ওসিডি আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সিনেমা বানানোয় ক্রিস্টোফার নোলানকে ধন্যবাদ দিলেন বাংলাদেশ ওসিডি সমিতি

২৮ পঠিত ... ১২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে

ক্রিস্টোফার নোলানের বহু প্রতীক্ষিত মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। তবে নামের বানান ও উচ্চারণের সামান্য মিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।

বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাধারণ মানুষ ‘ওডিসি’ বলতে গিয়ে বারবার ‘ওসিডি’ উচ্চারণ করায় আমরা শুরু থেকেই বেশ আশান্বিত ছিলাম। কারণ, ওডিসিউসের দশ বছরের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, বারবার একই বিপদে পড়া, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকিছু হিসাব করা এবং মনের মধ্যে তৈরি হওয়া নানা অবসেসিভ বা আচ্ছন্নতার সাথে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মানসিক লড়াইয়ের হুবহু মিল রয়েছে। দর্শক যখন টিকিট কাটতে গিয়ে ‘ওডিসি’-র বদলে ভুলবশত ‘ওসিডি’ বলে ফেলছেন, তখন পরোক্ষভাবেই হলেও আমাদের চিরচেনা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাটি বিশ্বমঞ্চে দারুণ এক পবলিসিটি পেয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, নোলান সাহেব হয়তো আমাদের মনের কথাই জানতেন, তাই তিনি সিনেমার নামটা এমন রেখেছেন যেন সাধারণ মানুষ থিয়েটারে গিয়ে অজান্তেই ওসিডি-র সাথে পরিচিত হতে পারে। ওডিসিউস যেমন সাইক্লপসের গুহা থেকে বাঁচতে বারবার নিখুঁত ছক কষেছিলেন, তেমনি আমাদের রোগীরাও ঘর থেকে বের হওয়ার আগে চুলার চাবি বা দরজার লক বারবার চেক করেন। এই দুইয়ের মধ্যে আমরা গভীর দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক মিল খুঁজে পাচ্ছি।

বাংলাদেশ ওসিডি সমিতি আশাবাদী যে, এই নামের বিভ্রান্তির সুবাদে মানুষ অন্তত সিনেমা হলের অন্ধকারেই হোক আর টিকিটের কাউন্টারে নাম উচ্চারণ করতে গিয়েই হোক, ওসিডি শব্দটির সাথে পরিচিত হবে এবং এটি নিয়ে সমাজে চলা অনর্থক লজ্বা বা লুকোচুরি দূর হবে। ভবিষ্যতে নোলান সাহেব যদি কখনো কোনো চরিত্রকে দিয়ে বারবার হাত ধোয়ানো বা সিমেট্রি মিলিয়ে জিনিসপত্র গোছানোর ওপর কোনো স্পিন-অফ বা সিক্যুয়েল বানান, তবে সমিতিকে যেন চিত্রনাট্য পরামর্শক হিসেবে রাখা হয়—সেই দাবিও জানিয়ে রাখা হয়েছে।

 

২৮ পঠিত ... ১২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে

Top