মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ দেখে গত ঈদে দর্শকের মাথায় যে জট পাকিয়েছিল, তা কাটতে না কাটতেই দর্শকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিলেন ক্রিস্টোফার নোলান।
দর্শক এখন দাবি তুলেছেন, রইদ বোঝার জন্য যেমন গাইডের দরকার ছিল, নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ বোঝার জন্য এবার আস্ত একটা একাডেমিক কোর্স চালু করা প্রয়োজন।
রইদ সিনেমার সেই তালগাছ আর পাগলি বউয়ের জীবনদর্শন নিয়ে সাধারণ মানুষ যখন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে কুলকিনারা পাচ্ছিল না, ঠিক তখনই হল মাতাতে এসেছে নোলানের ওডিসি। দর্শকরা বলছেন, সিনেমা দেখতে এসে তারা এখন নিজেদের মহাকাশ গবেষণা বা প্রাচীন গ্রিক ভাষার ক্লাসে বসে আছে বলে মনে করছেন।
মিরপুরের এক দর্শক অভিযোগের সুরে বললেন, রইদ দেখে ভেবেছিলাম আর কোনো সিনেমা আমার মস্তিষ্ককে এভাবে চ্যালেঞ্জ করবে না। কিন্তু ওডিসির ফার্স্ট আওয়ার পার হওয়ার পর দেখি আমার মস্তিষ্ক নিজেই ট্রয় যুদ্ধের মতো ধ্বংস হয়ে গেছে। নোলান ভাই কি আমাদের অডিশন নিচ্ছেন, নাকি সিনেমা দেখাচ্ছেন?
অন্যদিকে, সিনেমাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক বিজনেস মডেল। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠছে ‘সিনেমা কোচিং সেন্টার’। সেখানে ব্যাচ ভিত্তিক শেখানো হচ্ছে নোলানের নন-লিনিয়ার টাইমলাইন কীভাবে হজম করতে হয় এবং সুমনের প্রতীকী ল্যান্ডস্কেপ দেখে কীভাবে গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। শিক্ষকরা বলছেন, যারা রইদ এর তালগাছের রূপক বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জন্য নোলানের টাইম ইনভার্সন বোঝা রীতিমতো রকেট সায়েন্স।
সিনেমা সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, নোলান এবং সুমন আসলে সিনেমার নামে বুদ্ধিবৃত্তিক জিমন্যাস্টিকস করাচ্ছেন। একজন দর্শক তো ক্ষোভের সাথেই বললেন, আগে সিনেমা মানে ছিল দুই ঘণ্টা শান্তি। এখন সিনেমা মানে দুই ঘণ্টা হেডফোন লাগিয়ে নোলানের টাইমলাইন ক্যালকুলেট করা আর সুমনের সাইলেন্সের ভেতর থেকে অর্থ খোঁজা। সিনেমা দেখতে গিয়ে যদি হোমওয়ার্ক করতে হয়, তাহলে স্কুল-কলেজ তো বন্ধ করে দিলেই হয়!
তবে নোলান ভক্তরা এসব কথা মানতে নারাজ। তাদের মতে, রইদ আর ওডিসি যারা বোঝে না, তারা আসলে সিনেমার মর্মই বুঝে না। পাল্টা জবাবে সাধারণ দর্শকরা বলছে, সিনেমা দেখার সময় যদি ডিকশনারি আর গুগল ম্যাপ নিয়ে বসতে হয়, তাহলে সেই সিনেমা দেখে সুখ কিসে?
এখন দেখার বিষয়, ঈদুল আজহার রইদ আর জুলাইয়ের ওডিসির ধাক্কা কাটিয়ে সাধারণ দর্শক কবে আবার সাধারণ কোনো সিনেমা দেখার সাহস সঞ্চয় করতে পারেন। আপাতত, টিকিটের সাথে সিনেমা বোঝার কুইক গাইড বা প্যারাসিটামল দেওয়ার দাবিটি বেশ জোরালোভাবেই উঠছে।


