ওয়াক আউট

৩০ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে

 

আম্মা টিভিতে তার প্রিয় সিরিয়াল দেখছেন। আমি সোফায় বসে উশখুশ করছি। আসলে আমার ডাক পড়েছে এখানে।

প্রতিটি মায়ের বাচ্চাকে ধরার জন্য কিছু নিয়ম থাকে। আমার আম্মারটা হলো তার প্রিয় সিরিয়াল দেখতে বসে আমাদের ডাকা। আজকেও ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে আব্বাও এসে পাশের সোফায় বসলেন।

আম্মার প্রিয় সিরিয়াল চলছে তখনও। নায়িকাকে তার শাশুড়ি আলাদা পাতিলে রান্না করতে বলেছে তার জন্য। এই নিয়ে নায়িকার মাথায় বাজ পড়েছে। একটু পর সিরিয়ালে বিরতি চলে এলো।

আম্মা টিভি মিউট করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,

তোর সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে?

আম্মার আসলে আম্মা না হয়ে গোয়েন্দা হওয়া উচিত ছিল! এত করে লুকালাম তাও জেনে গেছে! ভয়ে ভয়ে মাথা নাড়ালাম!

আম্মা গম্ভীর স্বরে বলল,

কবে দিয়েছে? আমি জানি না কেন?

: জানো তো! না হলে কি জিজ্ঞেস করতে?

আম্মা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলল,

তুই বলছিস?

আমি আরেকটু জোরে বললাম,

আমি বুঝিনি রেজাল্ট এরম হবে!

মানে কী?

:আমি ভাবছিলাম এই এক্সামে যা হবে দেখা যাবে। এখন যে রেজাল্ট হইছে তা যে দেখানোর মতো হবে না, তা ভাবিনি!

আম্মা রিমোট উঁচিয়ে বললেন,

এই বয়সেও তোরে আমার বাচ্চাকালের মতো দেখা লাগবে?

হঠাৎ আমি তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে আব্বার দিকে তাকিয়ে বললাম,

মাননীয় স্পিকার, আমি ওয়াক আউট করলাম। সরকারপক্ষের সাথে আমি একমত নই! আমার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে!

বলেই হতভম্ব আব্বাকে রেখে রুমের দিকে দৌড় দিলাম।

একটু পরে শুনি আম্মা চেঁচাচ্ছে,

তোমার আশকারা পেয়ে ছেলে এমন হইছে! এত বড় সাহস! তুমি কিচ্ছু বললে না! ওয়াক আউট কী?

আব্বা শুনলাম ক্ষীণ স্বরে বলতেছে,

আমিই তো মাননীয় স্পিকার হয়ে গেছি, ওয়াক আউট করব কি করে এখন?

৩০ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top