ছি!
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সারাদেশে যার মার্কস এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি থাকবে, তার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ফ্রিতে হেলিকপ্টার ভ্রমণ, লাফানোর জন্য পোল ভল্ট ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের বীজ বপন শুরু হতে যাচ্ছে একটি সাবজেক্ট থেকেই। এ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝেও তুমুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এক অভিভাবক ইয়ারকিকে জানিয়েছেন, আমার ছেলে আগে ডাক্তার হতে চাইত। এখন বলে, আমি বাস্তববাদী মানুষ—আমি মন্ত্রী মিলন’ সাবজেক্টে সবচেয়ে বেশি মার্ক তুলে মন্ত্রী মিলন হব।


