লেখক:তৃষিয়া নাশতারান
নারী দিবস বিরক্ত লাগে আমার। 'আমি নারী, আমি সব পারি' শুনলে গা গুলায়। 'তুমি নারী, তুমি মহান' শুনলে পেট মোচড়াতে থাকে। বেগুনি জামাকাপড়, ফুল, চকলেট দেখলে ঠা ঠা করে হাসি পায়। নারী দিবস আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে নারী এখনো ঊনমানুষ, এখনো সমতা আসে নাই। অথচ পুরুষের সমান আমি হতেই চাই না। আমি বিশ্বাস করি যুদ্ধবাজ দামড়া খোকাবাবুদের হাত থেকে গোলাবারুদ ছিনিয়ে নিয়ে দুনিয়ার নেতৃত্ব নারীদের হাতে তুলে দেয়া উচিত।
ভারতীয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি কবে কোথায় যেন বলেছিলেন যে পুরুষ যুদ্ধ করে, কারণ পুরুষদের সন্তান পালতে হয় না। খুব হেসেছিলাম শুনে। কারণ খুব সত্য মনে হয়েছিল কথাটা।
আমার এক বন্ধু কথায় কথায় একদিন বলেছিল কোনো একদিন তার গুরু সরকারপ্রধান হবে আর সে তখন তমুক পদে থাকবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তখন আমি কী হবো?"
বন্ধু বললো, "তুমি দাদী হবা।"
আমি হাসলাম - "বাহ! তুমি উঁচু পদে থাকবে আর আমি দাদী হবো?"
সে বললো, "বাচ্চা পালা সহজ মনে হয় তোমার?"
বললাম - "না। সহজ মনে হয় না। দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ মনে হয়। আমি চাই পুরুষেরা বাচ্চা পালুক। আমি ঘরের বাইরে কাজ করতে চাই। ঘরের বাইরে অনেককিছু করতে চাই আমি। আমার জন্য সেটা সহজ।"
তো, এই হলো আমাদের বন্দোবস্ত। পুরুষ সরকার চালাবে, পুরুষ ক্ষমতা ঘাঁটাঘাঁটি করবে, পুরুষ নারীকে মাহাত্ম্যের মুকুট পরিয়ে ঘরে থাকতে বলবে। তারপর নারী দিবসে হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেবে। এই নারী দিবস দিয়ে, এই নারী জনম নিয়ে আমি কী করব?
এ বছরের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো #GiveToGain। কিছু অর্জন করার জন্য কিছু দান করতে হবে, কিছু মুনাফার জন্য কিছুটা বিনিয়োগ করতে হবে।
কী দান করবেন?
কী বিনিয়োগ করবেন?
কোন প্রিভিলেজ ছেড়ে দেবেন?
শাড়ি, চুড়ি, ফুল, চকলেট, টিপের পাতা, স্তুতিবাক্য দিয়েন না। পারলে সম্পত্তিতে অন্তত সমান ভাগ দেন, ক্ষমতার ভাগ দেন, মেল ইগো ত্যাগ করেন, মেল প্রিভিলেজ ছেড়ে দেন। আর কিছু না পারলে নারীকে রেহাই দেন — তার ভালো চাওয়া, অযাচিত উপদেশ দেয়া, তার হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া বন্ধ করেন। ভারী উপকার হবে।



পাঠকের মন্তব্য