তেলাপোকার মহাসমাবেশ — যন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি

১৪৮ পঠিত ... ১৩:৪৯, জুন ০৬, ২০২৬

 

আজ দিল্লির রাস্তায় তেলাপোকার ঢল নেমেছে। চাকরিবাকরি না করে কিংবা যোগ্যতা ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় ঢুকে পড়া যুবক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে সরকারের সমালোচনাকারীদের ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ‘তেলাপোকা’ বলে সম্বোধন করার পর, এই তেলাপোকারাই দেখিয়ে দিয়েছে—সব তেলাপোকা একত্রে কাজ করলে কী হতে পারে। হয়তো তারা সত্যিই তেলাপোকা। কিন্তু ২.২ কোটি তেলাপোকার সামনে যে কোনো কিছুই একেবারে নস্যি হয়ে যায়। ভারতের কোকরোচ জনতা পার্টির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখলেই তা বোঝা যায়।

আজ, ৬ জুন ২০২৬, দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের প্রথম বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। সাম্প্রতিক CBSE, CUET ও NEET প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

৩০ বছর বয়সী বোস্টন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট অভিজিৎ দীপকের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে তেলাপোকাদের এই মহাসমাবেশ। প্রধান বিচারপতির দেওয়া ‘তেলাপোকা’ ট্যাগটিকেই তারা নিজেদের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে কটাক্ষ করার জন্য দীপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় “What If All Cockroaches Come Together?” শিরোনামে একটি স্যাটায়ার শুরু করেন। স্যাটায়ার করতে করতে একসময় বিষয়টি এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই CJP-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১ কোটি অনুসারী যুক্ত হয়।

CJP-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তাঁর আগমনের আশঙ্কায় বিমানবন্দর ও রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদসহ বিরোধী দলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা এই প্ল্যাটফর্মের সমর্থনে সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। এসব দেখে বলা যায়, তেলাপোকা হওয়াটা এখন এক ধরনের ‘ব্যাজ অব অনার’। এর মধ্যে এক প্রকার অরা-ফার্মিংয়ের বিষয়ও রয়েছে।

দলটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাসকে জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক গবেষক বিজেতা দাহিয়া এবং কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশুতোষ রাঙ্কাকেও মিডিয়া-যোগাযোগ সুসংহত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে X (সাবেক টুইটার)সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে আন্দোলনের প্রধান অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এর ফলে ডিজিটাল স্যাটায়ারের অধিকার নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আইনি লড়াইও চলছে।

অভিজিৎ দীপকে একটি বিশাল যুব মিছিলের নেতৃত্ব দিতে ভারতে ফিরে এসেছেন। নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত এই মিছিল জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে ধারাবাহিক অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

এ ছাড়া কোকরোচ জনতা পার্টির চলমান আন্দোলনের পাঁচটি মূল দাবি হলো: অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভায় মনোনয়ন নিষিদ্ধ করা, বৈধ ভোট মুছে ফেলার ঘটনায় UAPA-এর অধীনে ফৌজদারি শাস্তি নিশ্চিত করা, মোট আসন না বাড়িয়ে সংসদ ও মন্ত্রিসভায় ৫০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, আম্বানি ও আদানি মালিকানাধীন বড় মিডিয়া কনগ্লোমারেটগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা এবং দলত্যাগী রাজনীতিবিদদের ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সরকারি পদ গ্রহণ থেকে বিরত রাখা।

ভারতীয় তরুণদের তেলাপোকা বলে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। কয়েক কোটি তেলাপোকা একত্রে চাইলে সমাজের ভেতরে চলতে থাকা পদ্ধতিগত দুর্নীতির ভিত একেবারে খোকলা করে দিতে পারে—সেই বার্তা তারা ইতোমধ্যে দিয়ে ফেলেছে। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার যাত্রা।

 

১৪৮ পঠিত ... ১৩:৪৯, জুন ০৬, ২০২৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top