রবীন্দ্রনাথের ফুটবলে অশরীরী

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে

 

বল দাও, মোরে বল দাও।

দিল। তাহা লইয়াও আসিলাম। কিন্তু বিপত্তি অন্যখানে।

বলটি আমার টেবিলের তলায় গড়াইয়া ছিল। প্রথম দর্শনে তাহাকে বিশেষ কিছু মনে হয় না। পৃথিবীতে গোলাকার বস্তুর অভাব নাই—চাঁদ গোল, সূর্য প্রায় গোল, লুচি গোল, এমনকি পরীক্ষার খাতায় অনেক সময় ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বরও গোল হইয়া থাকে।

কিন্তু এই বলটির মধ্যে একপ্রকার অশান্ত আত্মা বাস করে।

আমি তাহাকে আলমারির উপরে রাখিলাম, সে নিচে নামিয়া আসিল। খাটের পাশে রাখিলাম, সে খাটের তলায় আশ্রয় গ্রহণ করিল। মনে হইল, জড়পদার্থের মধ্যে যদি স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়, তবে তাহার প্রথম নেতা এই বলটিই হইবে।

একদিন একটি বালক আসিয়া বলিল—

– কাকু, বলটা দিবেন?

আমি বলিলাম—

– লইয়া যাও।

সে বলটি লইয়া এমন আনন্দে দৌড়াইয়া গেল, যেন আমি তাহাকে একটি ক্ষুদ্র গ্রহ দান করিয়াছি।

বস্তুত বলটির মধ্যে গ্রহেরই স্বভাব। পৃথিবী যেমন সূর্যের চারদিকে ঘুরিয়া বেড়ায়, বলও তেমনি মানুষের চারদিকে ঘুরিয়া বেড়ায়। পার্থক্য এই যে, পৃথিবীকে লাথি মারা যায় না, বলকে যায়।

বলটির জীবনে ন্যূনতম স্থিরতাও নাই। সে কখনও পায়ের আঘাতে মাঠ পার হইয়া যায়, কখনও জানালার কাঁচ ভাঙে, কখনও পুকুরে পড়িয়া আত্মগোপন করে। অথচ তাহার কোনো অভিযোগ নাই। মানুষ হইলে এতদিনে আত্মজীবনী লিখিয়া ফেলিত বোধহয়—“আমার জীবন ও লাথি”।

কখনও কখনও ভাবি, পৃথিবীর সকল মানুষের মন যদি বলের মতো গোল হইত, তবে কোণঠাসা অভিমান থাকিত না। কিন্তু দুর্ভাগ্য, মানুষের মন গোল নহে; কেবল তাহার খেলনাই গোল।

এইজন্যই বোধ হয় বলটি এত জনপ্রিয়। মানুষ নিজের মধ্যে যাহা পায় না, তাহাই খেলায় খুঁজিয়া ফিরিয়া বেড়ায়।

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top