স্নেহের হালু,
কেমন আছো? আশা করি ভালোই আছো!
শুনলাম তোমার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা সামনে। কিন্তু তোমার নাকি পড়াশোনায় মন নাই! এইটা কেমন কথা! তুমি নাকি সারাদিন বাইরে বাইরে থাকো, মাঠে মাঠে থাকো কাদের সাথে....
বাবা মনে রেখ, এখন যৌবন যার, পড়ালেখার শ্রেষ্ঠ সময় তার। আমরা ছিলাম ডাকাইতের বংশ। কিন্তু এখন ডাকাতির যুগ না, পড়ালেখার যুগ। মাঠে মাঠে তাফালিং করে বেড়ালে চলবে? বিসিএস দিতে হবে না?
তোমার চাচি তোমার লম্বা চুল দেখে খুব কষ্ট পেয়েছে। আমি আরও বললাম, ছেলেমানুষ। এখন একটু শখ করে চুল টুল রাখবে, পরে কেটে ফেলবে। কিন্তু তোমার চাচি নাচার। বুঝোই তো, মহিলা মানুষ। মায়ের জাত। সে যখন চাইছে, আর বড় রেখো না। কেটে ফেলো। তাছাড়া পুরুষের আসল সৌন্দর্য তার চুল। আজকালের মধ্যেই একটা আর্মি ছাট দিয়া ফেলো বাবা, তোমার চাচির খুব শখ।
আমরা পাশের গ্রামে তোমার জন্য অনিন্দ্য সুন্দরী একটা মেয়ে দেখেছি। মেয়ে যেমন রূপসী, তেমন গুণবতী আর সংসারী, টিকটকও করেনা। মেয়ের বাবা বলেছেন, ছেলের বিসিএসটা হলেই বিয়ে কনফার্ম। বাবা তোমার বিয়ের বয়স ইতোমধ্যেই হয়ে গিয়েছে, সবকিছুরই একটা সময় থাকে তো নাকি?
তোমার চাচী, চাচারা, এলাকার ময়-মুরুব্বি আত্মীয়-স্বজনরা ডাভ সাবান, শ্যাম্পু, চকলেট, পাউডার, লোশন আর কিছু গলার চেইনের আবদার করেছে। আর ইয়ে মানে, আমার খুব শখ ছিল একটা আইফোন প্রো ম্যাক্সের। তুমি এবার আসার সময় এগুলো নিয়ে এসো।
আজ এ পর্যন্তই, বড়দের আদর আর ছোটদের স্নেহ দিও।
ইতি
তোমার দুঃসম্পর্কের চাচাতো চাচা



পাঠকের মন্তব্য