সম্প্রতি সলিমুল্লাহ খান শহীদুল জহিরকে ‘তৃতীয় শ্রেণীর লেখক’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক হইচই। ‘তৃতীয় শ্রেণী’ শব্দটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা ট্রোল, মিম, স্ট্যাটাস ও বিশ্লেষণ। তবে এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিব্রত হয়েছে দেশের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।
এমনই এক তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, যে কেউ বা যেকোনো কিছু তৃতীয় শ্রেণীর হতেই পারে। তাই বলে সেটা কি খারাপ? আমরাও তো তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। তাহলে আমাদের নিয়েই সবাই এমন হাসাহাসি করছে কেন?
সে আরও বলে, আগে কেউ জিজ্ঞেস করলে গর্ব করে বলতাম, আমি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। এখন বলতে ভয় লাগে। মনে হয়, সবাই আবার হাসবে না তো!
এদিকে কয়েকজন তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, বড়দের সাহিত্যিক বিতর্কে অযথাই তাদের শ্রেণীর নাম টেনে এনে সামাজিকভাবে বিব্রত করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, লেখককে যা ইচ্ছা বলার বলেন, আমাদের ক্লাসের নাম কেন টানছেন? অপরাধটা কী আমাদের?
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নাকি ক্লাস টিচারের কাছে আবেদন করেছে, স্যার, আমাদের এক বছরের জন্য চতুর্থ শ্রেণীতে প্রমোশন দিয়ে দেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার তৃতীয়তে নেমে আসব। ঘটনার জেরে ‘বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ’ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে কাউকে খাটো করতে গিয়ে ‘তৃতীয় শ্রেণী’ শব্দ ব্যবহার করলে রয়্যালটি দিতে হবে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের।


