বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সিসি ক্যামেরার দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন

৫৬ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে

বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, অর্থনীতির চালিকা শক্তি তেলের দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলে এসেছে। এই নাজুক পরিস্থিতির চাপ সামাল দিতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা না লাগিয়ে নিজেই পালন করছেন সিসিটিভি ক্যামেরার দায়িত্ব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রুদ্ধদ্বার এক বৈঠকে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দেশে এক সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বলে কিছুই ছিল না। তিনি হেলিকপ্টারে করে ঘুরে ঘুরে হিউম্যান সিসিটিভির মতো নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। রক্তে এখনো সেই উন্মাদনা বয়ে বেড়াচ্ছে; অর্থনীতির এমন নাজুক অবস্থায় সিসিটিভির পেছনে খরচ করার কোনো মানেই হয় না। তিনি নিজেই যদি সিসিটিভির মতো নজর দিতে পারেন, তাহলে নতুন করে সিস্টেম দাঁড় করানোর কোনো মানেই হয় না।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষকদের কোনো অবহেলা আছে কিনা, কিংবা পরীক্ষাগুলোতে নকল চলছে কিনা এসব চিন্তা করে শিক্ষামন্ত্রীর রাত কাটছে নির্ঘুম। স্বপ্নে শুধু নকল আর নকলের ছড়াছড়ি দেখে চিৎকার করে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পাড়া-প্রতিবেশীরা। ঘুম ভাঙলেই আর নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে মধ্যরাতেই নাকি ড্রাইভারকে গাড়ি প্রস্তুত করতে বলছেন; স্বপ্নে বার্তা পেয়েছেন কোথায় কোথায় ছাত্ররা নকল লিখছে, তাই রাতেই অভিযান চালাতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর অভিনব উদ্যোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কারো কারো মতে, এমন মানব সিসিটিভি থাকলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এক আমূল পরিবর্তন আসবে, যেটা লাখখানেক সিসিটিভি দিয়েও সম্ভব না। আর স্বপ্নযোগে কারা কারা নকল বানাচ্ছে, এমন খবর পাওয়া তো চাট্টিখানি কথা না! এমন দৈববাণীর সাহায্য যিনি পান, তার মাধ্যমেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব। অভিভাবকরাও কর্মব্যস্ত শিক্ষামন্ত্রীর কর্মসূচিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে মন্ত্রী মিলন এক ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ক্যারেক্টারে রূপ নিয়েছেন। যে যার মতো করে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনের ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবসার নতুন সব ম্যাটেরিয়াল আসবে তার মাধ্যমে। আর দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যদি আন্তর্জাতিক মানে চলে যায়, তাহলে মনিটাইজেশন থেকে যে টাকা পাওয়া যায়, সেটাও আন্তর্জাতিক মানে চলে আসবে।

শিক্ষামন্ত্রী মিলন শুধু যে সিসিটিভির মতো নজরদারি করছেন, এমন বললে ভুল হবে বলে ফেসবুকের এক ফেক আইডি থেকে মতামত জানিয়েছেন দার্শনিক নোম চমস্কি। তিনি বাংলাদেশকে আগামী বিশ্বে নতুন এক জায়গায় দেখছেন, আর এর পেছনের পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মিলনকে। চমস্কির ভাষায় বলতে গেলে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে মিলনের মতো মন্ত্রী আসলে বুঝতে হবে, সেই দেশে শিক্ষার তৃতীয় রেভল্যুশন শুরু হয়েছে। আর এ রেভল্যুশনের আগুন একবার লেগে গেলে সেটাকে দমানোর মতো কোনো কিছুই পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না।

 

৫৬ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে

Top