লেখা: ইশতিয়াক আহমেদ শোভন
আজ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় বড় করে লেখা ‘প্রপোজ ডে’, অথচ বাস্তব জীবনে প্রপোজালের চেয়ে ‘ডিস্পোজাল’ হওয়ার সংখ্যাই বেশি। ভালোবাসা দিবসের এই দ্বিতীয় দিনটি মূলত তাদের জন্য, যারা সারা বছর নীরব থেকে হঠাৎ একদিন বীরপুরুষ সেজে প্রত্যাখ্যাত হতে ভালোবাসেন।
চলুন, আজকের এই মহান দিনটিকে একটু টিনের চশমায় দেখে নিই:
১. রাস্তায় যে জ্যাম, তাতে প্রপোজ করার জন্য কোনো রেস্টুরেন্টে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আপনার প্রেমিকা হয়তো অন্য কারো সাথে এনগেজমেন্ট সেরে ফেলবে। ঢাকার রাস্তায় জ্যামে বসে আপনি যখন গোলাপ হাতে ঘামছেন, তখন পাশের বাসের হেল্পার চিল্লিয়ে বলছে, বামে চাপান, আগে বাড়েন!
ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার মনে হতে পারে, প্রিয়তমাকে প্রপোজ করার চেয়ে ট্রাফিক পুলিশকে যদি একটু ‘প্রপোজ’ করে জ্যামটা ছাড়ানো যেত, তবে জীবনটা সার্থক হতো। আসলে এই শহরে প্রেমের চেয়ে সিগন্যাল ছাড়া পাওয়া বেশি কঠিন।
২. বসের ঝাড়ি খেয়ে যখন আপনার মুখটা বাংলার পাঁচের মতো হয়ে আছে, তখন হোয়াটসঅ্যাপে প্রেমিকার মেসেজ, আজ তো প্রপোজ ডে, কই তুমি?
আপনার ইচ্ছা করবে বসকে গিয়ে বলতে, স্যার, অনেক তো ফাইল দিলেন, এবার একটু ছুটি দিয়ে ভালোবাসাটা প্রপোজ করতে দিন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আপনি বসকে প্রপোজ করতে পারেন শুধু পদত্যাগের জন্য। আর প্রেমিকার কাছে আপনার প্রপোজালটা অনেকটা ‘অডিট রিপোর্ট’ পেশ করার মতো... ভুল হলেই চাকরি (মানে রিলেশন) শেষ!
আমাদের দেশে প্রপোজাল দুই প্রকার:
টাইপ এ: প্রেমিকার কাছে বিয়ের প্রস্তাব (যা প্রায়ই ঝুলে থাকে)
টাইপ বি: প্রার্থীর কাছে ভোটারের ভোট চাওয়ার প্রস্তাব (যা শুধু নির্বাচনের আগেই শোনা যায়)
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য প্রার্থী যেভাবে ভোটারের পা ধরে ‘প্রপোজ’ করে, ‘এবার একটা সুযোগ দিন, সব করে দেব,’ ঠিক একইভাবে প্রেমিকরা প্রপোজ ডে-তে বলে, ‘একবার হ্যাঁ বলো, চাঁদ-তারা এনে দেব।’ মজার ব্যাপার হলো, নির্বাচনের পর প্রার্থী যেমন ভোটারকে চেনে না, বিয়ের পর প্রেমিকও তেমনি চাঁদ-তারা তো দূরে থাক, ঠিকমতো আলু-পেঁয়াজও এনে দেয় না!
কিন্তু কেন এই দিনটি 'ভয়ংকর'?
প্রপোজ ডে হলো এক ধরনের ওপেন-মার্কেট রিস্ক। আপনি ইনভেস্ট করছেন ফুল আর চকলেট, কিন্তু রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে পেতে পারেন:
: আমরা কি শুধুই বন্ধু হতে পারি না?
: বাসায় কথা বলে জানাবো। (যা কখনোই জানানো হয় না)
: কিংবা স্রেফ 'সিন' করে রেখে দেওয়া।
প্রবাদ আছে: নির্বাচনের ইশতেহার আর প্রপোজ ডে-র প্রতিশ্রুতি: দুই-ই শুনতে মধুর, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে গেলেই ট্রাফিক জ্যামে আটকে যায়।
আপনার জন্য টিপস:
আপনি যদি আজ কাউকে প্রপোজ করার কথা ভাবেন, তবে মাথায় রাখবেন:
১.বাজেট: মুদ্রাস্ফীতির বাজারে গোলাপের দাম যা, তাতে প্রপোজ করার চেয়ে লোন নেওয়া সহজ।
২.ব্যাকআপ প্ল্যান: যদি রিজেক্ট হন, তবে বলবেন, আরে ওটা তো ২০২৬-এর নির্বাচন নিয়ে মহড়া দিচ্ছিলাম!
পুনশ্চ: যদি আপনার প্রপোজালটি 'পেন্ডিং' লিস্টে চলে যায় বা সরাসরি 'রিজেক্টেড' হয়, তবে মোটেও বিচলিত হবেন না। মনে রাখবেন, প্রপোজ ডে-তে না বলা মানেই কিন্তু হার মেনে নেওয়া নয়; বরং এটা হলো আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য এক ধরণের রাজনৈতিক কৌশলী অবস্থান।
আসলে এই ব্যস্ত শহরে প্রেমটা এখন অনেকটা শেয়ার বাজারের মতো...সকালে সূচক চড়া (গোলাপ আদান-প্রদান), দুপুরে দরপতন (অফিসের বকা আর জ্যামের ক্লান্তি), আর বিকেলে একদম ধস (যদি সে বলে, "আমি তোমাকে শুধু ফ্রেন্ড হিসেবে দেখি")। তাই পকেটে গোলাপ থাক আর না থাক, অন্তত একটা হাসি ধরে রাখুন। কারণ, আজ যদি কেউ আপনাকে 'না' করে দেয়, তবে আপনি অন্তত বেঁচে গেলেন।ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে ডিনার ডেটে যাওয়ার বিলটা তো সাশ্রয় হলো! এই দুর্মূল্যের বাজারে এর চেয়ে বড় 'রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট' আর কী হতে পারে?



পাঠকের মন্তব্য