হরমুজে এক রোমাঞ্চকর এক্সপেরিয়েন্স

পঠিত ... ৩ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে

হরমুজে এক রোমাঞ্চকর এক্সপেরিয়েন্সের মুখোমুখি হয় ডুবে যাওয়া জাহাজটির ক্রুরা!

ইরান আর আমেরিকা উভয়ের ব্লকেড ফাঁকি দিয়ে অলমোস্ট হরমুজ প্রণালী পার হয়েই যাচ্ছিল জাহাজটি!

হঠাৎ জাহাজটির সম্মুখভাগে প্রথম টর্পেডোর আঘাতটি আসে ইরানের পক্ষ থেকে।

মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোমতে ভেসে পার হয়ে যাচ্ছিল জাহাজটি।

কিন্তু ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় আঘাতটি আসে আমেরিকার নেভি ফ্লিটের থেকে।

এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি জাহাজটির।

হরমুজ প্রণালীতে টুপ করে ডুবে যাওয়ার আগে আগে অবশ্য সব ক্রুরা লাইফবোটে করে জাহাজ থেকে নেমে কোনোমতে জীবন বাঁচায়।

তবে সেই ক্রুদের স্ট্রাগল পিরিয়ড তখন মাত্র শুরু!

লাইফবোটে সাধারণত তিন দিনের খাদ্য, পানি মজুদ থাকে, যা টেনেটুনে হয়তো ৫-৬ দিন চালানো যায়।

লাইফবোটের তেলও থাকে লিমিটেড। ৬ নট স্পিডে একটানা সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা চালানোর মতো তেল থাকে লাইফবোটে।

এছাড়াও মাছ ধরার ছোটখাটো কিছু সরঞ্জাম থাকে লাইফবোটে।

তা এই লিমিটেড রিসোর্স নিয়েও অবিশ্বাস্যভাবে ১৮ দিন সব জীবিত ক্রু নিয়ে কোনোমতে ভেসে ছিল লাইফবোটটি।

কোনোমতে বেঁচে থাকলেও ক্ষুধা আর পরিবার পরিজনের চিন্তায় মানসিকভাবে প্রচণ্ড ট্রমায় চলে যায় লাইফবোটের সকল ক্রু।

ইরান আর আমেরিকার উভয় ব্লকেড ভেঙে কোন উদ্ধারকারী জাহাজও এগিয়ে আসতে পারে নি।

তবে ১৮ দিন পর হঠাৎ উগান্ডার পতাকাবাহী এক দুর্ধর্ষ উদ্ধারকারী জাহাজ মৃতপ্রায় লাইফবোটটির দিকে এগিয়ে আসে।

তারা মূলত এক অবিশ্বাস্য ইঞ্জিনিয়ারিং করে উভয় ব্লকেডকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যায় লাইফবোটটির দিকে।

পুনরায় আশা দানা বাঁধে লাইফবোটের মৃতপ্রায় ক্রুদের মনে।

উদ্ধারকারী জাহাজটি কাছে আসতেই লাইফবোটের ক্রুরা সবাই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে জাহাজে ওঠার।

এইতো আর কয়দিন তারপরই দেখা মিলবে মুক্তির....

কিন্তু হঠাৎ সেই আশায় গুড়েবালি করে উদ্ধারকারী জাহাজ থেকে একটি ব্যাগ ছুঁড়ে দেওয়া হয় লাইফবোটের দিকে!

লাইফবোটের ক্রুরা ভয়ে ভয়ে সেই ব্যাগ খুলে দেখলো সেখানে আছে এক গাদা কার্ড!

উদ্ধারকারী জাহাজের ডেক থেকে শোনা যায় মাইকের এনাউন্সমেন্ট।

জাহাজটির চীফমেট সাউয়োরলো মাইকে লাইফবোটের ক্রুদের উদ্দেশ্যে বলছেন,

আমরা তোমাদেরকে এই জাহাজে উঠাই নিতে আসি নাই।

তবে এই ব্যাগের ভেতরে থাকা কার্ডগুলো তোমাদের নতুন করে জীবন দিবে।

যেমন এখানে আছে ফ্যামিলি কার্ড যেটা তোমাদের ফ্যামিলির অভাব পূরণ করবে।

আরো আছে ফুয়েল কার্ড যা তোমাদের লাইফবোটের তেলের অভাবও পূরণ করবে।

এছাড়াও আছে জাইল্ল্যা কার্ড যেটা দিয়ে তোমরা মাছ ধরে ক্ষুধা নিবারণ করতে পারবে।

লাইফবোটের ক্যাপ্টেনের জন্য আছে স্পেশাল ক্যাপ্টেন্স কার্ড।

এছাড়াও আরো আছে হেলথ কার্ড, এলপিজি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড সহ অনেক টাইপের কার্ড

এনাউন্সমেন্ট শেষে উদ্ধারকারী জাহাজটি নাক ঘুরিয়ে সোজা চলে যেতে থাকে।

হতভম্ব হয়ে থাকা লাইফবোটের ক্রুরা বোটের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে হালকা দেখতে পেলো চলে যেতে থাকা উগান্ডার উদ্ধারকারী জাহাজটির ক্যাপ্টেন টারকোজিয়া ব্রিজ উইং-এ দাঁড়িয়ে মিটমিট করে হাসছেন আর আলতো করে রেলিংয়ে হাত দিয়ে চাপড়ে দিচ্ছেন!

পঠিত ... ৩ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top