সারাদেশে যখন জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে হাহাকার, ঠিক তখনই কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারির তরুণী লামিয়া দেখালেন এক অনন্য পথ। কোনো অকটেন বা পেট্রোল নয়, নিজের মুখের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত ত্বক ব্যবহার করেই দিব্যি বাইক চালিয়ে এলাকায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লামিয়া অয়েলি স্কিন সমস্যায় ভুগছিলেন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় তার মুখ দিয়ে যেভাবে তেল নিঃসরণ হতো, তাতে একটি ছোটখাটো পরোটার দোকান চালানো সম্ভব ছিল। কিন্তু লামিয়া দমে যাননি। তিনি তার এই অভিশাপকে আশীর্বাদে রূপান্তরের পণ করেন।
লামিয়া আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ালে মনে হতো আরব্য উপদ্বীপের কোনো তেলের খনি আমার কপালে বসানো। ভাবলাম, এই তেল যদি টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলতেই হয়, তবে সেটা দেশের জিডিপিতে কাজে লাগবে না কেন? সেই ভাবনা থেকেই বাইকের ফুয়েল ট্যাংকের সঙ্গে নিজের গালের কানেকশন দিয়ে দিলাম।
লামিয়ার এই আবিষ্কারের পর ভুরুঙ্গামারির বিউটি পার্লারগুলোতে ভিড় কমে গেছে। এখন মেয়েরা আর ম্যাটিফাইং প্রাইমার বা অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ কিনছে না। বরং সবাই চাইছে কীভাবে ত্বককে আরও তৈলাক্ত করে তেলের খরচ বাঁচানো যায়।
স্থানীয় এক বাইকার ঈর্ষান্বিত হয়ে বলেন, আমাদের তো ড্রাই স্কিন, পেট্রোল পাম্পে লাইন দেওয়া ছাড়া গতি নেই। লামিয়ার কপালই আলাদা, কপাল থেকেই তেল বেরোচ্ছে!
এদিকে, জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল লামিয়ার ত্বক পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। দেশের তেল সংকট মোকাবেলায় লামিয়ার মতো তরুণীদের কাজে লাগানো যায় কি না, তা নিয়ে লামিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবে দলটি।
এদিকে অন্য এক খবরে জানা গেছে, লামিয়ার ত্বকের দিকে চোখ পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লামিয়াকে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা যায়।


