বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই এক অদ্ভুত রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন দেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। ম্যাচ শুরু মানেই বাসার দরজা-জানালা বন্ধ, মোবাইল সাইলেন্ট, ফেসবুক লগআউট, আর সোজা ‘নিরাপদ গর্তে’ প্রবেশ। কারণ, প্রথম গোল না হওয়া পর্যন্ত কিংবা শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত ব্রাজিল সমর্থকদের সম্ভাব্য ট্রল, খোঁচা আর ‘এইবার তো শেষ’ জাতীয় ভবিষ্যদ্বাণী থেকে আত্মরক্ষা করাই এখন তাদের প্রধান কৌশল। তবে এই আত্মগোপনেরও নাকি একটা সীমা আছে। প্রতিটি ম্যাচে প্রায় ঘণ্টাখানেক গর্তে অবস্থান করতে গিয়ে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে এবার গর্তে এসি লাগানোর দাবি তুলেছেন আর্জেন্টিনা ফ্যানরা।
এক ভুক্তভোগী সমর্থক বলেন, দল জিতে যায় ঠিকই, কিন্তু ওই এক ঘণ্টা মনে হয় যেন মরুভূমিতে বসে আছি। বাইরে ব্রাজিল ফ্যানদের শব্দদূষণ, ভেতরে গরম। এটা কোনো সভ্য দেশের গর্ত হতে পারে না। আরেক সমর্থক বলেন, আমরা বিলাসিতা চাই না। শুধু একটা দেড় টনের ইনভার্টার এসি, সঙ্গে হালকা ওয়াই-ফাই আর মোবাইল চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা হলেই চলবে। ট্রল খেতে খেতে অন্তত ঠান্ডা থাকা যাবে।
এদিকে আর্জেন্টিনা ফ্যানদের পক্ষ থেকে আয়োজক কমিটির কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, ফাইনালের আগেই যেন এসির ব্যবস্থা করা হয়। কারণ, ফাইনালে কোনোভাবে একটা ঘটনা ঘইটা গেলে পরে চার বছর তো এই গর্তই স্থায়ী ঠিকানা হয়ে যাবে। তখন এসি ছাড়া জীবন একেবারে তছনছ হয়ে যাবে। তবে আশাবাদী সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, দল যদি জিতেও যায়, তারপরও প্রথমার্ধ পর্যন্ত গর্তে থাকতেই হয়, সুতরাং এসি আমাদের লাগবেই লাগবে। অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকরা এই দাবিকে 'অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের ভাষ্য, গর্তে থাকতে হলে কষ্ট করেই থাকতে হবে। এসি দিলে তো আর গর্তের আসল ফিলিং থাকে না, কেন আমরা থাকছি না।সবশেষে জানা গেছে, কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক ইতোমধ্যে নিজেদের গর্ত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে এসির পাশাপাশি রিক্লাইনিং চেয়ার, মিনিবার, পপকর্ন মেশিন এবং একটি ডিজিটাল স্কোরবোর্ড বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে শর্ত একটাই, মেসি গোল করলেই গর্তের দরজা অটোমেটিক খুলে যাবে, আর প্রতিপক্ষ গোল করলেই আবার নিজে থেকেই লক হয়ে যাবে, কথা একদম কিলিয়ার কোনো ভেজাল নাই।


