ডুবে যাওয়া শহরে চট্টগ্রামবাসী যা যা করতে পারেন

পঠিত ... ৫ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে

চার দশকে চট্রগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই দিশেহারা জীবন যাপন করছেন, দুর্ভোগের যেন কোনো কমতি নেই। একটু বৃষ্টি হলেই যেন রাস্তায় পানি জমে একাকার হয়ে যায়। এত কিছুর মধ্যে আমরা সবসময় যে নেগেটিভ বিষয়গুলো খুঁজব তা নয়, আমাদের খারাপের মধ্যে ভালো বিষয়গুলোও দেখতে হবে। তবেই না আমরা খারাপকে উৎরে গিয়ে ভালো জীবনযাপন করতে পারব। ডুবে যাওয়া চট্রগ্রামে চাইলে অনেক প্রোডাক্টিভ ও অর্থনৈতিক উৎকর্ষমূলক কাজ করা যায়। ডুবে যাওয়া শহরে আপনারা যা যা করতে পারেন:

 

১। চট্টগ্রামকে ওয়াটার থিম পার্ক বানানো

বাংলাদেশে ওয়াটার থিম পার্ক বলতে আমরা নন্দন পার্ক কিংবা ফ্যান্টাসি কিংডমের ভেতরে ছোটখাটো পুলকেই বুঝে থাকি। অথচ চট্টগ্রাম শহরে থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত একটা জায়গাকে যদি কোনোভাবে বিশ্ববাসীর কাছে ওয়াটার থিম পার্ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায় তাহলে ব্যপারটা কী পরিমাণ দারুণ হবে সেইটা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা যায়। আর নয় ইটালি কিংবা রোম, বাংলাদেশেই বসে উপভোগ করতে পারবেন ইউরোপের সৌন্দর্য, এমন ট্যাগ লাইনে যদি ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে শুধু কক্সবাজার না পুরো চট্টগ্রামের নাম ছড়ায় যাবে বিশ্বজুড়ে।

 

২। ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত করা 

ওয়াটার পার্কের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরকে কাজে লাগানো যায় ইলিশ মাছের প্রজনের কাজে। সমুদ্র থেকে ডিম পাড়তে কেন পদ্মায় যেতে হবে ইলিশকে! ওদের একটু ডাকাডাকি করে গান শুনিয়ে যদি শহরের ভেতর আনা যায় তাহলে দেখা যাবে পদ্মার কথা ভুলেই যাবে। ডিম পাড়বে, বাচ্চা হবে, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে মানুষ করে, শহরে থাকলে কিছুটা ট্রাফিক জ্যাম পেতে পারে তবে বেড়ে ওঠাটা আসলে মন্দ হবে না। দেখা যাবে সপ্তাহে একটা করে সিনেমা দেখবে, স্ট্রেস কাটাতে মর্নিং ওয়াকে যাবে। আর জীবন ভালো না লাগলে হোটেলের বাবুর্চিকে গিয়ে বলবে আমাকে রেধে ফেলো। 

 

৩। ঢাকায় পানি রপ্তানি করা 

পানির অপর নাম শুধু জীবন না, মাম, কিনলে, প্রাণ সহ আরো কত কী। যে পানি চট্টগ্রামে ফ্রিতে পাওয়া যায় যেটা ঢাকার মানুষ কত টাকা দিয়ে কিনে খায় সেইটা বোধহয় কেউ জানে না। একটু চালাক না হলে জীবনে টেকা মুশকিল, এজন্য চট্টগ্রামের পানিকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়। সেজন্য ট্রেন বাস কিংবা মোটর সাইকেল সার্ভিস ইউজ করা যায়। দেখা যাবে শহরে পানিও থাকবে না আবার লোকজনের দুই চার পয়সা কামাই ও হয়ে যাবে। একটু ভিন্নরকম চিন্তা না করলে জীবনটা তো আসলে থমকেই থাকে। 

 

৪। রাস্তায় সাবমেরিন নামানো

লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, ডুবে যাওয়া শহরে সাবমেরিনের ব্যবসা করা যায়। যদিও ব্যবসাটা একটু বেশি টাকা পয়সা আছে এমন মানুষদের জন্য তবে এইটা ভবিষ্যতে অনেক শাইন করবে। একদিন খবরে দেখা যাবে চট্টগ্রামের হালি শহরে সাবমেরিনে করে বউ নিয়ে আসলেন আফজাল মিয়া। ভাবা যায় এমন খবরের কথা? শুধু কেনো হেলিকাপ্টারে করে বউ আনলেই খবর হতে হবে? খবর হতে হবে সাবমেরিনে করে বিয়ে করতে যাওয়া নিয়ে, খবর হতে হবে সাবমেরিনের জ্যাম নিয়ে কিংবা খবর হতে পারে সাবমেরিনে সাবমেরিনে ধাক্কাধাক্কি নিয়ে কিংবা দুই সাবমেরিন কন্ডাক্টরের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি নিয়ে। 

 

জীবনে খারপ সময় আসবেই, তবে এই খারপ সময়কে কাজে লাগাতে পারলে জীবনে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। বুদ্ধি আসলে সবাই দিতে পারে না। আমি ভেবে ভেবে দিলাম, বাকি দায়িত্ব আপনার। কেউ সাবমেরিনের ব্যবসা শুরু করলে আমাকে অবশ্যই আজীবন ফ্রি রাইড দিবেন, নাহলে কপিরাইট কেসে ফাঁসায় দিব বলে দিলাম।

 

 

পঠিত ... ৫ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে

Top