বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মব ভায়োলেন্স বা পিটুনি সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উত্তেজিত জনতার দীর্ঘ সময় ধরে পিটানোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার মব হামলার সময় ‘বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক’ (পানি পানের বিরতি) চালুর দাবি উঠেছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নিয়ম দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় মববাজদের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়েছে।
রাজধানীর একটি মোড়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করার সময় মব ইউনিটের এক টিম লিডার’ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফিফা যদি ফুটবল খেলার মধ্যে হাইড্রেশন ব্রেক দিতে পারে, তবে আমাদের পিটানোর মাঝে কেন নয়? লাঠিসোঁটা চালানো অনেক কষ্টের কাজ। তীব্র গরমে আমরা ডিহাইড্রেশনে ভুগি। মাঝে মাঝে পানির অভাব আর ক্লান্তির কারণে ফিনিশিং ঠিকঠাক হচ্ছে না, টার্গেট হাত ফসকে পালিয়ে যাচ্ছে!
নতুন নিয়মের প্রস্তাবিত রূপরেখা:
আন্দোলনরত মববাজদের দাবি অনুযায়ী, যে কোনো পিটুনির ঘটনায়—
১. পিটানো শুরুর ২২ মিনিট পর প্রথম এবং ৬৭ মিনিট পর দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক দিতে হবে।
২. বিরতি চলাকালীন ৩ মিনিট কাউকে মারধর করা যাবে না। ওই সময়ে ভিকটিম এবং আক্রমণকারী, উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে পানি পান করবে এবং ক্লান্ত শরীর সতেজ করবে।
৩. এই ব্রেক আবহাওয়া নির্বিশেষে কার্যকর হবে, যাতে পিটুনির ফ্লো বজায় থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা আগে থেকেই মব ভায়োলেন্সের সময় ‘নিষ্ক্রিয় ব্রেক’ পালন করে আসছি। তারা এখন এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী করতে চাইছে। তবে ৩ মিনিটের বিরতি দিলে ভিকটিম ওই সুযোগে যদি দৌড়ে পালায়, তবে সেই দায়ভার কে নেবে—সেটা নিয়ে মব কমিটির সাথে কথা বলা হচ্ছে।
এই দাবির পর ফেসবুক ও টিকটকে রীতিমতো সমালোচনার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ লিখছেন, পিটুনির মানোন্নয়নে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ব্রেকের সময় ভিকটিমকে ওআরএস (ORS) ও স্যালাইন খাওয়ানোর ব্যবস্থাও রাখা উচিত, যাতে বাকি পিটুনিটা সে চনমনে হয়ে সহ্য করতে পারে।
অন্য একজন লিখেছেন, মব ভায়োলেন্স এখন আর আগের মতো নেই, এখন এটি হাই-প্রোফাইল ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। রেফারির বাঁশি ছাড়া পিটানো শুরু না করার নিয়মটাও সম্ভবত দ্রুত চালু হতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পিটানি কোচ নিয়োগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যারা ট্যাকটিক্যাল পিটুনি বা মাঠের কৌশল নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে প্রশিক্ষণ দেবে।


