নির্মলেন্দু গুণ মাথায় উকুন

৭৮ পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে

অক্টোবর মাস।
পনেরো তারিখ।

এনএসএফের কিছু পান্ডা তুমুল আলোচনায় বসেছে। চপ-কাটলেট এসেছে। কফি এসেছে। সিগারেটের ধোঁয়ায় কেবিন অন্ধকার।স্থান 'লিবার্টি কাফে'। কাফের কোণার দিকে শুকনো মুখে নির্মলেন্দু গুণ একা বসে আছেন। তিনি খানিকটা বিষন্ন। তার পকেট ধুপখোলার মাঠ। এক কাপ চা কিনবেন সেই উপায় নাই। নির্মলেন্দু গুণ কবিতা লেখা শুরু করেছেন, তবে কবি স্বীকৃতি তখনো পাননি। কবিতা নিয়ে তাকে শরীফ মিয়ার ক্যানটিনে আড্ডা দিতে দেখা যায়। সেই আড্ডায় কবিতা-বিষয়ক আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাথা থেকে উকুন বাছেন এবং সশব্দে উকুন ফোটান। তার পাশের লোকজনদের বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করেন, উকুন ফোটাবেন? নেন আমার কাছ থেকে। কোনো সমস্যা নাই। সাপ্লাই আছে। তখন তার বিষয়ে প্রচলিত ছড়াটা হলো,

নির্মলেন্দু গুণ
মাথায় উকুন।

লিবার্টি কাফেতে নির্মলেন্দু গুণ উকুন বাছা শুরু করেছেন। তার সামনে এক কাপ কফি। এবং একটা চিকেন কাটলেট। খাবারের দাম কিভাবে দেবেন- এই নিয়ে তার মধ্যে সামান্য শঙ্কা কাজ করছে। তবে তিনি প্রায় নিশ্চিত দুপুরের মধ্যে পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে। কপাল ভালো থাকলে তার উপর দিয়ে দুপুরের খাবারটা হয়ে যাবে। লিবার্টি কাফের মোরগ-পোলাও অসাধারণ।

নির্মলেন্দু গুণের মাথায় একটা কবিতার কয়েকটা লাইন চলে এসেছে। লাইনগুলি তাকে যথেষ্ট যন্ত্রনা দিচ্ছে। লিখে ফেললে যন্ত্রনা কমত। সঙ্গে কাগজ-কলম না থাকায় যন্ত্রনা কমাতে পারছেন না।
কী মনে করে মাথার একটা উকুন তিনি কফির কাপে ফেলে দিলেন। কফি খেতে খেতে একটা উকুন কিভাবে মারা যায়, সম্ভবত এই দৃশ্য তার দেখতে ইচ্ছে করল। মাথার ভিতরে কবিতা এবং চুলে উকুন এই দুইয়ের যন্ত্রনায় তিনি অস্থির। কবিতার প্রতিটি শব্দ আলাদা করা যাচ্ছে। উকুনগুলি আলাদা করা যাচ্ছেনা। নির্মলেন্দু গুণ মনে মনে একের পর এক লাইন সাজাতে লাগলেন।

আমি যখন বাড়িতে পৌছলুম তখন দুপুর,
চতুর্দিকে চিকচিক করছে রোদ্দুর-;
আমার শরীরে ছায়া ঘুরতে ঘুরতে ছায়াহীন
একটি রেখায় এসে দাড়িয়েছে।

অতি বিখ্যাত কবিতাটির নাম 'হুলিয়া'। এই একটি কবিতাই তার নামের আগে কবি শব্দটি চিরস্থায়ীভাবে বসিয়ে দিল।

 

৭৮ পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top