আমারে নিবা মাঝি

১৪৬ পঠিত ... ১৮:০০, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
28 (1)
তখনো ভোর হয়নি; ফজরের নামাজ পড়তে মুসল্লিরা মসজিদের দিকে যাচ্ছে। চারিদিকে ঠান্ডা বাতাস। নিউ মার্কেটের সামনে ডালি, কোদাল আর মোবাইল ফোন হাতে ভাসমান শ্রমিকের ভিড়।
 
শ্রমিক ভাড়া করতে এসেছে চৌধুরী সাহেবের লোকেরা। তারা দেখে নিচ্ছে কোন পুরুষ শ্রমিকের হাতের কবজিটা চওড়া; পেশী মজবুত, চোয়ালের কাছে তিল; পুরু ঠোঁট; কোন নারী শ্রমিকের আঁচল পেচানো কোমরে দড়ির মতো শক্তি; কার গলার জোর সি শার্পে।
 
একজন শ্রমিক এগিয়ে এসে বলে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আমি জুলাই বিপ্লবীদের 'দায়মুক্তি' নিয়ে আনন্দবাজার ও ডয়চেভেলেতে প্রশ্ন তুলেছি। আমাকে নিয়ে যান; আমাকে আপনাদের লাগবে।
 
আরেকজন শ্রমিক এগিয়ে এসে বলে, আমি টকশোতে আবঝাব যুক্তি দিয়া প্রতিপক্ষরে বসাইয়া দিতে পারি। অনেক জোরে চিতকার করতে পারি। কথায় কথায় 'রাখেন মিয়া' বলে অন্য বক্তাদের থামিয়ে দিতে পারি। আমি শিওর শট।
 
এক শ্রমিক করুণ চোখে তাকিয়ে বলে, আমি মাদ্রাসায় পড়েছি। তারপর শিবব্রত দাদার প্রশিক্ষণ পেয়েছি। মাদ্রাসার ছেলেদের ঘায়েল করতে আমাকে আপনাদের লাগবেই।
এক নারী শ্রমিক এগিয়ে এসে বাজখাঁই কন্ঠে চেঁচিয়ে ওঠে, আমি আগে এনজিওতে কাজ করতাম, কথায় কথায় 'মিসোজিনি' 'মিসোজিনি' বলে চেঁচাতে পারি। চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় করে; আপনাদের প্রতিপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিতে পারবো।
 
এক গালভাঙ্গা লোক পাশ থেকে বলে, আমি কার্ল মার্কসের দিব্যি দিয়ে বলছি; কুঁচকুঁচানিতে আমার চেয়ে বেশী পারদর্শী আর কেউ নেই। সারাদিন কুঁচকুঁচ করে আপনাদের প্রতিপক্ষের ছিদ্রান্বেষণ করার জন্য একটি অতশী কাঁচ আমার কাছে আছে; এই দেখুন।
 
এক মুষকো লোক মাথা নাড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, আমি পিএইচডি ফেলো। পণ্ডিতদের নেম ড্রপিং আর উদ্ধৃতি দিয়ে অনেক একাডেমিক আর্টিকেল লিখেছি। মসজিদের হুজুরের আরবি কোটেশন শুনে শ্রোতা যেমন মুগ্ধ হয়; আমার ইংলিশ কোটেশন শুনে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের লোকজন তেমনি মুগ্ধ হয়। দুনিয়ার হেন বিষয় নাই; যা নিয়ে ভাটের আলাপ করতে পারিনা। আমাকে ভাড়া না করলে আপনারা ভুল করবেন।
 
এক ডাকাবুকো লোক হাত তোলে, আমার নানী বেড়ার ফাঁকে ফুচকি দিয়া পাড়ার লোকের অন্দরমহলের খবর নিয়া কলতলায় আইসা ফাঁস করতো। আমি অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসাবে আপনাগো প্রতিপক্ষের বেড রুমে ফুচকি দিয়া ভিডিও আইনা দিতে পারি। লাগলে বইলেন। জায়গায় বইসা আওয়াজ দিবেন।
 
আরেক মুখরা মেয়ে এগিয়ে এসে বলে, জেন্ডার ব্যালান্স রাখুন; আমি কিন্তু অনেক জোরে শ্লোগান দিতে পারি। ফেসবুকে গালি দিয়ে ভুত ছুটিয়ে দিতে পারি। আমার প্রগতিশীলতার ট্রেনিং আছে; দেখে তপশীল মনে হলে আন্ডার এস্টিমেট করবেন না। আপনাদের একসপ্তাহের মধ্যে প্রগতিশীলতার সার্টিফিকেট জোগাড় করে দিতে পারি।
 
এক অভিনেতা পাশ থেকে বলার চেষ্টা করে, প্রণয় ভবনে আমার নিয়মিত যাতায়াত আছে। এ শর্মাকে কাজে লাগান। আমি বিশ্বকর্মা; অগ্নিহোত্রীকে আপনাদের সঙ্গে ফিটিং করে দেবো। লাগবে নাকি মাথুরকে! ল্যান্ড স্লাইড ভিক্টরি এনে দিতে পারে মাথুরদা; উনি আমায় ভীষণ স্নেহ করে।
 
সবশেষে আরেক শ্রমিক এগিয়ে এসে বলে, আমি 'না' ভোট জোগাড় করে দেবো আপনাদের। আপনাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদারি বাঁচাতে 'না' ভোটকে বিজয়ী করতেই হবে। বাঁচতে চাইলে আমাকে নিতে হবে; নইলে লঞ্চো যাবে পঞ্চো যাবে।
 
হাতে একটা ডিমের ঝুড়ি নিয়ে এগিয়ে আসে উশকো খুসকো একটা লোক, ডিম নেবেন গো পচা ডিম; জুলাই বিপ্লবীগো ইলেকশন ক্যাম্পেইনে মারার জন্য নিয়া যান।
১৪৬ পঠিত ... ১৮:০০, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top