ভারতভতৃকা

৩৩ পঠিত ... ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে

প্রণয় ভবনের অনুষ্ঠানে শাকান্ন খেয়ে প্রণয়দার সঙ্গে সেলফি তুলে ফেরার পথে হাসিনার জন্য প্রাণ কেঁদে ওঠে বামব্রতীর। সারারাত বিছানায় এপাশ ওপাশ করে; সকালে উঠে ফেসবুকে স্টেটাস দেয়, সকাল থেকে কাঁদছি; হুজুগের মাথায় কী যে হারিয়েছি আমরা; আপনারা সবাই বুঝবেন। প্লিজ তাকে ফ্যাসিস্ট বলবেন না। প্রাইম মিনিস্টার বলুন।

স্টেটাসের কমেন্টে লোকজন এসে ধুয়ে দিলে বামব্রতী রাগে গটর গটর করতে করতে তাদের বটর বলে। শিবব্রত দাদা তাকে ইনবক্সে ডেকে বলে, উনাকে যদি ফেরাতে চাও; তাহলে সংখ্যালঘু কার্ডের পাশাপাশি নারী কার্ড খেলতে হবে। শিগগিরই ঝাড়ু লইয়া রাজুতে আইসো।

–ও দাদা, প্রণয়দা বললেন, ভারত এবছর মাত্র ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে; ওদিয়ে আমাদের এতগুলো মানুষের বছর চলবে কী করে!

–আন্দোলন সংগ্রাম করতে গেলে একটু কষ্ট তো করতেই হবে। এখন থেকে অনশনের প্রোগ্রাম বেশি রাখতে হবে; যাতে খরচ কম হয়।

মাত্র ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের খবরটা বিদ্যুৎ ঝলকের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের গদি মিডিয়া হাউজগুলোতে। ডেস্কে ডেস্কে রুদালিদের কান্নার মাতম ওঠে।

নতুন হেড অফ দ্য নিউজের দায়িত্ব পাওয়া রহমত ভাই এসে বলে, আমি শুধু অবাক হয়ে যাই, ভুটানের ভারতভতৃকাদের জন্য ৮০০ কোটি; নেপালের ভভদের জন্য ১৮০ কোটি; আর আমাদের ভভদের জন্য মাত্র ৬০ কোটি টাকা। ভেব না; আমি পা পূজা করে দেশ থেকেই তোমাদের জন্য কিছু প্রসাদ নিয়ে আসব। তোমরা খুব ভালো করে 'না' ভোটের ক্যাম্পেইন করো।

চালিয়াত অনলাইন মিডিয়া, জরিপকারী এনজিও ৬০ কোটির দুঃসংবাদ শুনে আই আর আই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে অ্যাকাউন্টস-এ কর্মরত বাজেট গাঙ্গুলি বলে, দেখি কী করা যায় আপনাদের জন্য। ঠিকমতো সংখ্যালঘু ও নারী কার্ড খেলতে পারলে একটা কিছু ম্যানেজ হয়ে যাবে। আপনারা ভভদের হৃদয় ভেঙ্গে যেতে দেবেন না।

নতুন হেড অফ দ্য নিউজ রহমত ভাই আগের হেড অফ দ্য নিউজ সহমত ভাইয়ের মতোই নতুন যুগের খোকন, পলক, নওফেল, আরাফাতের মতো বাহুবলী টু পয়েন্ট ও'দের সঙ্গে গ্লোরিয়া জিনসে কফি ও পেস্ট্রি খেয়ে ফেসবুকে সেলফি দিতে থাকে; নিউজরুমে বসে তৃষ্ণার্ত ভভ কাকেরা ভাই ভাই করে লাইক দিয়ে এগিয়ে দেয়। অন্যদের সামনে নিজের অথোরিটি দেখাতে রহমত ভাই নিউজরুমে ফোন করে, ব্রেকিং নিউজ দিয়া দেও বাশার, আজান পড়তেই রাজকুমারী মাথায় ওড়না টেনে দিলেন।

একাত্তর জার্নালের হোস্ট আপ্পির মতো পঁচাত্তর জার্নালের হোস্ট আপ্পি নিজ দলের তিনজন গেস্ট এনে একজন জুলাই বিপ্লবীকে ডেকে কচলাতে থাকে। ঢুলু ঢুলু চোখে তাকিয়ে পঁচাত্তর জার্নালের আপ্পি একাত্তর জার্নালের আপ্পির নিয়তি বরণ করতে থাকে।

টিভি টকশোতে নতুন যুগের অপু উকিল আপা এসে নারী কার্ড খেলে বলে, খবরদার আমাকে মা-বোন বলবেন না; ম্যাডাম বলে ডাকুন।

জুলাই বিপ্লবীদের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার ছুরি দিয়ে কেটে দিয়ে গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর ও মির্জাপুরের রুপার ছেলেরা ইউনিভার্সিটি অফ নেশাপুরে এসে বোতল খুলে বসতেই; কোত্থেকে যেন খুশিজল মিত্র এসে লাঠি উঁচিয়ে বলে, হ্যান্ডস আপ!

৩৩ পঠিত ... ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top