দেশের ছাত্র রাজনীতিতে সাম্প্রতিক গুপ্ত বিতর্কের রেশ এসে লেগেছে বাংলা সাহিত্যের সেই কালজয়ী ও রহস্যময় লেখক রসময় গুপ্তের গায়েও। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শিবিরকে গুপ্ত তকমা দিয়ে দেয়াল লিখন ও বক্তব্যের জেরে জনমনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তাতে বেশ বিব্রত বোধ করছেন এই সাহিত্যিক।
বিশ্বস্ত এক সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর এই গুপ্ত বা গোপন অভিসন্ধির লড়াইয়ে নিজের পবিত্র নামটি কলুষিত হতে দেখে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। রসময় গুপ্ত মনে করেন, রাজনীতিতে গুপ্ত হওয়া মানে যেখানে অন্ধকারের কারবার, সেখানে তার সাহিত্যে গুপ্ত হওয়া মানেই ছিল মধ্যবিত্তের বদ্ধ দুয়ারের পেছনে এক টুকরো নিষিদ্ধ আনন্দের উন্মুক্ত আকাশ। তাই রাজনীতির এই কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে নিজেকে বাঁচাতে এবং নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে তিনি অতি দ্রুত এফিডেভিটের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে রসময় উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তার সাহিত্যের রোমাঞ্চ সবসময়ই পাঠকদের কাছে ওপেন সিক্রেট ছিল, কিন্তু রাজনীতির এই নতুন গুপ্ত সংজ্ঞার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
রসময় গুপ্তের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজনীতির মারপ্যাঁচে গুপ্ত শব্দটি এখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নীলক্ষেত বা পল্টনের ফুটপাতে নিজের পুরনো ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরে রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। যদি কোনো কর্মী ভুল করে ছাত্রদলের দেওয়া গুপ্ত প্রতিরোধ এর ডাককে রসময় গুপ্তের কোনো নতুন সিরিজ মনে করে বসেন, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। এই ভয়েই তিনি নিজেকে রাজনীতির সকল প্রকার গোপন তৎপরতা থেকে আলাদা করতে চান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা রাজনীতিতে একে অপরকে গুপ্ত বলছেন, তারা যেন দয়া করে তার পাঠকদের মনে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করেন; কারণ তার জগত কেবল রসালো বিনোদনের, ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক রেষারেষির নয়। এখন থেকে রসময় উন্মুক্ত নামেই তিনি ফুটপাতে তার চিরচেনা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর।


