ভিএফএক্স বাজেট কমাতে মোহাম্মদপুরে সদর দপ্তর সরাতে চায় হলিউডের কলাকৌশলীরা

১২ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে

মোহাম্মদপুরের খ্যাতি (নাকি কুখ্যাতি বলা উচিত?) সম্পর্কে আমাদের সবারই কমবেশি জানা। বাংলাদেশে থাকেন, কিন্তু মোহাম্মদপুরের নাম শোনেননি—এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া বিরল। গতকাল প্রথম আলো’র করা এক প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুরকে দেওয়া হয়েছে এক নতুন তকমা—ঢাকার ‘সিটি অব গড’। ২০০২ সালের ‘সিটি অব গড’ নামের ব্রাজিলিয়ান সিনেমায় দেখানো গল্পের সঙ্গে মোহাম্মদপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার মিল দেখেই এ তকমা পেয়েছে এলাকাটি।

তবে হলিউডের কলাকৌশলীদের কানে এ খবর যেতেই তারা নড়েচড়ে বসেছেন। তারা বলেন, এটি তাদের জন্য অভাবনীয় এক সুযোগ। একটি দৃশ্যের ভিএফএক্সের পেছনে তাদের যে পরিমাণ খাটাখাটনি করতে হয়, তাতে শেষ পর্যন্ত খরচের পরিমাণ আকাশচুম্বী হয়ে যায়। এক ভিএফএক্সেই পুরো বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খরচ হয়ে যায়। তাই গাদা গাদা টাকা খরচ করে ভিএফএক্সে দৃশ্য ধারণ করার চেয়ে মোহাম্মদপুরে এসে সরাসরি চলমান জীবন্ত অ্যাকশন দৃশ্য ধারণ করা—এক ঢিলে শুধু দুই নয়, তিন পাখি মারার সমান! খরচ তো কমবেই, সঙ্গে সময়ও কমবে, আর ধারণকৃত দৃশ্য হবে আরও প্রাণবন্ত। ভিএফএক্সকে জীবন্ত দেখানোর প্রচেষ্টা থেকে মুক্ত হয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন কলাকৌশলীরা।

লস অ্যাঞ্জেলসবাসী এদিকে বিষণ্ণতায় ভুগছেন হলিউডের সদর দপ্তর মোহাম্মদপুরে স্থানান্তরের খবরে। অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। হাসিমুখে লোকজনকে বাজার-সদাই করতে দেখা গেছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে মানুষজন হাসিমুখে এ বিষয়ে আড্ডা দিচ্ছে। তবে দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানুষজনকে বেশ মনমরা ও বিমর্ষ মুখে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। কারণ জানতে চাইলে একজন বলেন, রাজধানীর অন্তর্ভুক্ত এলাকা হওয়ায় মোহাম্মদপুর বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। বাস্তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তুলনায় মোহাম্মদপুর আসলে কিছুই না। তবে হলিউড আসার আনন্দে ব্যস্ত থাকায় মোহাম্মদপুরবাসী আপাতত এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

মোহাম্মদপুর-হলিউড ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, হলিউড আসা তো কেবল সূচনা মাত্র। আমরা হলিউডকে শুধু বাড়তি খরচ থেকে বাঁচাতে এ উদ্যোগে সাড়া দিইনি; বরং পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোও যাতে সিনেমা বানাতে মোহাম্মদপুরে আসে, তার ভিত্তি গড়ে দিতেই হলিউডের সঙ্গে অংশীদারিত্বে গিয়েছি। এতে এ এলাকার নাম যেমন পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, তেমনি মোহাম্মদপুর দেশের জিডিপিতেও অবদান রাখবে।

গোপন সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টোফার নোলান বলেছেন, সবাই শুধু সাময়িক লাভ নিয়ে পড়ে থাকে। মোহাম্মদপুরকে বেছে নেওয়া শুধু ভিএফএক্স নয়, সঙ্গে আরও বাড়তি কিছু সুবিধা এনে দেবে। যেমন—দুই মিনিটের বৃষ্টিতেই ঢাকার রাস্তা ডুবে মিনি কক্সবাজার হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ভেসে যাওয়া বা ডুবে যাওয়ার দৃশ্য তৈরিতে সমুদ্র পর্যন্ত যাওয়ারই প্রয়োজন পড়বে না। আগে জানলে টাইটানিক এখানেই বানিয়ে ফেলতাম। আবার গরমে রাস্তার পিচ গলে যায়, দু’ভাগ হয়ে যায়, ব্রিজ বানানোর পরদিনই ভেঙে পড়ে—একবার ভাবুন তো, এসব দৃশ্য পর্দায় দেখাতে আমাদের কতখানি পরিশ্রম হয়! মোহাম্মদপুরে হলিউড চলে আসা শুধু আর্থিকভাবেই নয়, বরং অমানুষিক খাটুনি থেকেও আমাদের উদ্ধার করবে। মানি হাইস্ট, ফাইট ক্লাব-এর পরিচালকরা তো কপাল চাপড়িয়ে বলেই বসলেন, আগে জানলে এখানেই শুটিং করতাম।

ঠিক কবে হলিউড মোহাম্মদপুরে আসছে, তা পুরোপুরি স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও আসার সম্ভাবনা শতভাগ—এ বিষয়ে সকলেই নিশ্চিত। হলিউডে অভিনয় করার স্বপ্নে তাই দিন গুনছে মোহাম্মদপুরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো অ্যালেন স্বপনেরা।

১২ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে

Top