আজ বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। বাংলাদেশে দিবসটি নিয়ে খুব একটা হইচই না থাকলেও দিল্লির লুটিয়েন্স এলাকায় যেন কাঁঠালের কুম্ভমেলা। কারণ, স্বয়ং কাঁঠাল রানি উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেছেন গ্র্যান্ড জ্যাকফ্রুট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। লাল গালিচা, সবুজ পাতা আর হলুদ কোয়ার বিশেষ সাজে পুরো এলাকা এখন কাঁঠালময়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কাঁঠাল দিয়ে তৈরি ৩০০টিরও বেশি অল্টারনেটিভ রেসিপি পরিবেশন করা হবে। কাঁঠাল বিরিয়ানি, কাঁঠাল সুশি, কাঁঠাল টাকো, কাঁঠাল আইসক্রিম, এমনকি ‘জ্যাকফ্রুট লাতে’ পর্যন্ত রাখা হয়েছে অতিথিদের জন্য। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে ‘গন্ধবিহীন কাঁঠাল স্মুদি’র স্টলে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার দিল্লির কাঁঠাল সমাজ আজ যেন নতুন সম্মান ফিরে পেয়েছে। লুটিয়েন্সের এক গাছে ঝুলে থাকা এক কাঁঠাল ভাই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আগে মানুষ আমাদের দেখলেই বলত, এইটা নামাও, পুরো বাসা গন্ধে ভরে যাবে। আঠার জন্য কেউ ধরত না, গন্ধের জন্য কেউ কাছে আসত না। কিন্তু কাঁঠাল রানিই প্রথম বলেছিলেন, তোমাদেরও সময় আসবে। সেই থেকে আমরা তাঁর বিগ ফ্যান। আজ তিনি নিজে এসে উৎসব করছেন। Anything for her!
আরেক কাঁঠাল বলেন, আগে আম, লিচু আর তরমুজের এত কদর দেখে মন খারাপ হতো। এখন দেখেন, আমাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে। জীবনে এমন দিনও দেখব, ভাবিনি।
এদিকে উৎসবস্থলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষভাবে আঠা ব্যবস্থাপনা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ ভুল করে কাঁঠাল ছুঁয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে নারকেল তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, অতিথিরা যেন শুধু স্মৃতি নিয়ে যান, আঠা নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য বলছেন, দিল্লিতে কাঁঠাল উৎসবের এই জাঁকজমক ভবিষ্যতে সফট ফ্রুট ডিপ্লোমেসির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কাঁঠাল রানির কার্যালয় এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।


