লেখা: সাবিহা সুলতানা
সোনার দেশ বাংলাদেশ। যেদিকে তাকাও শুধু উন্নয়নের জোয়ার। এরই এক জ্বলন্ত প্রমাণ আমাদের ম্যানহোলগুলো। শুধু ঢাকায় নাকি ৬৫,০০০-৭০,০০০ ম্যানহোল রইছে। কত উন্নত আমরা তাই না? কিন্ত সমিস্যা হইল, এর কতগুলোর ঢাকনা আছে আর কতগুলোর নেই এই সম্পর্কে এই দেশের প্রহসনের থুড়ি, প্রশাসনের কাছে কোনো খবর নেই। কারণ আসল মগের মুল্লুক তো ভাই আমাগে এডাই। ঐযে রাখাইনরা এসে বসে রইছে আমাগে দেশে ওরা জানে না তাই রক্ষে। নালিপারে নিজেরাও থাইকে যেত আর বাকিগুলোরেও টাইনে আনত।
যাক যা কচ্ছিলাম, আমাগে প্রহসনওলাগে তো রাস্তায় হাঁটা লাগে না তাই তাগে এসব হাবিজাবি জানারও তেমন কোন প্যারা নাই। প্যারাডা আসলে আমাগে... আমরা যারা pneumonia এর p আরকি! আছি, সব সময়ই থাকব, কিন্তু গুনতিতে পড়ব না। তাই আমরাই খালি রাস্তায় হাঁটি-চলি, আমাগে কাচ্চাবাচ্চাগুলো রাস্তা দিয়ে দিনভর হুড়মুড়োয় বেড়ায় আর দুদিন-চারদিন বাদে বাদে একখান করে হুঁশ হয়ে যায় অই গহব্বরের মদ্দি। ওগে কথা কচ্ছি, এর আগে আমরাও হাওয়া হয়ে যাতি পারি ওর মদ্দি।
তালি কি কত্তি হবে? আসেন... ভালবাইসে ফেলাই...ম্যানহোল গুলোরে। কীভাবে?
দিনে-রাত্তিরে বাইরে তো আমরা বেরোই, যখন যেখানে যাই আসি সেই রাস্তায় যতগুলো ম্যানহোল পড়ে সেগুলোর সাথে ইট্টু বাতচিত করে ফেলাই। তাগে সাথে চিন-পরিচয় হলো… আমাগেও এট্টু মনের কথা কয়ে ফেলা হলো।
নিজেগে ভিতরে যখন এট্টু ভাব হলো হলো, তখন ওগে মাঝে-সাঝে এট্টু গিফট দিলাম, কিছু ময়লা, কিছু তরকারির খোসা, চকলেট -চিপ্সের প্যাকেট এইসব আরকি।
তারপর ভাব-ভালবাসা এট্টু গাঢ় হলি পরে নিজের পরিবার-পরিজনগে সাথে পরিচয় পর্বটা সাইরে ফেলতি হবি। কী জন্যি? সবার সাথে পরিচয়টা ঠিকঠাকমতো থাকলি পরে ওরা সবাইরে চিনবি। ওগে ভালবাসলি পরে ওগে যত্নও নেব, তাই না? ভালবাসার তো সিডাও শর্ত। আর ওরা তো আর মানুষ না, ওগে মনুষ্যত্ব আছে। পরিচিত ভাব-ভালবাসার লোকজনরে নিজের গর্তে ঢুকোয় নেবে না বলেই মনে হয় আরকি। তালি হঠাৎ করে এক্সিডেন্ট-ফেক্সিডেন্টগুলো হবে নানে। ওগে ভালবাসলি পরে ওরাও ভালবাসা ফেরত দেবেনে। মানে এগুলো আশা আরকি। এসব করে করেই নিজেগে দৈনন্দিন নানা ঝায়-ঝামেলা থেকে বাঁচায় রাখতি হবি। দেশটা আমাগে নিজের, থুয়ে তো আর কোথাও চইলে যাওয়ার কায়দা নেই। তাই এহেনে বাঁইচে থাকার উপায়ও নিজেগেই কইরে নিতি হবি, তাইনে?



পাঠকের মন্তব্য