বাসা থেকে বের হওয়ার আগে মা কইল, আব্বা, দুইটা ভাত খায়া যা!
আমি কইলাম, মা, সময় নাই। আইসা খাবো, তুইলা রাখেন।
মা আমারে আব্বা ডাকে। নিজের আব্বারে ছোটকালেই হারাইছে। আমারে নাকি দেখতে তার আব্বার মতোই লাগে।
মা পিছে পিছে প্লেটভর্তি ভাত নিয়ে আসল। সাথে আছে আলুভর্তা, ঘি দেওয়া, একটা ডিম ভাজা, পেঁয়াজ আর মরিচ। এই খাবার আমার অনেক পছন্দের। বিরিয়ানির প্লেট পাশে রেখে আমি এই ভাত-আলুভর্তাই খেতে পারি।
পিছে পিছে আইসা জোর করে মুখে দুই গাল তুলে খাওয়াইল, তারপর পানি দিল। আমি ততক্ষণে জুতা-মোজা পরে নিলাম।
কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দৌঁড়ায়ে চলে গেলাম উত্তাল রাস্তায়। রাস্তায় আজ সমুদ্রের মতো ঢেউ। কেউ স্লোগান দেয়, কেউ ছবি তোলে, কেউ পানি-খাবার আগায় দেয়। ওই ঢেউয়ে আমিও ভাসলাম।
আমার সাথে কাঁধ মিলায় দাঁড়ানো এক ছেলে। চিনি না তাকে, জানি না তার নাম। তবু আমরা আজ ভাই-ভাই। শক্ত করে হাত ধরে আগায় যাচ্ছি।
হঠাৎ এক তীব্র ব্যথা বুকের বাঁ পাশে।
অসম্ভব তীব্র। ভীষণ যন্ত্রণা।
লুটায় পড়লাম রৌদ্রভর্তি তপ্ত রাস্তায়।
চোখ বুজে আসছে। কারা যেন আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
আমাকে কি বাসায় নিয়ে যাচ্ছে?
মায়ের মুখটা চোখে ভাসল। প্লেটে ভাত-আলুভর্তা নিয়ে অপেক্ষা করছে।
শেষবারের মতো চিল্লায় বললাম,
আমি মায়ের কাছে যাবো...
আমার মা অপেক্ষা করতেছে...
ভাত-আলুভর্তা নিয়া...



পাঠকের মন্তব্য