ধরেন আপনার সন্তানকে চৌদ্দবার করে বললেন, পশুপাখিকে কষ্ট দিস না, এর পরিণতি ভালো হবে না। কিন্তু সে নিয়মিত কুকুরদের মারে। একদিন কুত্তার দাবরানিতে উষ্টা খেয়ে সে প্যান্ট ছিড়ে ফেললো। আপনার কাছে কানতে কানতে এসে নালিশ করলো - কুকুরগুলো খুব খারাপ।
আপনি অবশ্যই তার ক্ষত পরিষ্কার করবেন, তার ব্যথার প্রতিকার করবেন, ছিড়া প্যান্ট ফেলে নতুন প্যান্ট দিবেন। কিন্তু আপনি কি বলবেন না - আগেই কইসিলাম এইসব না করতে। আজকে আমার কথা শুনলে এই ব্যাথাটা পাইতি না।
নাকি আপনি পলিটিকাল কারেক্টনেস চর্চা করতেন? কুকুরদের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফিং ডেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করতেন?
এবি জুবায়ের প্রকাশ্যে জনপরিসরে ফৌজদারি আইন ভাঙতে সবাইকে আহবান জানিয়েছে। বাল্য বিবাহকে নরমালাইজ় করেছে।
জুবায়ের মব করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিটিয়েছে।
জুবায়ের বলেছে, মাথার তালু থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত পিটাবো। বিসমিল্লাহ বইলা শুরু করবো, সাদাকাল্লাহুল আজিম বইলা শেষ করবো।
জামায়াতের জাহাঙ্গীরনগর শাখার নেতা প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে হামলা করার ডাক দিয়েছেন। রাতে ৫০-৬০ জন মানুষকে পুড়িয়ে নাই করে দেওয়ার চেষ্টা হলো। জামায়াত ও ইসলামি আন্দোলন কর্মীরা দেশের অন্যতম প্রধান দুটো মিডিয়া হাউজ় জ্বালিয়ে দিলো।
শিবিরের আম্মার একজন নিরপরাধ, আই রিপিট নিরপরাধ ছাত্রলীগ কর্মীকে নিজ হাতে গণপিটুনি দিয়ে নাই করে দিয়েছে। মাসুদ নামের সেই লীগ কর্মীর নামে কোন মামলা ছিল না। সে ঔষধ কিনতে ফার্মেসিতে গিয়ে আম্মারের কুনজরে পড়েছিল। তার ৩ ঘন্টা পর তার লাশ পাওয়া যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে লাশ বানিয়ে ফেলেছে ছাত্রদল আর এনসিপির লোকজন।
কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরের পীর সাহেবকে লাশ বানানোর সাথে জড়িত ছিল জামায়াত। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে৷
এই দেশে শেখ মুজিবের ভাষণ বাজানো অপরাধ না। কারও গায়ে হাত তোলা অপরাধ। ডাকসুর মোসাদ্দেকরা ইমিদের পিটিয়েছে।
মব করাকে নরমালাইজ় করেছে মোসাদ্দেক আর জুবায়েররা। এই দেশে আইন থাকলে জুবায়ের, মোসাদ্দেক, আম্মারদের মাইর খাওয়ার কথা না, তাদের বহু আগেই জেলে থাকার কথা।
তারা নিজেই যখন নিজেদের সৃষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির শিকার হয়, তখন কি আপনি এর মাঝে পোয়েটিক জাস্টিস দেখেন না?
যেহেতু, বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহারের সকল দায় অঘোষিতভাবে মধ্যপন্থীরা মাথায় নিয়া থুইছে এবং যেহেতু ডানপন্থীদের বিবেক বুদ্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামাজিক দায়মুক্তি আছে,
অতএব, আম্মার আর জুবায়েরদের প্রতি ঘটিত অন্যায়ের বিচার হইতেই হবে। এতে কোন সন্দেহ নাই। এই বিচার না হলে বিএনপি আর সরকার দায়বদ্ধ থাকবে, দীর্ঘমেয়াদে তারা এর মাশুল দিবে।
কিন্তু আম্মার, জুবায়ের, মোসাদ্দেকদের জন্য কোন সিম্প্যাথি নেই। আছে লানত। আছে তাদের প্রতি জাস্ট আইনী দায়বদ্ধতা।



পাঠকের মন্তব্য