১৯৭১, মার্চ মাস। ঘুলামের মনটা খুব আনচান করছে। 'দ্যাশে এইবার কুচ না কুচ হোয়েঙ্গা' স্বগোতক্তি করলো সে। পাশ থেকে বন্ধু আজম জিজ্ঞাসা করলো, কিছু বললি?
না, না কিছু বলিনি। ভালো লাগছে না রে, মনটা খুব আনচান করছে দেশের এই পরিস্থিতির কথা ভেবে।
দেশের জন্য বন্ধুর এই টান ছুঁয়ে গেল আজমকেও। সে আপ্লুত হয়ে বললো, 'চল বেঁচে দেই!'
: ছিহ আজম! তুই না দেশের সন্তান? এমন ভাবতে পারলি?
: তুই ভুল বুঝলি, আমি তো আমার পুরোনো খাটটা বিক্রি করার কথা বলেছি। সেই অর্থ দিয়ে একটা পিস্তল কিনবো। বলা যায়না কখন অস্ত্র ধরি, যুদ্ধ করি , মাতৃভূমির জন্য।
এমন সময় দুলতে দুলতে হিজামী এল, ওর মুখটা হাসি হাসি। এসেই বললো, সব সেটেল করে ফেলেছি। সাইদ নিজে কনফার্ম করেছে। হাম লারেঙ্গে সবকুছ!
চকিত চিত্তে আজম জিজ্ঞাসা করলো, কী?
হিজামী: না মানে আমরা সবকিছু দিয়ে লড়বো। যুদ্ধ কি দিনদিন হয় নাকি? ঐ তো সাইদ চলে এসেছে।
সাইদ: শুনো সাবলোক, কুচ পানে কি লিয়ে কুচ দেনা পারতাহে। হাম উড়না চাতাহু, দউড়না চাতাহু, গিরনাভি চাতাহু, ব্যস ঝামেলা নেহি চাতাহ!
হিজামী: ক্যা?
সাইদ: জানাম সামঝা কারো, জানাম সামঝা কারো!
ঘুলাম: একটু পরিষ্কার করে বলো।
সাইদ: যুদ্ধ যে দেশে একটা হতে পারে এ ব্যাপারে তো আমরা নিশ্চিত। আমাদের প্রয়োজন সকল রকম প্রস্তুতির। প্রতিপক্ষের সাথে আমাদের আলোচনা হয়ে গেছে।
ঘুলাম: তাই নাকি?
সাইদ: হ্যাঁ।
হিজামী: কীরকম?
সাইদ: আমরা যুদ্ধ করব। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমাদের একটা ঘাঁটি এখানে আরেকটা হবে চাঁদে যাতে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে পারি। ঘাঁটি দুটোর নাম হবে দানাদার বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও মুন রেজিমেন্ট। মুনে সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো আমি।
ঘুলাম: এসো, তোমার পিঠ চাপড়ে দেই। তুমি আমাদের গর্ব।
হিজামী: কয়েক দশক পর তোমার জাতি দেশ থেকেই তোমায় দেখতে পাবে এমন ভাবে ঘাঁটি করবে।
এমন সময় সাইকেলের টায়ারকে লাঠি দিয়ে বাড়ি দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আসলো ছোট্টো শফিকুল। ওনাদের কথোপকথন শুনে সে উৎফুল্ল হয়ে উঠল। হাত মুঠো করে মাইকের ভঙ্গি করে বললো, তাহলে আমি হব যোদ্ধাদের ঘরের সন্তান? মারহাবা! মারহাবা!



পাঠকের মন্তব্য