দুর্বল পাসপোর্ট থাকার ১০টি উপকারিতা

২৬৩ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে

লেখা: ফাহিম আনাম মেঘ

 

বিশ্ব পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। বাংলাদেশিদের এই সবুজ পাসপোর্টটি বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম দুর্বল পাসপোর্ট। পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের এই অভাবনীয় সাফল্য সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা চরমভাবে অক্ষুন্ন করলেও এর ইতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। চলুন জেনে নেই দুর্বল পাসপোর্ট থাকার উপকারিতাগুলো।

 

১. পাসপোর্ট সূচকের হালনাগাদ দেখার সময় কষ্ট করে বাংলাদেশ নামটা খুঁজতে হবে না। স্ক্রল করে সরাসরি একদম নিচে চলে গেলেই পাওয়া যাবে। সবাই শুরু থেকে দেখলেও আমরা নিজেদের ব্যতিক্রমী প্রমাণে নিচে থেকে দেশের নাম খুঁজব।

 

২. পুরো বিশ্বের কাছে নিজের দেশের নাম পৌঁছে দেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হবে। কারণ মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলে নজর এড়িয়ে গিয়ে ব্র্যান্ডিং না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুরুতে থাকতে না পারলেও একবারে শেষে থাকলে পুরো বিশ্ব সে বিষয়ে অবগত হবে।

 

৩. বিদেশ ভ্রমণের সময় কোনো দেশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মে বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারবেন না। তথ্য যাচাইকরণের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনাকে বসে থাকতে হবে। বৈশ্বিক মনোযোগের দৈর্ঘ্য প্রতিনিয়ত কমলেও এসব কারণে আপনার ধৈর্য্য উল্টো বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

 

. অহেতুক ঝামেলা এড়াতে বিদেশে ভ্রমণ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন। ফলে বাড়তি অর্থ খরচ করা থেকে বেঁচে যাবেন এবং চাইলে সেই টাকা দিয়ে কোনোদিন দেশে রাজনীতিতেও অংশ নিতে পারবেন।।

 

৫. বিশ্বসেরা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সবুজ পাসপোর্ট ছিটকে গেলেও বিশ্ব নিকৃষ্ট হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। চেষ্টা করলে সপ্তম দুর্বল পাসপোর্ট থেকে প্রথম দুর্বল পাসপোর্টের অধিকারী হওয়ার প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ। দুর্বল হলেও কোনোকিছুতে প্রথম হওয়ায় এটি নিঃসন্দেহে দেশের একটি অর্জন হবে।

 

৬. উত্তর কোরিয়ার মানুষ নিজেদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করবে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান উত্তর কোরিয়ার চেয়েও নিচে। এত কষ্টে থাকা মানুষগুলোও অনুপ্রেরণা হিসেবে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারবে।

 

৭. বৈশ্বিক সূচকে দেশের অবস্থান দুর্বল অর্থনীতি ও যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশগুলোর পাশাপাশি থাকায় তাদের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন আরও জোরদার হবে। ফলে প্রযুক্তি বা শিক্ষা খাতের মতো খাতগুলোর মানোন্নয়ন না করে বরং সকলে মিলে আরও বেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা উৎপাদন করতে পারবে।

 

৮. মোটামুটি শক্তিশালী অর্থনীাতি থাকলেও পাসপোর্ট কাণ্ডে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হবে। তাতেও দমে না গিয়ে সরকার মহল দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল ও তাদের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এসব বলে বাহবা কুড়োতে পারবে।

 

৯. বিদেশে যেতে না পেরে দেশে আটকা পড়ে মনে মনে দেশকে গালি দিলেও বাইরে নিজেকে খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন। দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে দেশে থেকে কিছু করতে না পারলেও একে দেশের প্রতি টান হিসেবে চালিয়ে দিতে পারবেন।

 

১০. দেশে পর্যটন খাতের মান ও পর্যটকের সংখ্যা না বাড়লেও বিদেশি ইনফ্লুয়েন্সারদের বাংলাদেশে এসে সুন্দর সুন্দর ক্লিকবেইট ভিডিও বানানোর সংখ্যা বাড়বে। দেখুন পশ্চিমা মিডিয়া কত খারাপভাবে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেও আসলে বাংলাদেশ কত সুন্দর! দেখুন দেখুন!

২৬৩ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে

Top