আমার মুখ বন্ধ করার শত চেষ্টা করলেও আমি একশোবার বলব- লাঠি হাতে সর্বমিত্র চাকমাকে আমার হ্যারি পটার বলে মনে হয়। কারণ:
১. হগওয়ার্টসে হ্যারি পটার হঠাৎ এসেছিল, সর্বমিত্রও হঠাৎ ঢাবিতে এসেছেন।
২. হ্যারি পটারকে স্লিদারিনের কেউ দেখতে পারত না, সর্বমিত্রকেও বামরা দেখতে পারে না।
৩. অসংখ্য শত্রুর মধ্যেও হ্যারি পটারের কিছু মিত্র ছিল, অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বেরও তেমন মিত্র আছে।
৪. হ্যারি পটার চোখে চশমা পরত, সর্বমিত্রও চশমা পরেন।
৫. হ্যারি পটার পেয়েছিল প্রফেসর ডাম্বলডোরের অঢেল ভালোবাসা ও স্নেহ। সর্বমিত্রও পেয়েছেন মোনামী ম্যামের অশেষ ভালোবাসা ও স্নেহ।
৬. হ্যারি পটার ছড়ি হাতে ডিমেন্টরদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছে, সর্বমিত্রও মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসজুড়ে লাঠি হাতে ডিমেন্টরদের তাড়িয়ে বেড়ান।
৭. হ্যারি পটার সাপ-জোঁকের ভাষা বুঝত, সর্বমিত্রও আওয়ামীলীগ সাপোর্টার সবার মনের ভাষা বোঝেন।
৮. হ্যারি পটারের কোনো লোভ ছিল না, এল্ডার ওয়ান্ড হাতে পেয়েও সে সেটা ভেঙে ফেলে দিয়েছিল। সর্বমিত্রেরও ক্ষমতার প্রতি লোভ নেই। একটা ইন্টারভিউতে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ডাকসুর পর তার রাজনীতিতে আসারও ইচ্ছা নেই, তিনি ক্ষমতা চান না।
৯. ভল্ডেমর্ট নিজের হরক্রাক্স হগওয়ার্টসে লুকিয়ে রেখেছিল, হ্যারি পটার তা খুঁজে খুঁজে ধ্বঃস করেছে। শেখ হাসিনাও নিজের অসংখ্য হরক্রাক্স ঢাবিতে লুকিয়ে রেখেছিল, সর্বমিত্র লাঠি হাতে তা খুঁজে খুঁজে বের করে ধ্বঃস করছেন। [সর্বশেষ তিনি কয়েকটা ছোট ছোট হরক্রাক্সকে কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছেন।]
১০. ভল্ডেমর্টকে ধ্বঃস করার জন্য হ্যারি পটার এমন একটা সংগঠনের আশ্রয় নিয়েছিল, যে সংগঠনের প্রধান একজন নিজেই ছিল ডাবল এজেন্ট। সর্বমিত্রও হগওয়ার্টসকে শত্রুমুক্ত করার জন্য এমন একটা প্যানেলের আশ্রয় নিয়েছেন, যে প্যানেলের প্রধান একজন ডাবল এজেন্ট।
১১. হ্যারি পটার দিনশেষে জিতেছিল। সর্বমিত্রও রাতশেষে জিতেছেন।
সর্বমিত্র কারোর চোখে খারাপ, কারোর চোখে হ্যারি পটার৷ একটা মানুষ সবার কাছে খারাপ হতে পারে না, সবার কাছে ভালোও হতে পারে না। সর্বমিত্র যা করছে, বহিরাগতদের জন্য তা মন্দ, আওয়ামীলীগের জন্য তা মন্দ, কিন্তু হগওয়ার্টসের শিক্ষার্থীদের জন্য তা ভালো। এইজন্য প্রিয় লেখক, হু.কে রাউলিং তার হ্যারি পটার এন্ড দ্য মেম্বার অফ সিক্রেটস বইয়ে লিখেছিলেন- পৃথিবীতে অসংখ্য ভালো স্পেকট্রো আছে, কিন্তু একটাও খারাপ পেট্রোনাম নেই।


