দেশের অনলাইন জগতে আবারও ফিরে এসেছে সেই পুরনো পরিচিত আবহ। স্ট্যাটাস দেওয়ার আগে দশবার ভেবে দেখা, মিম শেয়ার করার আগে বন্ধুকে সাবধান করা কিংবা কোনো কিছু পোস্ট হয়ে যাওয়ার পর সেই বহুল প্রচলিত পোস্ট ডিলেট করো, সমস্যা হবে তো আছেই! বহুদিন পর ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের পুনরাগমন যেন অনেক নেটিজেনের মাঝেই এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ তো বলেই ফেলছেন, আহ, সেই পুরনো দিনগুলো!
বিশ্লেষকরা বলছেন, একসময় এই আইনের উত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে এক নতুন ধারা চালু হয়েছিল। অনলাইনে কিছু বললেই হঠাৎ করে দরজায় কড়া নাড়া, ফোন কল, কিংবা সরাসরি আতিথেয়তা, যাকে অনেকে আদর করে ভাতের হোটেলে ডাক পাওয়া হিসেবে জানতেন। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অনেকেই সে সময় হঠাৎ করে অফলাইনে হয়ে যেতেন, আর ফিরে এলে তাদের পোস্টের টোনে দেখা যেত রহস্যময় পরিবর্তন।
শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীই নয়, নির্মাতারাও এই নস্টালজিয়ার বাইরে নন। শোনা যায়, একটি জনপ্রিয় সিরিজের স্ক্রিপ্ট নিয়ে ডেকে নিয়ে তথাকথিত গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার সেই দিনগুলোও অনেকেই এখন মৃদু হাসিতে স্মরণ করছেন। মত প্রকাশের নতুন নতুন সীমারেখা আবিষ্কারের যে সৃজনশীলতা তখন দেখা গিয়েছিল, সেটাকেও অনেকে এখন দেশের অমূল্য উদ্ভাবন হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
তবে মাঝখানে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন নাকি এই নস্টালজিয়াকে আরও গভীর করেছে। জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রায় ১৮ মাস ধরে নেটিজেনরা যে মাত্রার বাকস্বাধীনতা উপভোগ করেছিলেন, অনেকেই তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কেউ কেউ তো এতটাই স্বাধীন হয়ে গিয়েছিলেন যে, পোস্ট দেওয়ার আগে ভাবার অভ্যাসটাই প্রায় ভুলতে বসেছিলেন।
ফলে এখন পরিস্থিতি আবার আগের মতো হতে শুরু করায় অনেকেই খানিকটা বিভ্রান্ত। হঠাৎ করে আবার ভাবতে হবে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটিতে। মিম শেয়ার করলেও সরকার মহলের কাউকে নিয়ে কিছু বললে কটুক্তির অভিযোগ, এসব যেন অনেকের কাছেই পুরনো দিনের দেজা ভ্যু হয়ে ফিরে আসছে।
গবেষণা বলছে, খুব শিগগিরই নেটিজেনদের মধ্যে নতুন এক মানসিক অভিযোজন দেখা যেতে পারে, যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই পোস্ট দেওয়ার আগে তিনজন বন্ধুর মতামত নেবে, পাঁচবার এডিট করবে, এবং শেষ পর্যন্ত Only me করে রাখবে। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে এই প্রবণতার নাম দিয়েছেন Self-Censorship 2.0।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকরাও বিষয়টি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। তাদের মতে, বাকস্বাধীনতার ওঠানামার এই দ্রুত পরিবর্তন মানুষের মানসিক স্থিতিস্থাপকতা পরীক্ষার এক অভিনব ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আর দেশের নেটিজেনরা? তারা নাকি এখন আবার সেই পুরনো দক্ষতা ঝালিয়ে নিচ্ছেন, কিভাবে কিছু না বলেও অনেক কিছু বলা যায়।


