অবশেষে ইন্টেরিম সরকার সফলভাবে ভোটের আয়োজন করেই ফেলেছে বলা যায়। চারিদিকে একটা উৎসব উৎসব সাজ। এই মহোৎসবের ক্ষণে আপনাদেরকে একটু মনে করিয়ে দিতে এসেছি বাংলাদেশের ভোটের চিরন্তন ঐতিহ্যগুলো।
মৃতদের ভোট
এই সরকার এবার বেশ কয়েকবার বলেছে মৃতদের এবার আর ভোট দিতে দেখা যাবে না! কিন্তু আবহমান বাংলায় বহুবছর ধরে মৃতরা ভোট দিয়ে আসছেন। এমনকি অনেকে ভোটের আগের রাতে কবরস্থানে দাঁড়িয়ে থেকে নিজেদের মৃত দাদা, দাদী, নানা, নানী ও আত্মীয়দের সাথে দেখাও করতে পারতেন। তাই এই ঐতিহ্যটি বেশ জনপ্রিয়।
ব্যালট ভর্তি রেডি বাক্স
বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসের আরেকট ঐতিহ্য হলো ব্যালট পেপার ভর্তি রেডি বাক্স নির্বাচন কেন্দ্রে আসা। এতে ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কষ্টও কম হয়। অলরেডি সিল মারা ব্যালট নিয়ম মেনে বাক্স ভর্তিই থাকে, এবং সবাই ফলাফল আগে থেকেই জানেন, তাই গণনার কষ্টও করতে হয় না।
এক ভোটারের একাধিক ভোট
ভোট দিতে মজা লাগে না খুব? তাইলে একজন কেন শুধু একটাই ভোট দিতে পারবে বলেন তো? এ অন্যায় মেনে না নিয়ে তাই অনেক সময়ই আমরা দেখতে পেয়েছি একজন ব্যক্তি একাধিক ভোট দিয়েছে! সর্বোচ্চ ভোট দেওয়ার অফিসিয়াল কোনো রেকর্ড রাখা হলে এতদিনে নিশ্চয়ই আমরা আরেকটা রেকর্ড পেতাম!
রাতের ভোট
দিনের বেলায় ভোট তো খুবই নরমাল ব্যাপার। আমরা হলাম বাঙালি। আমরা কেন এরকম নরমালি ভোট দেব? তাছাড়া রাতের অন্ধকারে ভোট দেওয়াটা খুবই অ্যাডভেঞ্চারাস একটা ব্যাপার। অন্ধকারে কোন মার্কায় সিল পড়ল তা কেউ জানতে পারবে না। শুধুমাত্র রেজাল্ট ঘোষণা হলেই জানা যাবে। আর এর মাঝের যে এক্সাইটিং সময়টা যে কে আসে সরকারে তার কোনো তুলনাই নাই! অ্যাডভেঞ্চারাস জাতি হিসেবে আমাদের রাতের ভোট তো আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হবেই।
‘আপনার ভোট হয়ে গেছে’ ভোট
ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেলে হন্তদন্ত হয়ে ভোটের কেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন যে হাসিমুখে একজন এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করে জানাল, ভাই আপনার ভোট তো হয়ে গিয়েছে। আপনি একটু অবাক হলেও নিশ্চয়ই আপনার বেশ শান্তি লাগবে, কষ্ট করে ভোট দিতে হবে না। বাসায় যেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন! ঘুমকাতুরে, অলস মানুষদের জন্য এই অসাধারণ এই ভোটের ঐতিহ্য কেবলমাত্র আমাদেরই আছে!
আমি vs ডামি ভোট
ধরেন কোনো এলাকায় কেউ একজন প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তার বিপরীতে কেউ যদি না দাঁড়ায় তাহলে ব্যাপারটা কেমন দেখায় না? আর মাঠে একা খেলতে কি কারও ভাল্লাগে? শইল্লে একটা জোশ আসার ব্যাপার আছে না? তাই প্রার্থী নিজের আলতো ভাই, তালতো ভাই টাইপের কাউকে খুব করজোড়ে অনুরোধ করে তার বিরুদ্ধে দাঁড় করাতেন। তারপর সবাই খুব টেনশন করত, ভোটের আমেজ ফিরে আসত!



পাঠকের মন্তব্য