আজ রাত ১১:০০টায় ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের NRG Stadium-এ।
আর আজ একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার জাপানকে সমর্থন করা উচিত!
কিন্তু কেন?
না জানলে এখনই জেনে নিন—
১.
বাংলাদেশ আর জাপানের পতাকার দিকে তাকান, একটি চমৎকার মিল আছে।
দুই দেশের পতাকাই অত্যন্ত সরল নকশার। সবুজ পটভূমির ওপর একটি লাল বৃত্ত। যদিও দুই দেশের রং, বৃত্তের অবস্থান ও অর্থে কিছু পার্থক্য রয়েছে, তবুও প্রথম দেখায় এ দুটি পতাকার মধ্যে বিস্ময়কর সাদৃশ্য সহজেই চোখে পড়ে।
২.
জাপান ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যেও কিছু মিল রয়েছে।
উভয় দেশই এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত, নদী ও সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অধিকারী। দুই দেশই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা, আর জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামি। এছাড়া উভয় দেশের মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে জলভাগের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩.
জাপানি ফ্যানরা খেলা দেখার পর স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে—এমন এক অসাধারণ সংস্কৃতির উদাহরণ, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
ফুটবল বিশ্বকাপসহ বড় বড় ম্যাচে তারা নিজেদের সিটের চারপাশের সব আবর্জনা কুড়িয়ে বড় বড় ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ফেলেন এবং স্টেডিয়ামকে যেমন পেয়েছিলেন, তেমনই পরিষ্কার অবস্থায় রেখে চলে যান। এই ঐতিহ্য ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয়েছে এবং সাম্প্রতিক ২০২৬ বিশ্বকাপেও ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর আবার দেখা গেছে।
আর পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক। তাই একজন মুসলমান হিসেবে আপনার জাপান সাপোর্ট করা উচিত।
৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই, ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
এর মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশের প্রথম দিকের স্বীকৃতিদানকারী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর একটি হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
৫.
উভয় দেশেই শিল্প, সাহিত্য, নাচ-গান ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
জাপানে কাবুকি, নো থিয়েটার ও ইকেবানার মতো শিল্পধারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লালিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বাউল গান, যাত্রাপালা ও নকশিকাঁথা লোকজ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে দুই দেশই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।



পাঠকের মন্তব্য